Thursday, 25 June 2020

তৃতীয় চিঠি

প্রিয়তোষ ,
  সকাল বেলায় জানলার কাঁচ বেয়ে শিশির জল গড়িয়ে নামছে যেমন আমার ভেতর তুমি , আজ আবার তোমার সাথে কাগজে কলমে  ....খবরের 
কাগজে পেজ থ্রী র স্টোরিতে তুমি সাথে তোমার প্রিয় বান্ধবী ,বেশ মানানসই তোমরা যেন রুপকথার রাজা রানী, তাই না? 
জানি মনে মনে হাসছো তুমি,  কোন এক দিন তুমি তোমার বাসন্তিকা কে   মহারানী  বলে ডাকতে, আমি  জানতে চাইলে বলতে তোমার বাসন্তিকা তোমার মনের সামরাজ্যের মহারানী তাই তাকে সেই সম্মানে ভূষিত করাই  যথাযথ,  আজ কেন জানি না সব স্বপ্ন মনে হয়, সেই তুমি বদলে যাচ্ছ ক্রমশ, ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের কথা দেওয়া নেওয়ার অলিখিত চুক্তি পত্রের স্বাক্ষর থেকে কালির দাগ,  
  
  তুমি ও তোমার বিশেষ বান্ধবী   রং মিলয়ে দুজনে  আজ এক রঙা পোষাকে বিশেষ ভঙিমায় যথেষ্ঠ   আবেদনকারি, 
,   হয়তোবা কোনো নামি ডিজাইনারের বিঞ্জাপন নিবেদন , তোমার এই বান্ধবী এখন আমেরিকার  সাহিত্য খবরে শীর্ষ স্থানে ,শুনেছি তোমার  লেখা গল্পের এক নামকরা বাঁচিক শিল্পী ,
ভীষণ আত্মিক তার পরিবেশন, শ্রোতারা নাকি বলেন তোমার গল্পের কথক পরিবেশনের সে একাই নাকি দাবিদার, তার মত করে তোমার লেখার মূল্যায়ন এখনো কেউ কর‍তে পারেনি, 
আমি জানি শ্রোতাদের সাথে তুমি একমত, হয়তোবা তোমার জীবন আংগিকেও  সে যথেষ্ট
মুল্যবান,  তোমার ভালো হোক এই চাওয়া আমার নিরন্তর থাকবে,        
যাই হোক ভালো আছো বুঝতে পারি শুধু তাই নয় তুমি সাফল্যের আকাশচুম্বী পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছো  । জান প্রিয়তোষ আজ তোমার দেওয়া  শান্তিনিকেতন এর শাড়িটা পড়বো আজ বাইশে শ্রাবণ তুমি  সেবার আমায় সিল্কের শাড়ি পরে কবিগুরুর অনুষ্ঠানে কবিতা বলতে দেখে পরের দিন এই শাড়িটা  হাতে দিয়ে বলেছিলে এরপর কবিগুরুর কোনো অনুষ্ঠানে গেলে আমি যেন এই শাড়িটা পরি , আমার কাছে অবশ্য এই শাড়িটা  মনে তুমি  শাড়িটা পরলে মনে হয় আমায় জড়িয়ে তুমি ,  তোমার এই নিরুত্তর ভাবে দূরে থাকাই তুমি আমার ভেতর এক  সমুদ্র হয়ে উঠেছ , হয়তো আরো গভীরে যাচ্ছ আমার ভেতর  বেড়ে উঠছ মহিরূহ হয়ে ।  তুমি যদি এই চিঠি পড় তাহলে বলবে জানি আমি  
এসব সময়ের অপচয় ....প্রিয়তোষ একসময় তুমি বিকেলে পড়ন্ত আলোয়  মিলি দের চিলেকোঠার ছাদে আমার চোখের দিকে অনমনা হয়ে তাকিয়ে থাকতে আমি কিছু বললে বলতে ডুবতে দাও গভীরে  ওই ঝিলের গভীরে এক তলহীন হৃদয় রাখা আছে সে হৃদয়ে রাখা আমার প্রাণভোমরা ....আমি হেঁসে ফেলতাম , আর দেখ 
আজ আমার কাছে সেই দিনগুলোর কথা  অমুল্য রতন হয়ে উঠেছে । 
 এসব  আমার কাছে রোজ স্বপ্ন আর স্মৃতি   এখন, তোমার এখন বস্তা পচা লাগে নিশ্চয়ই  এসব পুরনো কথা,  
সময় কি পাও আমার চিঠি পড়ার  জানি না , গত চিঠিগুলো র উত্তর দাওনি , হয়তো সময় কম ,
পরের বার যদি সময় পাও সামান্য দু এক  কথা লিখে পাঠিও   ,তোমার স্পর্শ থাকবে তাতে 
তোমাকে মিস করছি যে খুব  প্লিস একটা ফোন করো সময় পেলে, 
ভালো থেকো প্রিয়তোষ ....আমি ভালো থাকার চেষ্টা করছি রোজ একদিন ঠিক জানি তুমি শিখিয়ে দেবে ,  আজ আসি ভালবাসা রইলো রইল স্নিগ্ধ আলিংগন  ।
        ........  ইতি  তোমার বাসন্তিকা 

Saturday, 13 June 2020

এমন কেন হয়

---------------------------- 

তোমাকে বুঝতে পারি না সৃজিত, দশ বছর তোমার সাথে
সংসার করার পরও তুমি  অচেনা থেকে গেলে, তোমার চাওয়াটুকু
যে ঠিক কি এত চেস্টা করে আমি জানতে পারলাম না, আর তোমায় বুঝতে চাইও না 
এক মুহুর্ত, অসুস্থ লোক তুমি ,     তিন্নি কথাগুলো
বলতে বলতে তুতুন কে নিয়ে পাশের ঘরে চলে গেল, 
তিন্নির মনের ভেতোর  এমন ঝড় বহু বার উঠেছে  সৃজিত কে নিয়ে,  এত
ভালোবাসে তিন্নি সৃজিতকে  তবুও অসংখ্য নারী সৃজিতের জীবনে,
, খোলা আকাশের  মত করে ছেড়ে দিয়েছে তিন্নি কখনো মুঠো বন্ধ করেনি  তবু 
সৃজিতের  কি এক     খোঁজ সময়ে স্রোতে হাজারো নারী ছুঁয়ে তার পথ
চলা,  প্রথম আলাপ হওয়ার পরেই সৃজিত তার জীবন জুড়ে অজস্র নারীর
যাওয়া আসার কথা তিন্নিকে জানিয়েছিল, তিন্নির সাথে সম্পর্কে আসার কিছুদিন পর
সৃজিত তাকে আদোর করে বলেছিল তার জীবনে তিন্নিই শেষ নারী ,  কথাটা 
কাব্যিক শোনালেও মেনে নিয়েছিল তিন্নি, কারন সৃজিত কে সে ছোটো শিশুর মত করে যত্ন করে রাখত 
   
 অথচ বছর চার যেতে না যেতেই সৃজিত নিজের কথা থেকে সরে এসেছিল,  এক দিন জামাকাপড়
কাচতে গিয়ে তিন্নি ফাস্ট শোএর দুটো সিনেমার টিকিট পেয়েছিল,  জানতে চাইলে সৃজিত
বলেছিল হয়তো সিগারেট এর দোকানে  দেশলাই নিতে গিয়ে  দেশলাই বাক্সের সাথে চলে  এসেছে 
তারাহুড়োয় দেখিনি, তিন্নি আর কিছু জানতে চাইনি বিশ্বাস করেছিল কিনা সে কথা তিন্নিই জানে,  
সৃজিত এম. আর.  বাড়ির বাইরেই বেশি থাকতে হয় ডক্টরমিট লেগেই থাকে  তার সাথে 
বান্ধবী এক্সপ্লোর সমান ভাবেই চলে,  সৃজিত এর ইনবক্সে পুরুষ বন্ধুর কনভারসেশন এর
থেকে মহিলা বান্ধবীদের মনের হদিস বেশি তারা তাদের জুতো সেলাই থেকে চন্ডিপাট 
সব কথাই সৃজিত এর পরামর্শ ছাড়া বা সৃজিত কে না জানিয়ে করে না,  কোনো কোনো
বান্ধবীর পিরিয়ডের ডেট এবং ব্রা এর সাইজও সৃজিতের না জানা নয়,  তিন্নি যতই উদার
মনের মানুষ হোক কোথাও একটা বুক চাপা গোপোন যন্ত্রনা বাড়তেই থাকে এসব নিয়ে,  ই
অনেক বার
বলা সত্বেও সৃজিত থামেনি   কিছু দিন চুপ থাকে আবার পুরোনো রুপে ফিরে যায়, 
তিন্নি নিজে একজন নামি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, যেকোন   আইডি হ্যাক করা ওর কাছে 
খুব সহজ, তিন্নি জানে এসব অপরাধ,  ইদানিং তিন্নি সৃজিত কে আর চিনতে পারে না 
তিন্নির উপস্থিতি সৃজিতের  খেয়ালের বাইরে  একবারও কাছে বসে দু দন্ড কথা বলে না 
সারাক্ষন ব্যাস্ততার অজুহাত,  অথচ তিন্নির চাওয়া খুব সামান্য একটু কাছে বসা একটু জড়িয়ে ধরে
বুকের কাছে রাখা,  এসব এখন তিন্নির কাছে স্মৃতি আর
স্বপ্ন, সৃজিতের বান্ধবী মনস্কা স্বভাব সৃজিতের কাছ থেকে
এক মুল্যবান মন কে সরিয়ে নিচ্ছে হত্যা করছে নিজে সৃজিত
সেটা সে বুঝতে পারছে না, 
আজ তো সব গন্ডি পার করে ফেলেছে তিন্নি,  যদিও শুরুয়াতটা   সৃজিতের
হাতেই হয়,  জামাকাপড় গোছাতে গিয়ে  তিন্নি দেখে সৃজিতের টি সার্টে 
গোলাপি লিপস্টিকের দাগ এরপর আর পারেনি নিজেকে চুপ রাখতে 
সোজাসুজি সৃজিত কে প্রশ্ন করলো তুমি কি চাও বল আমাকে কি তোমার জীবনে কোথাও কোনো 
প্রয়োজন আছে পরিস্কার বল,  সৃজিত  মিথ্যা সাজিয়ে বলেগেল বাসে ভিড় ছিল কে ঠেলাঠেলিতে
কাছ ঘেঁষে গেছে হয়তো তাই.....,  তিন্নি সৃজিতের ল্যাপটপ টা টেবিল থেকে নিয়ে এসে
সৃজিতের সামনে রাখলো আর বলল তুমি বলবে না আমি বলবো,  সৃজিত মেজাজ দেখিয়ে 
বলল কি বলতে চাও? ছুটির দিনে তুমি কি শান্তিতে বাড়িতে থাকতেও দেবে না,  তিন্নি আর কিছু কথা 
না বাড়িয়ে সোজা সৃজিতের ল্যাপটপ খুলে ওর মিডিয়া একাউন্ট হ্যাক করে সৃজিতের সামনে ঘুরিয়ে রাখলো
ল্যাপটপটা, শুধু বলল আচ্ছা সৃজিত আমায় বলবে এত এত নারীকে এক সাথে একজন পুরুষ কি ভাবে ভালবাসতে পারে! প্লিস   ডেসক্রাইব মি,  সৃজিত চুপ ছিল উত্তর হয়তো ফুরিয়ে গেছিলো এই মুহুর্তে, 
তিন্নি শেষে বললো প্লিস আমায় মুক্তি দাও আমি আর পারছি না,  সৃজিত বিছানা ছেড়ে উঠে তিন্নিকে জড়িয়ে
বললো তুমি ভুল বুঝছো..... সাথে সাথে এক ঝটকায় তিন্নি সৃজিত কে সরিয়ে 
দিয়ে বলল   তোমাকে  আর কোনো রকম বিরক্ত না করে আমি তুতুন কে নিয়ে চলে যাচ্ছি, , আবার সৃজিত তিন্নির হাত টা ধরতে গেলে  হাত সারিয়ে  তিন্নি তুতুনকে  আঁকড়ে ফুপিয়ে উঠলো, মায়ের জড়িয়ে ধরায়  পাঁচ বছরের তুতুনের 
ঘুম ভেঙে গেল আর সাথে সাথে ওই কথাগুলো বলতে বলতে তিন্নি পাশের ঘরে গিয়ে ধড়াম করে দরজা ছিটকিনি তুলে দিল তারপর জামা কাপড় গুছিয়ে নিয়ে তুতুনের হাত ধরে টানতে টানতে বাড়ির মেন দরজা খুলে 
বেরিয়ে গেল সৃজিত বার বার ডাকা স্বত্বেও আর পিছন  ফিরে তাকাতে তিন্নির  ইচ্ছা হল না... শুধু মনে মনে 
বলল ভালবাসা বলে পৃথিবীতে আসলে কিছু নেই।                                                                

Thursday, 11 June 2020

দ্বিতীয় চিঠি

---------
প্রিয় প্রিয়তোষ, 
কেমন আছো নতুন উন্নত সভ্যতার দেশে? ভালো
না থাকার সামান্য কারন নেই সে  কথা জানি 
কাল তোমার বাড়িতে গিয়েছিলাম তোমার বাবার
অসুস্থতার খবর পেয়েছিলাম তোমার পিসতত দাদা ....রঞ্জন্ দার থেকে , মনটা 
আনচান করছিল,  জানি তুমি শুনে খুশি হওয়ার থেকে
বিরক্ত হচ্ছ বেশি,  তবু তোমার সাথে তোমার চারপাশকে
আলাদা করে ভাবিনি কখনো তাই তোমার অসন্তুষ্ট হওয়া
স্বত্তেও গেছিলাম ও বাড়ি,  তোমার বাবা আমায় দেখে খুশি হয়ে বললেন মা রে তুই আমার দেখতে আসবি আমি জানতাম , শুধু খবরটা কার কাছে পাবি সেটাই বুঝে উঠতে পারিনি , আমায় কাছে ডেকে বসলেন জিগ্যেস করলেন ভালো আছি কিনা , মুখে বললাম ভালো আছি অথচ তোমার বাবাও হয়তো টের পেয়েছেন ভালো থাকা বলাটা মুখের সাথে চোখের ভাষা মিলিয়ে নিতে পারেনি ,
কেন বলতো প্রিয়তোষ আমার ভালো থাকার একটা শক্ত খুঁটি চিরকাল তুমি হয়ে থাকলে ,অথচ সেই তুমি আমি বিহীনে দিব্য ভালো আছো ,ব্যাস্ততা মানুষ কে কাছের মানুষের থেকে এমন দূরে করে দেয় তোমায় এই সময়ে না দেখলে আমার জানাই হয়তো হয়ে উঠতো না , কিজানি .......
হয়তো এসব আমার দুর্বল মনের নিছক ধারনা  তবুও  তোমার
অসম্ভব ব্যাস্ততম দিন রাতে আমি যে তেমন একটা নেই
সেটুকু বুঝতে পারি ইদানিং,  
আজ দ্বিতীয় বার তোমার সাথে চিঠি কলমে মুখোমুখি
হচ্ছি,  আজ আর তেমন অস্থিরতা নেই,  তোমায় এত দিন
না বলা কথা গুলো হুড়মুড় করে কলমের নিবে জায়গা
করতে ব্যাস্ত আজ,  শুনেছি তুমি আবার কলম খাতার 
মুখোমুখি হও নিয়মিত,  ওদেশে তোমার লেখার 
পাঠক সংখ্যা এর মধ্যে নেহাত কম নয়,  গত সপ্তাহে
টাইমস অফ ইন্ডিয়া র প্রথম পেজে তোমাকে দেখলাম 
অনেক ক্ষন...... জান প্রিয়তোষ অনেক্ক্ষণ চোখ সরাতে 
পারিনি, হাতের স্পর্শে তোমার ছবিতে তোমার উপস্থিতি
খুঁজে নিজের ভেতোরের উত্তাল ঝড় থামিয়েছিলাম, 
তোমার ওদেশে লেখা ছাপার খবর প্রথম জানতে পারি 
তোমাদের বাড়ি থেকে,  শুনে খুব খুশি হয়েছি... তুমি 
.বরাবর খুব ভালো লেখো, পাঠক তোমার লেখায়
নিজেকে খুব কাছ থেকে রিলেট করতে পারে  আর সেই জন্য
তোমার লেখা আজ আমেরিকার মত দেশেও জনপ্রিয়তার
শিখরে,  
প্রিয়তোষ আজ তোমায় শুভেচ্ছা জানাব বলেই এই 
চিঠি,  তোমার প্রতিটা সাফল্যে আমার অফুরান শুভেচ্ছা
থাকেই,  আজও তার অন্যথা নেই,  তুমি বরাবর আমার 
হাতের কাজ করা হাত রুমাল পছন্দ করতে.... এখন
হয়তো সে অভ্যাস বদলেছ  অনেক অভ্যাসএর মতই, 
আজ তোমায় এই রুমালে  সূঁচ সুতোয় গেঁথে পাঠালাম
আমার শুভেচ্ছার ওম। 
আজ আর এর  থেকে বেশি কিছু বলার নেই,  সবসময়
ভালো থেকো  প্রিয়তোষ,  আমি ভালো মন্দ মিশিয়ে
আছি থেকেও যাব ,  সময়ের অবসরে সময় হলে আমায় দু এক কথা 
লিখে পাঠিও,   তোমার উপস্থিতি ভীষণ ভাবে হাতড়ে বেড়াই ,  আজ আসি। 
.............ইতি তোমার বাসন্তিকা             

Wednesday, 10 June 2020

প্রথম চিঠি

----------------------------
প্রথম তোমায় আজ লিখতে বসেছি,  কলম আর 
আমি ভীষণ রকম অস্থির সাদা কাগজে ঠিক 
কোন কথাটুকু    প্রথম পরিবেশন করবো বুঝে 
উঠতেই  খেই হারাচ্ছি,   আমার যে কোনো কালেই
কাগজে কলমে তেমন সখ্যতা নেই সে তো তোমার অজানা নয়, 
অথচ তোমার  সামনে বসে অনর্গল হাবিজাবি শব্দ বুনতে 
আমাকে মুহুর্ত ভাবতে হয়নি কোনো দিন, 
ঘরের ভেতোর  দেরাজ বন্দি আমার শব্দরা তোমাতে 
আকাশ খুঁজে নিজেদের সাবলীল ভাবে হারাতেই
খুশি চিরকাল, 
তোমার আমার থেকে বিভুঁই হওয়া আজ ছয় মাস দশ দিন 
আট ঘন্টা হল,  প্রথম তিন দিন পর টেলিফোনে জানিয়ে
ছিলে ভালো ভাবেই পৌছেছো , সব গুছিয়ে নিতে কিছু
দিন সময় লাগবে...... তাই কিছু দিন সময় চেয়ে নিয়েছিলে, 
তোমার নতুন শহর নতুন কর্মকান্ডের সাতসতেরো শুনব
বলে রোজ সময় গুনেছি  বিয়োগ ফলে,  
আঠেরো দিন পর তোমার গলা  আবার দ্বিতীয় বার 
আমায় স্পর্শ করলো... বললে  কাজের চাপ নাকি খুব 
অনেক রাতে বাড়ি ফেরো, চিঠিতে বিস্তারিত লিখবে 
ভেবেও সময়ে কুলোতে পারোনি,   আমি যেন না ভুল
বুঝি ,  কোন টেলিফোন  নাম্বার এই মুহুর্তে তুমি দিতে পারছো না, 
কারন নিজস্ব টেলিফোন এখনো আসেনি,,  বরং আমায়
একটা ঠিকানা লিখে নিতে বললে আর সেই ঠিকানায় চিঠি 
লিখতে বললে,.... তোমার গলার শব্দরা  সেদিন
.ব্যাকুল তিস্তার মত বাঁধ  ভেঙে ছিল আমার ঘরকন্নার,
অথচ তোমায় বললাম..... আমায় নিয়ে ভেবো না তুমি
মন দিয়ে কাজ করো নতুন যব তোমার,  আমি তো আছি, 
নিজের যত্ন নিও ,  আমি ভালই আছি,,  আর কিছু বলতে
পারিনি আমার শব্দরা অদ্ভুত আড়ষ্টতা  আমার তুমি কে
হাতড়ে বেড়াচ্ছিল।  
আজ এত গুলো দিন কাল মাস পার হয়ে গেল,  মনে
হল তোমার ব্যাস্ততায় আমি হয়তো বাড়তি হয়ে উপচে
কোথায় ভেসে  গেছি ।  মন কে অনেক বার বুঝিয়েছি
তোমার ব্যাস্ততার কথা,  এই কয়েক মাসে তোমাদের 
বাড়িও গেছি বার দশেক,  তোমার মা৷ বাবা ভালই আছেন
তোমার বৌদিকে তোমার কথা জিগ্যেস করতেই বললেন
তুমি একদিন ছাড়া ছাড়াই বাড়িতে টেলিফোন করে সকলের
সাথে কথা বলো ,  ভালই আছো নতুন পরিবেশে,   
অফিসে  উইকেন্ডে ছুটিও পাও
সেই ছুটির দিন গুলো তুমি বেলা পর্জন্ত ঘুম সেরে  নতুন 
বন্ধুদের সাথে সময় কাটাও, কখনো তোমার বাড়িতে আসে 
বন্ধুরা কখনো তুমি যাও,।   
সে দিন বাড়ি ফিরে বুকের ভেতোরটা হঠাৎ খাঁ খাঁ করতে
থাকলো ,  খানিক পরে  বৃষ্টি নেমেছিল 
চিলেকোঠার ছাদে আমার একার জন্যে আঝোর ধারায় বৃষ্টি,  
ভিজেছিলাম ঘন্টা দুয়েকর বেশি,  পরের দিন থেকে ধুম জ্বর 
টানা এক সপ্তাহ চোখ খুলতে পারিনি জান জ্বরের ঘোরে 
ভুল বকেছি সারাটা সময়,  মা বলছিলেন ডক্টর  জ্বরের 
তেমন কোন কারন খুঁজে পায় নি,  বাবা কিছু একটা আন্দাজ
করতে পেরেছিলেন একটু সুস্থ হতেই  মা কে বললেন আমারা
কিছুদিন আমাদের কার্শিয়াং এর বাড়িতে থাকতে  যাব, 
 প্রিয়তোষ   নিজের শহর ছেড়েছি আজ তিন মাসের বেশি 
তোমায় এক মুহূর্ত ছাড়তে পারিনি, মনকে বুঝিয়েছি সত্যি তুমি 
ব্যাস্ত   সময় পেলে নিশ্চয়ই খবর দেবে আর আমার খবর নেবে, 
কার্শিয়াং আসার আগে তোমার বৌদির কাছে এখানের ঠিকানা
 দিয়ে এসেছিলাম  আর এখানে আসার পর তোমাদের বাড়িতে টেলিফোন
করে তোমার বৌদিকে এখানের টেলিফোন নাম্বারটাও দিয়ে রেখেছিলাম, 
কয়েক দিন আগে ফোন করেছিলাম তোমাদের বাড়িতে সকলের
খবর নিয়ে তোমার কথা জানতে চাইলাম তোমার বৌদির কাছে 
, আমায় বললেন তোমায় নাকি আমার টেলিফোন নাম্বার আর ঠিকানা
দুটোই  জানিয়েছে বহুদিন আগেই,  
আজ মন আর আমার কথা শুনলো না প্রিয়তোষ,  তোমার ঠিকানায় 
আমার প্রথম শব্দদের অধিবাস আজ,  কাগজে কলমে তোমায়
এত অচেনা লাগছে কেন? .... কি লেখা উচিৎ আর কি নয়! 
ভেবে কুল করতেই দিন শেষ,  
আসলে এমন করে তোমায় কখনো যে চিঠি
লিখতে হবে জানতাম কই,   যাইহোক সময়ের
অবসরে সময় যদি পাও দু এক কথা লিখো 
কিংবা কয়েক টুকরো গলার আওয়াজ পাঠিও টেলিফোনে,  
আজ রাখি..... ভাল থেক সবসময় প্রিয়তোষ। 
.........ইতি তোমার  বাসন্তিকা ,