Thursday, 28 July 2016

কৃষ্ণচুড়া

ট্রেনের সিটে বসে আছে তিয়া চোখ খোলা তবু
সামনের সবকিছু আবছা, কোন ভাবনার হাওয়াই
এই মুহুর্তে ছুঁতে পারছে না চোখ বা মন কে,
কোথায় যেন হারিয়ে রয়েছে যেমন আজ
কোনো এক আজানা দেশের দিকে নিজে
এগোচ্ছে, কোনো অনুভুতি স্পর্শ করছে না তিয়াকে
না কোন মুখ, এই মুহুর্তে শুন্য অবস্থানে রেখেছে
নিজেকে, অনেক দিন চেষ্টা করেছে নিজেকে
এই অবস্থানে দেখতে, পারে নি কেবল সামাজিক
ভয় গুলোকে জয় করতে পারেনি বলে।
জীবনের কাছে কোন নালিশের আর্জি রাখেনি
তিয়া জানে যা পেয়েছে আজ অবধি এই সমাজ
বা সামাজিক সম্পর্ক গুলোর কাছে সেটা একদম
ঠিকঠাক,, বরং ও নিজেই ততটা সামাজিক হয়ে
মানান সই হতে পারেনি, তাই অবাধ্যতার তখমা
পেয়েছে অনেকের কাছে,  সব কিছু ঠিক রেখে
নিজের ভালোথাকা টুকু যত বার ছুঁতে যায়
ততবারই কোননা কোন নিষেধের পাথরে হোঁচট খেয়ে
পড়ে, মেয়ে হয়ে জন্মে যত না গর্ব ছিল এক দিন,
আরুন জীবনে আসার পরে সেই গর্ব অভিশাপ
মনে হয়েছে,
তিয়ার সাথে অরুনের আলাপের কিছু পরে ওদের
সম্পর্ক যখন প্রেমে পরিণত হল, অরুনের
ছোট ছোট বাঁধা গুলোকে ভাবত ভালোবাসার
পজেসিভনেস, মনে কষ্ট পেত তবে নিজেই
নিজেকে বোঝাতো যে এটাই হয়তো ভালবাসা,
চেনা জগত আস্তে আস্তে তিয়ার কাছে অচেনা
হতে লাগলো অরুনে বিয়ে করে, সম্পর্কের
জটিলতা বুঝতে পারত না সব হিসেবগুলো
চোখের সামনে এক আর আড়ালে অন্যরকম,
শুরু হলো মানিয়ে নেওয়া,  না ঠিক তা নয় আরো
বেশি ভালোবেসে একটু আশ্রয়ে বাঁচার চেষ্টা,
নিজের সাথে নিজের দন্দ্ব ভালোলাগা ভালোথাকা
গুলোর মুখ বেঁধে অন্ধকার ঘরে বন্দি,,
না তবুও অরুন, মা, দেওর, ননদ কারো কাছে
নিজেকে খুঁজে পাচ্ছে না, তিয়ার সব চেয়ে বড়
দোষ ওর ভেতরে সব ব্যেপারে বড্ড বেশি ফিলিংস,
আর তার দাম এই সমাজ দেয় না, এটা তিয়া বোঝেনি,
অরুন অন্তত বুঝবে এই অপেক্ষা অনেক দিন
মনের আনাচেকানাচে ছিল কিন্তু সে তো তিয়ার
যা  কিছু ভাবনার নেগেটিভ দিক বার করাতেই
ব্যেস্ত থাকে, তিয়ার লেখালিখির অভ্যাস ছোট
থেকেই ছিল আরুন এসবের কিছু বুঝত না
কিছু বলতো না তবে ও যে পছন্দ করত না
সেটা তিয়া বোঝেনি প্রথম দিকে আরুন , ঘর
সংসার এসব কে সময় দিতে গিয়ে তিয়া লেখা
লিখি বা ওর অন্য পছন্দ বই পড়া, আরো কিছু
সুন্দর মুহুর্ত ছুঁয়ে চলা এসব সরিয়ে রেখেছিল,
কিন্তু ভেতর থেকে শুন্যস্থান অরুন কখন পুরোন
করার জন্যে এগিয়ে আসেনি তাই তিয়ার অনুভুতি
অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ছিল,
সব ঠিক চলছিল এভাবেই, সে দিন ঝিলামের
একটা লেখা কবিতার প্রশংসা করতে গিয়ে
তিয়া নিজে বেস কয়েক লাইন লিখে ঝিলামকে
উপহার দিতেই ঝিলাম অবাক..... তিয়া তুমি
লিখতে পার! তাও এতো গভির আমি ভাবতে
অবাক হচ্ছি আর তুমি এভাবে নিজেকে বন্ধ
রেখেছো অন্ধকারে, তিয়া হেসেছিলো সেদিন
কিন্তু ঝিলাম থামেনি ও তিয়ার ভেতরে জিয়নকাঠি
না ছুঁইয়ে সস্ত্বি পাচ্ছিল না আর এখান থেকেই
তিয়া আবার ঘুম ভেঙে উঠলো নিজেকে খুঁজতে,
এর পর অরুনের ভুল বোঝা বেড়ে গেল,
সব কিছু গুছিয়ে সংসারে সবারটুকু করে
নিজের ভালো থাকার জন্যে একটু ফাঁকা
জায়গা কেউ দেয়নি তিয়াকে, নিজের এই
না পাওয়া নিয়ে কোন অভিযোগ কোনো দিন
ছিল না আর আজো নেই শুধু তিয়া কাউকে
ঠিক বুঝতে পারলো না তার চাওয়া টুকুতে
বাড়ির সকলের অসুবিধে কোথায় সেটা না
বোঝাই থেকে গেল তারপর অরুনের
উদাসিনতা তিয়ার দম বন্ধ হচ্ছিল , যে কোন
ব্যেপারে কথায় কথায় অরুনের রাগ আর
সেই রাগ প্রতিবার তিয়াই ভাঙাবে.....
এভাবে আর পারছে না তিয়া,
রোজ ভাবে হারিয়ে যাওয়া  গেলে কেমন হয়
যদিও তাতেও সামাজিক আস্ফালন এর ভয়
তবুও রোজ এই একটা কথা তিয়াকে হাত
ধোরে টানে।
তিয়া আজ এতো কিছু ভাবছে না কোথায়
যাবে সেটা নিয়েও কোন ভাবনা নেই শুধু
জীবনটাকে ত্যেগ করতে পারবে না ইচ্ছে
মতো, শহরের দোড়গোড়ায় যখন ভোর
সবে মাত্র এসে দাঁড়িয়েছে তিয়া চোখ আরুনের
ঘুমন্ত মুখের দিকে পড়লো,  মনে হলো না তিয়ার
থাকা না থাকায় অরুনের কিছু যায় বা আসে,
হ্যা কিছু সংসারের কাজের অসুবিধা হয়তো হবে,
সেটা কি আজকের দিনে বড়ো সমস্যা?
তিয়া মনে মনে হাসলো আর এখানে তিয়ার
প্রয়োজন  নেই বড্ড বেকার,
সিলিং ব্যেগ আর সামান্য কিছু টাকা আর দু
একটা জামা কাপড় সাথে  নিয়ে তিয়া
চেনা জগত থেকে হারিয়ে যাবার  জন্যে
বাড়ির চৌকাঠ পেরোলো।
ট্রেনের গতির সাথে তিয়া নিজেকে চেনা
জগতের কাছ থেকে হারিয়ে ফেলতে পারবে
কি না জানে না নিজের নামটাও ভুলে যেতে
ইচ্ছা করে তিয়ার,
আজ এক মুক্ত আকাশ তিয়ার সংগি কোন অনুভুতি
কোন স্পর্শ  কোন মুখ তিয়ার মনে পড়ছে না।

Tuesday, 12 January 2016

অসময়ে বেলা শেষ


শর্মির আজ কাল মুহুর্তে মুহুর্তে মনটা খারাপ হয়ে যায়
প্রায়ই ভাবছে  সাইক্রাইটিস এর কাছে একবার
যাবে  ও যেন  নিজেকেই বুঝে উঠতে পারে না, কিছুতেই
সংসারে মন মানে না, আজ কয়েক বছর ধরে না ঠিক
কয়েক বছর নয়  পনের বছর ধরেই আনিন্দ সব কিছুর
দোষ এর ভার শর্মি কেই চাপিয়ে শান্তি পায় মুখে বলে
আমার আসলে তোমার ওপর অনেক ভরসা তাই সব
সময় তোমার ভুল আমার ভালোলাগে না, কি যেন একটা
শব্দ ব্যবহার করে' এক্সপেকটেশন 'শর্মি  অনেক চেষ্টা
করেছে আর করছেও আর শুধু অনিন্দ কেন বিয়ের
দিন থেকে আজ পনের বছর অবধি বাড়ির সকলে শশুর
শাশুড়ি ননদ দেওর ভাগ্নে ভাগ্নি সকলে যাতে ওকে একটু
আপন ভাবে একটু সত্যিকারের ভালোবাসে, ভেবেছিল
সংসারে শাকের ওপর বোঝার আটি চাপালে খানিকটা
ওরা ভালবাসবে, তাই নিজের একটা ছোটো ব্যবসা শুরু
করলো অনিন্দ কে না জানিয়েই সংসারের অনেক চাহিদা
মেটাতে শুরু করলো তার সাথে একটা ছোট্ট স্বপ্ন বুকে দানা
বাধত,, তুনির শর্মি আর অনিন্দর ছেলে ওকে মনেরমতো করে
মানুষ করবে তাই একেবারে ছোটো বেলা থেকেই পড়াশোনা
অন্য নানান সমসাময়িক এক্টিবিটি শেখাতে শুরু করলো, কিন্তু
ছেলের মধ্যে সেভাবে কোনো কিছুতেই আগ্রহ দেখা যায়নি
অনিন্দর বিরুদ্ধে গিয়ে অনেক কিছু শেখানোর চেষ্টা  করেছে,
সবটাই জোর করে ছেলেকে গেলাতে হয়েছে গান বাজনা
আঁকা স্মার্ট ক্লাস খেলাধুলো সেভাবে ছেলের আগ্রহ কোনো
দিকে ঝোঁকে নি এমন কি পোড়াশোনাও মোটামুটি  করে, কিছুতেই
একটা ভাল রেজাল্ট শর্মি ওর ছেলেকে করাতে পারেনি এর জন্যে
অনিন্দ্র কাছে মাঝে মধ্যে কথাও শুনতে হয়েছে আর এখনো
হয়  আর বাড়ির কারো মন জয়তো করতেই পারেনি যত বারই
নিজেকে উজাড় করে সবার জন্যে কিছু না কিছু করলাম
তত বারই সেটা তাসেরঘর হয়ে ঝড়ে মুখ থুবড়ে শূন্যের
দোরগোড়ায় এসে দাঁড়ায়, আজ কাল অনিন্দ তো কথায়
কথায় রেগে যায়  ঝগড়া শুরু করে দেয় আঙুল তুলে
মাঝেমধ্যেই নানান কথাশোনায় এমনকি শর্মির ব্যবসা
কাজের নানান ফোনকল নিয়ে সোজাসুজি কোনো
ইংগিত না করলেও শর্মি বোঝে যে অনিন্দ তাকে
সন্দেহও করে কনো সোশাল মিডিয়ার সাথে আজকাল
কোনো সম্পর্ক রাখে না, সব কিছু থেকে কিছুই যেন
এপৃথিবির এ সংসারে নিজের নয়,জীবনটা নিজের
ইচ্ছায় একদিন চলাতে পারেনি কখনো, অথচ অনিন্দ
প্রায়শই শোনায় যে সে তো কখনো বেধে রাখেনি শর্মিকে
অথচ ওর সব ব্যপারে অনিন্দর নেগেটিভ চিন্তার প্রকাশ
আগে পায়, তাই আজ কাল কিছু বলতে কোনো ডিসকাস
করতে ভয় পায় শর্মি, এদিকে ছেলের জন্যেও
আর কোনো আকাঙ্ক্ষা ভেতরে জাগে না , কিচ্ছু
যেন আর করার নেই এই সংসারের,সব করে
সে সুগৃহিনি ভাল মা ভাল বৌ ভাল বৌমা.....
আরো কিছুই উপার্জন করতে পারেনি, এখন
যেন নিজের দেওয়ার ঝুলিতে আর কিছু হাতড়ে
পাচ্ছে না, সব সময় কান্না পায়, নিজেকে খুব
ছোট লাগে নিজের ব্যবসা ধিরে ধিরে সে অনেক
এগিয়েছে, কোনো সাপোর্ট করেনি কেউ অনিন্দ
কে শর্মি বুঝতে পারেনা কোখনো বাধা দেয়নি
অথচ সব সময় কেমন যেন একটা অখুশি ভাব,
জিগ্যেস করলে বলে আমি তো তোমায় কোনো
কাজ করতে বাধা দিইনি,আগে শর্মিও এভাবেই
সংসার ব্যবসা  সব কিছুতেই এগিয়েছে, কিন্তু
আজকাল সহ্য করতে করতে কোথায় যেন
নিজেকে হারিয়ে ফেলছে, কেবলি মনে ভাবে
একদিন নির্বাসনে চলে যাবে, কেবল ছেলেটার
সুতো মনকে বেধে রেখেছে ভাবে আর কয়েকটা
বছর পার করে দিলে ছেলেটার পোড়াশোনাটা শেষ হলে
মায়ের দায়িত্ব হয়তো কিছুটা করা হবে, জনে না শর্মি আদৌ
কি করবে সে, রোজ সকাল হয় একরাশ মনখারাপ নিয়ে,
বড্ড দুমড়ে মুচড়ে থাকে দিন রাতগুলো, রোজ ভাবে এভাবে তো
এতগুলো বছর কাটলো এখন যে কেন এত মন ক্লান্ত কিছুতেই খুঁজে
পায় না, তাই মাঝেমাঝে ভাবছে ভেতরে কোনো  মন খারাপের অসুখ
দানা বাধছে না তো.... তবে কি একবার নির্বাসনে যাবার আগে এক
বার সাইক্রাইটিস এর কাছেই যাবে শর্মি,
এবছর দুর্গাপূজার সময় অনিন্দ তো অদ্ভুত  ব্যবহার  করল শর্মির ব্যবসার কাজে নানান ফোন আসে সব ফোন ধরতেও চায় না বিভিন্ন রকম  কম্পানি তাদের প্রডাক্ট এর সম্ভার নিয়ে প্রায়শই জ্বালাতন করে আর শর্মি কাজ করতে করতে সে গুলো বুঝে গেছে তাই কলগুলো ইগনোর করে, কখনো  এই কাজের জন্য কার সাথে আলাপ বাড়াতে হয় আর এগুলো অনিন্দ সন্দেহজনক দৃষ্টি তে দেখে বলে না কিছু মুখ ভার করে থাকে পরে অন্য কোনো কারণেঅকারণে অযথা আঙুল তুলে কথা বলে আর  সেটাই করলো মহা অষ্টমীর দিন কি যেন  প্রমান খুঁজে পেতে চাইছিল আর শর্মি নিজে নিজের মধ্যে অস্তিত্ব গুঁড়িয়ে ফেলছিল,
তুনির এর মুখের দিকে তাকিয়ে খোলাখুলি প্রতিবাদ করতে পারে না ভাবে ছেলের ওপর কি প্রভাব পড়বে, অনেক বার এরকম অনেক ব্যবসা বা বাড়ি র অনেক ব্যাপারে   শর্মিকে কাঠগড়ায় দাড় করিয়েছে,
অথচ এ সংসারে জুতো সেলাই থেকে চন্ডিপাঠ সবটাই শর্মি ছাড়া কেউ করার নেই, সব সময় একশ শতাংশ  দিতে চেষ্টা  করে এসেছে কারো কোনো সুবিধা অসুবিধা শর্মি সেখানে ইচ্ছাবা অনিচ্ছাসত্ত্বে ও উপস্থিত
আর ডিউটি করেই চলে, অথচ প্রাপ্তির ঝুলিতে রোজ চোখের জল আর এক রাশ
হাহাকার জমে, সতের বছর আগে যখন অনিন্দর সাথে আলাপ হয়েছিল আর ধিরে ধিরে সম্পর্ক যত  এগিয়ে সে বুঝেছিল যে অনিন্দ আর যাই  হোক সংকুচিত মনের,  ছোট ছোট ব্যপারে যেমন কোথাও গেলে, কোনো বন্ধুদের সাথে গল্প করলে যারা ছোট বেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছে এমন কি তাদেরও সাথে মিশতে দেখলে রাগারাগি করতো অভিমান করতো শর্মি ভাবতো তখন ভালবাসার জন্যে জেলাসি ফিল করছে হয়তো সময়ের সাথে এগুলো বদলে যাবে শর্মিকে চিনিবে ওর ভেতোরটা চিনবে বিশ্বাস করবে আত্মাটাকে ছোঁবে, এভাবেই এগিয়েছিল,বিয়ের ঠিক আগে শর্মি একবার কি একটা কাজে কলকাতা গেছিল ফিরতে দেরী  হওয়ার জন্যে অনিন্দ খুব অশান্তি করেছিল শর্মি তখন বুঝেছিল যে হয়তো অনিন্দ কোনোদিন বদলাবে না তাও ভিষন ভালবাসত, আর আত্মিয় আসপাশের সবাই জেনে গেছিল
যে শর্মি আর অনিন্দর বিয়ের ঠিক হয়ে গেছে তাই আর পেছনে ফিরে যেতে পারেনি শর্মি, তারপর এতোগুলো বছর সুখ ভালবাসাকে ছাপিয়ে শর্মিকে আবৃত করেছে একরাশ হতাশা কিছুতেই যেন অনিন্দকে বদলাতে পারেনি কখনো কখনো মনে হয়েছে হয়তো বদলেছে, কিন্তু
পরক্ষনেই ভুল ভেঙে গেছে, আর শর্মি যে কাজেই হাত দেয় সেখানে একটু খাটলেই সাফল্য পথে এগিয়ে যায়  তখনি অনিন্দর নানা বিরুদ্ধ মতামত শুরুকরে, শর্মি চাইত অনিন্দই ওর পাশে থেকে এগিয়ে যেতে প্রথম উৎসাহটা দিক, কিন্তু সেটাতো হয়নি বরং এখন কোনো সাফল্যের কথা জানাতে ভয় পায়, অনেক বার সব কাজ ব্যবসা বন্ধ করে দেবে বলেছে তখনো অনিন্দ মেনে নিতে পারেনি ভেবেছে শর্মি আবার মনে হয় হেরে গিয়ে জিতে যাচ্ছে, সেটাতেও নানা অশান্তি করেছে তাই শর্মি বুঝে উঠতে পারেনি এই বাড়ির সকলে আর অনিন্দ আসলে ঠিক ওর কাছে চায় কি,  চুপ থাকে ভিষন চুপ,নিজের সাথে
নিজেও কথা বলতে ভুলে যাচ্ছে, একদিন সাহস করে দুচার কথা উত্তর দিয়েছিল,  ভেবেছিল বাড়ি ছেড়ে চলেও যাবে ঠিকও করে  ফেলেছিল,  কিন্তু কোথাও যেন স্বার্থপর হতে বিবেকে বেধেছিল মনে হয়েছিল এতদিনের নিজের হাতে একটু একটু করে তৈরি  সংসারটা ভেসে যাবে আর তুনির........ তুনিরকে সমাজে না জানি কত প্রশ্নর মুখোমুখি হতে হবে,এতো সব সাতপাঁচ ভেবেছিল রাতভোর আর আটকে রেখেছিল সংসারের তীরে, সেদিন অনিন্দ আর তুনির সামান্য চুপ ছিল দু একদিন ভিষন ভাল ব্যবহার করেছিল অনেক আদোর করছিল, কিন্তু সেটাও ক্ষণস্থায়ী,যেখানের  জল সেখানেই দাঁড়িয়েছিল,আর শর্মি ভুল প্রমান হয়েছে এভাবে অনিন্দ বাড়ির আর অন্য সকলের কাছে একি প্রাপ্তিযোগ হয়েছে বার বার, এবার তাই শর্মি ভেবেছে সংসার থেকে সরে যাবে, আর বেশি কিছু ভাবতে পারে না শর্মি মাথার ভেতরটা অসহ্য যন্ত্রণা করছে চোখে অন্ধকার দেখছে, মুক্তি খুঁজছে শর্মি, একটা আকাশ চাই উড়ার জন্যে কিংবা একটা নিশ্চিন্ত মৃতু দরকার,
আজ বাড়ী টার নির্জনতা যেন অমোঘ প্রেমে শর্মিকে বুকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে,বাড়ীর সবাই এক আত্মিয়র বাড়ী গেছে একটা অন্ন্যপ্রাশন অনুষ্ঠানে শর্মির ভীষণ পেটে ব্যথা  আর বমি হয়েছে আগের দিন রাতে তাই ও আর গেল না, তার জন্যেও শুনতে হল অনেক কথা বাড়ীর সকলের কাছে, তবুও আজ একটু একা নিজের সাথে থাকতে পেরে সারা দিন বিছানায় বালিস আঁকড়ে পড়ে থাকলো আর বালিসে একটা গোটা বিষণ্ণতার নদী কে লুকিয়ে ফেললো সারা দিন একটার পর একটা ঘটনা মনে পড়ছে আর অপমানে যন্ত্রণায় নিজের সত্ত্বা কে গুড়ো করে অশ্রুনদিতে ভাসিয়েই চলেছে, বিশেষ করে পুজোর সময় সামান্য কারনে কি না করলো কি না বলল, আজ এই সুযোগ নিজের জীবনে দাড়ি টানা যাক এটাই হয়তো মুক্তি, ওষুধ এর বাক্সটা নিয়ে তন্নতন্ন করে খুঁজে যাচ্ছে ঘুমের ওষুধ এর প্যাকেট টা কোথায় যে  গেল ওহ এইতো দশটা ওষুধ একসাথে নিয়ে জল নিতে গিয়ে টেবিলের পাশে শর্মির বাবা মা আর তুনিরের ছবিটায় চোখ গেল দশ বছর আগের ছোবিটা যেন কেঁদে আকুতি জানাচ্ছে যে এভাবে যাসনা শর্মি আমাদের কথা কি ভুলে গেলি শর্মি হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলে হাত থেকে ঘুমের ওষুধ গুলো ছড়িয়ে যায়  ডাইনিং প্লেসে, দম বন্ধ জীবনে কিছুতেই মুক্তির আলো পাচ্ছেনা,
এক দিশাহারা অন্তহীন পথের যাত্রি মনে হচ্ছে শর্মির কোথায় এর শেষ, জানা নেই,,