Monday, 7 December 2020
ষষ্ঠ চিঠির
পঞ্চম চিঠি
চতুর্থ চিঠি
প্রিয় প্রিয়তোষ,
ভাল আছো নিশ্চয়ই
, আজ যে কারণে খাতায় কলমে ফের তোমার সামনে
, আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন গত ছ বছর আষাঢ়ের
এই প্রথম দিনে তুমি আমার জন্য একটা করে কবিতা লিখে সেটা চিঠির মত করে আমায় উপহার দিতে
, আর
সে চিঠির নাম
দিতে “আষাঢ়ষ্য প্রথম দিবসে তোমাকে” আমি মুগ্ধ
হতাম খুশিতে প্রায় নেচেই উঠতাম সে উপহার পেয়ে
,সে চিঠি কবিতার প্রতিটা লাইন আমি যে কতবার পড়তাম সারা বছর ,আমার সে সব প্রতিটা চিঠির প্রতিটা শব্দ মুখস্থ হয়ে যেতকিছুদিনের
মধ্যেই আর তারপর অপেক্ষা করতাম আবার পরেরআষাঢ়ের
প্রথম দিনের , কারন এই দিনে তোমার কলমে একটা
লেখা একান্ত আমার পাঠকের ভূমিকায় কেবল আমি
, আমার যে কি ভালো লাগতো এমন একান্তে তোমায় এবং তোমার লেখাকে এক সাথে পেতে ,লোভি হয়ে
গেছিলাম আমি , এ লোভ অবশ্যই তোমার সৃষ্ট ,
আর আজ সেই তুমি তোমার বাসন্তিকাকে ভুলে সে লোভকে চাপা দিয়ে দিয়েছো মাইলের পর মাইল ফলকে , আজো আমাদের সপ্তম
আষাঢ় এর প্রথম দিন কথা মত আমার নতুন উপহার তোমার কবিতা আজ আমার হাতে তুমি দিতে , অথচ
আজ তোমার বাসন্তিকা পুরোনো উপহারে বন্দি ।বরং
উল্টটাই আজ আমি তোমায় এই স্মৃতিচারণ চিঠিতে উপহার দিই ,
তোমার কলমের
নিবে আজ জানি না নতুন কোন বান্ধব রঙ কিনা জানি
আজ আজ ‘আষাড়ষ্য প্রথম দিবস তোমাকে ‘ তুমি কার জোন্য লিখবে কিনা , যদিও লেখ সে লেখা
আমার বরাদ্দ্যে জুটবে না সে ও জানি ,গত মাসে তোমার লেখা প্রবন্ধ প্রকাশের খবরটা জানতে পারি প্রথম সংবাদ প্ত্রের মাধ্যমে তারপরতোমার
বাবার সাথে রাস্তায় দেখা হওয়ায় উনিও আমায় সু
সংবাদটা দেন , প্রিয়তোষ তোমার মনে আছে আগে
তোমার ছোট বড় যে কোন লেখা যে কোন পত্রিকাতে
যখনই প্রকাশিত হত তুমি নিজে এসে আমায় জানাতে আর তোমার মুখে এক অপূর্ব
আনন্দের আভা ছড়িয়ে পড়ত আমি বিস্ময়ে
তাকিয়ে থাকতাম আর মনে মনে তৃপ্ত হতাম , প্রিয়তোষ এখন তুমি এই আনন্দ কেমন করে ভাগ কর , আমি তোমাকে
যে টূকূ চিনি তাতে করে এরকম লেখা বা প্রবন্ধ প্রকাশের আনন্দ তুমি নিজের মধ্যে কোন
ভাবেই লিকিয়ে রাখতে পারবে না ,
হয়তো আমাড় জায়গায়
এখন অন্য কেউ………. তেমনি হয়তো বা কেউ আজ এই আষাঢ়ের প্রথম দিনে তোমার কলম কারো অঙ্গীকারে
, প্রিয়তোষ জানি না আজ বাইরে বৃষ্টি হবে কিনা তবে আমার ভেতোর
মহলে আজ প্রবল বর্ষণ আর খড়কুটোর মত তোমার উপহারের চিঠি আগলে আমি ভাসছি , আমার ঘরকন্নায়
নোনা জল , তোমায় এ যন্ত্রণা চিঠিতে বোঝাই আমার কলমের সে বাহুল্যতা যে কোন কালেই হবে
না সে তুমি জানোই , ঠিক এই মুহূর্তে প্রিয়তোষ
তুমি একবার আমায় যদি দেখতে হলফ করে বলতে পারি
তুমিও এই বর্ষণে না ভিজে পারতে না , যাক সে সব কথা যা হওয়ার নয় তা নিয়ে ভেবে লাভ কি
বল প্রিয়তোষ ্ আসলে তুমি যে কাজ সহজে পার আমাই পারি না তুমি তোমার ব্যাস্ততার আড়ালে কত সহজে ভালবাসা কে
তাচ্ছিল্য করে বেঁচে আছ খুশি হয়ে , নাম ডাক
প্রতিপত্তি আড়ালে কবর দিয়ে নতুন করে সাজিয়ে নিয়েছ ,যেন এমন্ টাই স্বাভাবিক , কত সহজ করে বদলে ফেলতে পেরেছ নিজেকে
ভালবাসা কে , , আমি দিন প্রতি দিন অবাক হই প্রিয়তোষ তোমায় দেখা …….. সত্যি প্রিয়তোষ
আমায় কি এক মুহূর্ত আর তোমার মনে পড়ে না ? অথচ এই তুমি আমায় বলতে আমি যেন সারা জীবন তোমাতে
বেঁধে বেঁধে থাকি ,
সব এলোমেলো
লাগে জান আমার আজকাল এত অগোছাল আমি কেমন করে এক তোমার বিহনে ? হয়তো তুমি আমার এ পাগলামো
শনে হাসবে জানি , আমারশ যে সমস্ত জুড়ে তুমি প্রিয়তোষ বাকি পৃথিবীকে সব সময় তোমার পরেই
রেখেছি ,
যাই হোক আজ এবার রাখবো এই মুহূর্তে আমার ভেতোর মহলের মত বাইরী আকাশেও বৃষ্টি শুরু হয়েছে ,
ভালো থাবে একই
রকম যত্নে থেকবে সবসময় থেকো ভালবাসায় ।
ইতি তোমার বাসন্তিকা ,
Tuesday, 27 October 2020
বিহাইন্ড অফ স্যাডো
Monday, 10 August 2020
বিভূতিভূষণ বন্ধপাধ্যায়
"শিক্ষা দ্বারা মানুষ নিজেকে নিজে পায়
এইটাই জীবনের বড় লাভ",
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়,
এই উক্তিটি মানুষের জীবন ধারায় অবিরত প্রযোজ্য , যে মানুষটি এমন অন্তর্নিহিত সত্যিটা সুন্দর করে জনসম্মুখে প্রকাশ করেছেন আজ তার সম্বন্ধে কিছু কথা লেখার সুযোগ "সংকল্পকলম"এর হাত ধরে আমরা পেয়েছি ।
এই মানুষটি সম্বন্ধে কিছু লেখার চেষ্টা বাহুলতা ছাড়া কিছু নয় তবুও দু এক কথা তাকে নিয়ে আমাদের উৎসর্গকৃত কলমের নিবেদন .........
উত্তর চব্বিশ পরগনার কাঁচড়া পাড়ার কাছে মুরাতি পুর গ্রামে
জন্ম গ্রহন করেন
বিভূতিভূষণ বন্ধপাধ্যায়, সংস্কৃত মহা পন্ডিত মহানন্দ বন্ধপাধ্যায়
ও মৃনালিনী দেবীর
পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ সন্তান , ছোট বেলা থেকে তিনি মেধাবী ছাত্র
ছিলেন ,
প্রথমে গ্রামে ইংরাজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে তার পড়াশোনা শুরু
হয় পরে কলকাতার রিপন
কলেজ ( বর্তমান সুরেন্দ্রনাথ ) থেকে আই এ , বি এ, পাশ করেন এরপর একি
কলেজে তিনি এম এ ও আইন নিয়ে পড়া শুরু করেন, তবে ১৯১৯ সালে তিনি পড়াশোনা
ছেড়ে দেন , এই সময়
হুগলি জেলার বসিরহাট নিবাসী মুখোপাধ্যায় কন্যা গৌরী দেবীর
সাথে বিয়ে হয় , বিয়ের এক বছরের মধ্যে তার স্ত্রী বিয়োগ হয়
, পরে ১৯৪০ সালে ফরিদপুর
জেলার ষোড়াষীকান্ত চট্টোপাধায় মহাশয়ের কন্যা রমা দেবী কে
বিয়ে করেন ,
বিভূতিভূষণ বন্ধপাধ্যায় ছিলেন
একজন
জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তিনি
মূলত
উপন্যাস
ও
ছোটগল্প
লিখে খ্যাতি অর্জন করেন।
"হারানো যৌবন এর দিকে চাহিয়া দেখিলে বুকের মধ্যে কেমন করিয়া ওঠে ,কত কথা মনে পড়ে জীবনের সেসব দিনকে আর একটিবারও ফেরানো যাবে না ?
"পথের পাঁচালির " এই উক্তি আমাদের পাঠকগণ কে আজীবন নাড়া দেয় , এছাড়া এমন আরো বাস্তব ছোঁয়া তার উক্তি যেমন
"সংসার যে কি ভয়ানক জায়গা দুঃখে কষ্টে না পড়লে বোঝা যায় না " আমাদের জীবন সংগ্রামের প্রতিটি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে পাথেয় হয়ে ওঠে । "অপরাজিত" ও তাঁর সবচেয়ে পরিচিত উপন্যাস গুলির মধ্যে
বিখ্যাত। অন্যান্য উপন্যাস আরন্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল , ইছামতী ও অশনি সংকেত বিশেষভাবে
উল্লেখযোগ্য। উপন্যাসের
পাশাপাশি
বিভূতিভূষণ
প্রায়
২০টি
গল্পগ্রন্থ,
কয়েকটি
কিশোরপাঠ্য
উপন্যাস
ও
ভ্রমণকাহিনি এবং দিনলিপিও
রচনা
করেন।
বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালী উপন্যাস
অবলম্বনে সত্যজিৎ
রায় পরিচালিত চলচ্চিত্রটি
আন্তর্জাতিক
খ্যাতিসম্পন্ন । ১৯৫১ সালে ইচ্ছামতী উপন্যাসের জন্য
বিভূতিভূষণ পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ
সাহিত্য
পুরস্কার রবীন্দ্র পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ
করে,
আমরা আমাদের ‘সংকল্পকলমের’
সামান্য আত্মিক প্রয়াসে পথে সবেমাত্র প্রথম পদক্ষেপ পার করেছি,
দ্বিতীয় পদক্ষেপের প্রথম
আলোর অঞ্জলি হিসেবে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্ধ্যপাধ্যায় কে
নানান প্রয়াসে শব্দগুচ্ছের
বুননকে উৎসর্গ করে শ্রদ্ধা জানাই ।