আরতির সামনে এসে দাঁড়ালো চোঁখের সামনে গঙ্গায়
অলোর সাজ আর জলে সে আলোর আলোকময় প্রতিফলন
মন বিছিয়ে গেলো ,,
বাবুঘাটে মোহর আর অর্চিষ্মান এক সময় প্রতি সপ্তাহে এক অপরের জন্য সময় রাখতো মোহর বাড়ি ফেরার জন্য অর্চিষ্মানের সাথে এই বাবুঘাটে এসে বসত সন্ধ্যার একটু আগে
জেটি তে উঠে পড়ত মোহর আর একটা অপেক্ষা নিয়ে বেশ খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে অর্চিষ্মান ফিরে যেতো তার নৈতিক দায়বদ্ধতার দুনিয়ায় ।
সমস্ত সত্যি নিয়ে একটা অন্ধকার যখন সময়ের বুকে বসত করছে ঠিক সেই অন্ধকারের বুক চিরে এই দীপাবলী ক্ষণিকের উৎসব সাজাচ্ছে,, মোহর আজ বাড়ি ফিরতে চায় না এই আলোর ভেতর অনন্তের পথে হেঁটে কিংবা ডুবে যেতে চায় ,
এক অদ্ভুত প্রশান্তি মাথা মন শরীর ঘিরে বাসা বেঁধে আছে আজ ...
এই পৃথিবীর সবটুকু যেন মোহরের কাছে শুধুমাত্র আশীর্বাদ,
কোত্থাও কোনো নালিশ ,অভিমান না পাওয়া কিছুই যেনো ছুঁয়ে যায় না ওকে।
বেগুনি রঙের শাড়ি আর হলুদ ব্লাউজ কানে সিলভার দুল অফিসের ব্যাগ টা পাশের সিটে রেখে বাবুঘাটের ঢোকার মুখে ..... মুহূর্তে একটা বীভৎস আওয়াজ বাকি কিচ্ছু মনে নেই তারপর হাঁটতে হাঁটতে এই আলোর উৎসব ।
মোহর আর অর্চিষ্মান এর উৎসব পালন হতো মাঝে মাঝেই
একটা পুরো দিন এক সাথে গল্প কবিতা জড়িয়ে থাকা আর এই বাবুঘাট ,
আজ অর্চিষ্মান কোথায় বড্ড দেখতে ইচ্ছে করছে হাতে ফোনটা নিয়ে ওর নম্বর ডায়াল করলো মোহর ..
হ্যালো হ্যালো অর্চিষ্মান কোথায় রে তুই শুনতে পাচ্ছিস কিরে আমি মোহর অর্চিষ্মান শুনতে পাচ্ছিস একবার বাবুঘাটে আয় না দেখা কর শুনতে পাচ্ছিস কিরে .... ফোন টা কেটে গেলো।
অসম্বব চিৎকার চেঁচামেচি এম্বুলেন্সের সাইরেন
গঙ্গার আরতি লোকজনের শোরগোল হাসি আর এসবের মধ্যে তাই অর্চিষ্মান এর আওয়াজ হয়তো শুনতে পাচ্ছে না মোহর ।।
,কিন্তু আজ যে একবার খুব দেখতে ইচ্ছে করছে ওকে , চিৎকার চিৎকার দৌড়াদৌড়ি মোহর পেছনে ফিরে তাকাতেই কিসের যেন ভিড় দেখতে পেলো সবাই ওই ভিড়ের দিকে ছুটছে অনেক মানুষ , দেব দীপাবলীর আলোর উৎসব কে পেছনে ফেলে অমন উল্টো দিকে সকলে কি এক তাড়া নিয়ে হাঁটছে সেটা বুঝতে পারছে না মোহর,
মোহরের এই আলো ছেড়ে কোত্থাও যেতে ইচ্ছে করছে না এই আলো যেন তার অন্তর মহলের ব্যাকুলতা কে স্পর্শ করে শান্ত করে দিচ্ছে ,
তবুও ভিড় আর চিৎকারের কারণ জানতে সামান্য ইচ্ছে হওয়ায় ছুটোছুটি করা লোকজনের মধ্যে দু একজন কে জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে বলবেন প্লিস ...কেউ মোহরের কথা শুনতে পেলো না, কেউ ওর দিকে ঘুরেও তাকালো না মোহর একটু পাশে এগিয়ে গিয়ে একটা চায়ের দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালো দু একজন কথা বলছে কোনো একটা দুর্ঘটনা নিয়ে বলছে বেচারা রক্তে এমন ভেসে যাচ্ছে আর এত মারাত্নক ভাবে অক্সিডেন্ট টা হয়েছে যে চোখ মুখ কিচ্ছু চেনা যাচ্ছে না ,
মোহর জানতে চাইলো দাদা কিসের জন্য সবাই আরতি ছেড়ে পেছনের দিকে দৌঁড়ে যাচ্ছে ...কি হয়েছে ?
কেউ মোহরের কথা যেনো শুনতেই পেলো না সে আবার জানতে চাইলো দাদা শুনছেন ...তারপর লোকগুলোর পরস্পর কথপোকথন যেন কি একটা চেনা চেনা শাড়ি পরা মহিলা, গাড়ি , ব্যাগ , অক্সিডেন্ট .....
মোহর বাড়ি ফিরলো অনেকটা রাত তখন তিন্নি ঘুমিয়ে পড়েছে কিন্তু সান্তনু কোথায় বাড়িটা এত থমথমে কেনো ,
মালতী দি তিন্নির ঘরে বসে ঝিমোচ্ছে ,
মোহর সেই সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে অনেকক্ষণ মেয়েটাকে কাছে পায়নি তাই ব্যাগ রেখে হাত পা না ধুয়েই ঘুমন্ট তিন্নি কে জড়িয়ে আদর করতে শুরু করলো ..তিন্নি আজ উঠলো না মাম্মা কে জড়িয়ে ধরলো না ..মেয়েটা কি আজ খুব ক্লান্ত গভীর ঘুমিয়ে পড়েছে ,কিন্তু এমনটা তো কক্ষনো হয় না মেয়ে যতই গভীর ঘুমাক মোহর আদর করলে মেয়ে মা কে জড়িয়ে ধরে ।
এত রাতে সান্তনু বাড়ির আর মামনি কোথায় মোহর ফোনটা হাতে নিয়ে শান্তনু কে ডায়াল করলো ...আজ কি সারা বিকেল রাত নেটওয়ার্ক প্রবলেম প্রথমে অর্চিষ্মান তারপর শান্তনু কাউকেই ফোনে পাচ্ছি না কেনো ...মোহর বাইরের ঘরে দফা এসে বসলো আজ খুব ক্লান্ত লাগছে ওর