Monday, 7 December 2020

ষষ্ঠ চিঠির

প্রিয়তোষ ,

 জানি না আজ কাল কেমন থাক , কেমন করে সকল থেকে রাত তোমার ধারাবাহিক হয় , বহু দিন পর তোমায় কিছু লিখতে বসলাম , তোমার ভালো থাকা বা মন্দ থাকা জানার জন্য এ চিঠি নয় , এ চিঠি আমার ভালো মন্দ তোমায় জানাই এমনটাও নয় ,
  কিছু জরুরি সংবাদ তোমায় দেবার ছিল ..
অবশ্য তুমি কখনওই এ তরফের একটিও চিঠির হয়তো ভাঁজ খুলেই দেখোনি , তবু বলি  তোমার প্রিয় মানুষের মধ্যে দু একজন তোমায় আমায় বা আমাদের সকলকে ছেড়ে গেছে , যেমন আমাদের স্কুলের সবার প্রিয় টিচার সুশীল স্যার , তোমায় আগেও চিঠি দিয়ে জানিয়ে ছিলাম উনার ভালো না থাকার কথা সাথে এও বলেছিলাম সময় করে খবর নিও একবার হয়তো এই খুবরটুকুও তুমি চিঠি খুলে জানোনি , তাছাড়া আমাদের ঐকান্তিক হওয়ার একমাত্র সূত্র জয় দা গত দু দিন আগে সুইসাইড  করেন ,  বেশ কিছুদিন উনি মনোরোগের শিকার হয়েছিলেন তারপর দুদিন আগে .......
 জানি না এই খবরটা শুনলে তোমার কেমন বোধ হবে   তো তোমার অনুভূতির বদল  অনকেখানি  হয়েছে বুঝি , আমাদের ঐকান্তিক  মুহূর্ত  যা কিছু ইতিহাস এখন ।, 
তোমার বর্তমান এখন অন্য কেউ  তাই অনেক চলে যাওয়া আর তোমায় স্পর্শ করতে নাও পারে ,, যাক সে তোমার ব্যাপার তুমি কাকে কোথায় রাখবে কার জায়গা বদলে দেবে সে তোমার ব্যাপার , 
প্রিয়তোষ আর একটা কিথ তোমায় বলা হয়নি বলবো বলবো করে আমি সময় করে উঠতে পারিনি , হয়তো তোমাদের বাড়ির কারো থেকে শুনেও থাকবে , আমি আগামী মাসের প্রথম।দিকে প্যারিস যাচ্ছি  ফাইন আর্টের ওয়ার্ল্ড সেমিনারে আমার দেশ কে প্রেজেন্ট করতে , তার পর লন্ডন , 
তোমায় এযাবৎ কাল সকলটুকু জানিয়ে এসেছি কারণ এখন আর বলা উচিত নয় আমি তোমার কাছে আপাতত বাড়তি হতে ব্রাত্য , তবু এখনো সব অভ্যাস বদলে ফেলতে পারিনি .....
ভালো থাকার শুভেচ্ছা  রইলো সমস্ত অক্ষরে শব্দেরর স্পর্শে ,
....................ইতি তোমার বাসন্তিকা

পঞ্চম চিঠি

প্রিয় প্রিয়তোষ ,
আশা করি ভালোই আছ , এযাবৎ তোমাকে  আমার সমস্ত খবরাখবর দিয়ে এসেছি , না তুমি বাধ্য করোনি আমি আমার প্রতিশ্রুতির কাছে অঙ্গীকার আর সেখানে তোমার কোন দায় নেই আমি জানি , আসলে তোমাকে আমার থেকে আলাদা সময়ের তালে তালে রেখে তুমি করলেও আমার পক্ষে সম্ভব নয় , 
আচ্ছা যে কথাটা বলার জন্য তোমায় এই চিঠি লিখতে বসেছি , এই  মফস্বল ছেড়ে শেষ মেষ বাইরে পা রাখার সাহস করে উঠেছি , আগামী মাসে কলকাতা যাচ্ছি মাস্টার্স করতে , প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় ফলাফল ঘোষণা হয়েছে ,খানিকটা অবাক করে ভাগ্য আমার বরাতে এমন ভালো কিছু রেখেছে বোধহয় , 
প্রিয়তোষ এই খবরে এখন  তোমার প্রতিক্রিয়া আমার সম্পূর্ণ অজানা , তবে আমি যে প্রিয়তোষ কে চিনি সে এই খবর শুনে আমার থেকে দশ গুন বেশি আনন্দে আত্মহারা হয়ে আমাকে জড়িয়ে পাগলের মত নাচত , বলতো এমনটাই হবার ছিল ।
আজ আবার বুকের ভেতরটা চিন চিন করছে জানো,  তোমার গলার স্বর শুনতে ইচ্চা করছে ....
তোমার দেখতে তোমায় স্পর্শ করতে ইচ্ছা হচ্ছে ।
তুমি যদিও এ চিঠি পড় মনে মনে বিরিক্ত হবে আর ভাববে এই এক বিরিক্ত কর মেয়ে এক মুহূর্ত আমায় ছাড়া চলতে পারে না ভাবতে পারে না ....কি প্রিয়তোষ ঠিক বলছি তো?   আসলে কি
জান আমার পৃথিবীতে একমাত্র তুমি যাকে আবর্তন করে আমি সম্পূর্ণ হই ...আর .....আর এমনটাই যে আমরা দুজন দুজনকে কথা দিয়েছিলাম , কথা দিয়েছিলাম কাঁচ অথবা জলের 
মত স্বচ্ছ আমরা দুজনের কাছে থাকবো ..........
আমি তো সাবলীল প্রিয়তোষ , তুমি পারছো না কেন , কেন আমাকে আড়াল করে তোমার আলাদা জগৎ গেঁথে নিচ্ছ পথের মালায় ?কেন আমাকে ক্রমাগত ব্রাত্য করে রেখে দিচ্ছ পুরোনো জীর্ণর মত , আমি যে তোমার মত আধুনিক সজ্জায় সজ্জিত নয় জানি , তবে বেমানান ছিলাম সেটা বুঝিনি , ,
ও দেশে হাজার হাজার সুন্দরী প্রতিভাবান আধুনিক মেয়েদের সাথে আমার যে তুলনায় রাখা যায় না সেটা তুমি এর মধ্যেই বুঝিয়ে দিয়েছো ,
রবি ঠাকুরের ভাষায় বলতে ইচ্ছে হচ্ছে "হিরে 
বসানো সোনার ফুল কি সত্যি ! তবু কি সত্যি নয় "
আসলে জানো প্রিয়তোষ আমি বেশি কিছু পারি না হয়তো , তবে যেটা পারি ভীষণ রকম নিষ্ঠার সাথে
পারি , ..,যেমন তোমাকে ভালোবাসতে আমার কখনো কোন তুলনা লাগে না ....আমার কাছে তুমি মনে তুমিই সম্পূর্ণ , নিখাদ তুমি ,   হাহাহাহা জানি এবার তোমার বিরিক্ত চরমে পৌঁছানোর পালা ,
আমিও আর তোমায় বিরক্ত করবো না ,শুধু কলকাতা যাবার কথাটা না জানিয়ে নিজে স্বস্তি পাচ্ছিলাম না যে ,, আজ তবে আসি , কোন একদিন দু এক কলম আমার উদ্দেশ্যে লিখবে এই আশা নিয়েই এই চিঠি শেষ করলাম ...বরাবরের মত ভালো থেকো ভালোবাসায় .....
                                    ইতি তোমার বাসন্তিকা ,

চতুর্থ চিঠি

প্রিয়  প্রিয়তোষ,

ভাল আছো নিশ্চয়ই ,  আজ যে কারণে খাতায় কলমে ফের  তোমার সামনে  , আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন   গত ছ বছর আষাঢ়ের এই প্রথম দিনে তুমি আমার জন্য একটা করে কবিতা লিখে সেটা চিঠির মত করে আমায় উপহার দিতে , আর

সে চিঠির নাম দিতে “আষাঢ়ষ্য প্রথম  দিবসে তোমাকে” আমি মুগ্ধ হতাম খুশিতে প্রায় নেচেই উঠতাম সে উপহার পেয়ে  ,সে চিঠি কবিতার প্রতিটা লাইন আমি যে কতবার পড়তাম সারা বছর ,আমার সে সব  প্রতিটা চিঠির প্রতিটা শব্দ মুখস্থ হয়ে যেতকিছুদিনের মধ্যেই  আর তারপর অপেক্ষা করতাম আবার পরেরআষাঢ়ের প্রথম  দিনের , কারন এই দিনে তোমার কলমে একটা লেখা একান্ত আমার  পাঠকের ভূমিকায় কেবল আমি , আমার যে কি ভালো লাগতো এমন একান্তে তোমায় এবং তোমার লেখাকে এক সাথে পেতে ,লোভি হয়ে গেছিলাম  আমি , এ লোভ অবশ্যই তোমার সৃষ্ট , আর আজ সেই তুমি তোমার বাসন্তিকাকে ভুলে সে লোভকে চাপা  দিয়ে দিয়েছো মাইলের পর মাইল ফলকে , আজো আমাদের সপ্তম আষাঢ় এর প্রথম দিন কথা মত আমার নতুন উপহার তোমার কবিতা আজ আমার হাতে তুমি দিতে , অথচ আজ তোমার বাসন্তিকা পুরোনো উপহারে বন্দি  ।বরং উল্টটাই আজ আমি তোমায় এই স্মৃতিচারণ চিঠিতে উপহার দিই ,

তোমার কলমের নিবে আজ জানি না নতুন কোন বান্ধব রঙ কিনা  জানি আজ আজ ‘আষাড়ষ্য প্রথম দিবস তোমাকে ‘ তুমি কার জোন্য লিখবে কিনা , যদিও লেখ সে লেখা আমার বরাদ্দ্যে জুটবে না সে ও জানি ,গত মাসে তোমার লেখা প্রবন্ধ প্রকাশের  খবরটা জানতে পারি প্রথম সংবাদ প্ত্রের মাধ্যমে তারপরতোমার বাবার সাথে রাস্তায় দেখা হওয়ায় উনিও আমায়  সু সংবাদটা দেন ,  প্রিয়তোষ তোমার মনে আছে আগে তোমার ছোট বড়  যে কোন লেখা যে কোন পত্রিকাতে যখনই প্রকাশিত হত তুমি নিজে এসে আমায় জানাতে আর তোমার মুখে এক   অপূর্ব  আনন্দের আভা  ছড়িয়ে পড়ত আমি বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতাম আর মনে মনে তৃপ্ত  হতাম , প্রিয়তোষ  এখন তুমি এই আনন্দ কেমন করে ভাগ কর , আমি তোমাকে যে টূকূ  চিনি তাতে করে এরকম লেখা  বা প্রবন্ধ প্রকাশের আনন্দ তুমি নিজের মধ্যে কোন ভাবেই লিকিয়ে রাখতে পারবে না ,

হয়তো আমাড় জায়গায় এখন অন্য কেউ………. তেমনি হয়তো বা কেউ আজ এই আষাঢ়ের প্রথম দিনে তোমার কলম কারো অঙ্গীকারে ,  প্রিয়তোষ  জানি না আজ বাইরে বৃষ্টি হবে কিনা তবে আমার ভেতোর মহলে আজ প্রবল বর্ষণ আর খড়কুটোর মত তোমার উপহারের চিঠি আগলে আমি ভাসছি , আমার ঘরকন্নায় নোনা জল , তোমায় এ যন্ত্রণা চিঠিতে বোঝাই আমার কলমের সে বাহুল্যতা যে কোন কালেই হবে না  সে তুমি জানোই , ঠিক এই মুহূর্তে প্রিয়তোষ তুমি একবার আমায় যদি দেখতে  হলফ করে বলতে পারি তুমিও এই বর্ষণে না ভিজে পারতে না , যাক সে সব কথা যা হওয়ার নয় তা নিয়ে ভেবে লাভ কি বল  প্রিয়তোষ  ্‌ আসলে তুমি যে কাজ সহজে পার আমাই পারি না   তুমি তোমার ব্যাস্ততার আড়ালে কত সহজে ভালবাসা কে তাচ্ছিল্য করে বেঁচে আছ  খুশি হয়ে , নাম ডাক প্রতিপত্তি আড়ালে কবর দিয়ে নতুন করে সাজিয়ে নিয়েছ ,যেন এমন্ টাই  স্বাভাবিক , কত সহজ করে বদলে ফেলতে পেরেছ নিজেকে ভালবাসা কে , , আমি দিন প্রতি দিন অবাক হই প্রিয়তোষ তোমায় দেখা …….. সত্যি প্রিয়তোষ আমায় কি এক মুহূর্ত আর তোমার মনে পড়ে না ? অথচ এই তুমি আমায় বলতে আমি যেন সারা  জীবন তোমাতে  বেঁধে বেঁধে  থাকি ,

সব এলোমেলো লাগে জান আমার আজকাল এত অগোছাল আমি কেমন করে এক তোমার বিহনে ? হয়তো তুমি আমার এ পাগলামো শনে হাসবে জানি , আমারশ যে সমস্ত জুড়ে তুমি প্রিয়তোষ বাকি পৃথিবীকে সব সময় তোমার পরেই রেখেছি ,

যাই হোক আজ  এবার রাখবো এই মুহূর্তে  আমার ভেতোর মহলের  মত বাইরী আকাশেও বৃষ্টি  শুরু হয়েছে ,

ভালো থাবে একই রকম যত্নে থেকবে সবসময়  থেকো ভালবাসায় ।

                 

                          ইতি তোমার বাসন্তিকা ,