Monday, 7 December 2020

ষষ্ঠ চিঠির

প্রিয়তোষ ,

 জানি না আজ কাল কেমন থাক , কেমন করে সকল থেকে রাত তোমার ধারাবাহিক হয় , বহু দিন পর তোমায় কিছু লিখতে বসলাম , তোমার ভালো থাকা বা মন্দ থাকা জানার জন্য এ চিঠি নয় , এ চিঠি আমার ভালো মন্দ তোমায় জানাই এমনটাও নয় ,
  কিছু জরুরি সংবাদ তোমায় দেবার ছিল ..
অবশ্য তুমি কখনওই এ তরফের একটিও চিঠির হয়তো ভাঁজ খুলেই দেখোনি , তবু বলি  তোমার প্রিয় মানুষের মধ্যে দু একজন তোমায় আমায় বা আমাদের সকলকে ছেড়ে গেছে , যেমন আমাদের স্কুলের সবার প্রিয় টিচার সুশীল স্যার , তোমায় আগেও চিঠি দিয়ে জানিয়ে ছিলাম উনার ভালো না থাকার কথা সাথে এও বলেছিলাম সময় করে খবর নিও একবার হয়তো এই খুবরটুকুও তুমি চিঠি খুলে জানোনি , তাছাড়া আমাদের ঐকান্তিক হওয়ার একমাত্র সূত্র জয় দা গত দু দিন আগে সুইসাইড  করেন ,  বেশ কিছুদিন উনি মনোরোগের শিকার হয়েছিলেন তারপর দুদিন আগে .......
 জানি না এই খবরটা শুনলে তোমার কেমন বোধ হবে   তো তোমার অনুভূতির বদল  অনকেখানি  হয়েছে বুঝি , আমাদের ঐকান্তিক  মুহূর্ত  যা কিছু ইতিহাস এখন ।, 
তোমার বর্তমান এখন অন্য কেউ  তাই অনেক চলে যাওয়া আর তোমায় স্পর্শ করতে নাও পারে ,, যাক সে তোমার ব্যাপার তুমি কাকে কোথায় রাখবে কার জায়গা বদলে দেবে সে তোমার ব্যাপার , 
প্রিয়তোষ আর একটা কিথ তোমায় বলা হয়নি বলবো বলবো করে আমি সময় করে উঠতে পারিনি , হয়তো তোমাদের বাড়ির কারো থেকে শুনেও থাকবে , আমি আগামী মাসের প্রথম।দিকে প্যারিস যাচ্ছি  ফাইন আর্টের ওয়ার্ল্ড সেমিনারে আমার দেশ কে প্রেজেন্ট করতে , তার পর লন্ডন , 
তোমায় এযাবৎ কাল সকলটুকু জানিয়ে এসেছি কারণ এখন আর বলা উচিত নয় আমি তোমার কাছে আপাতত বাড়তি হতে ব্রাত্য , তবু এখনো সব অভ্যাস বদলে ফেলতে পারিনি .....
ভালো থাকার শুভেচ্ছা  রইলো সমস্ত অক্ষরে শব্দেরর স্পর্শে ,
....................ইতি তোমার বাসন্তিকা

পঞ্চম চিঠি

প্রিয় প্রিয়তোষ ,
আশা করি ভালোই আছ , এযাবৎ তোমাকে  আমার সমস্ত খবরাখবর দিয়ে এসেছি , না তুমি বাধ্য করোনি আমি আমার প্রতিশ্রুতির কাছে অঙ্গীকার আর সেখানে তোমার কোন দায় নেই আমি জানি , আসলে তোমাকে আমার থেকে আলাদা সময়ের তালে তালে রেখে তুমি করলেও আমার পক্ষে সম্ভব নয় , 
আচ্ছা যে কথাটা বলার জন্য তোমায় এই চিঠি লিখতে বসেছি , এই  মফস্বল ছেড়ে শেষ মেষ বাইরে পা রাখার সাহস করে উঠেছি , আগামী মাসে কলকাতা যাচ্ছি মাস্টার্স করতে , প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় ফলাফল ঘোষণা হয়েছে ,খানিকটা অবাক করে ভাগ্য আমার বরাতে এমন ভালো কিছু রেখেছে বোধহয় , 
প্রিয়তোষ এই খবরে এখন  তোমার প্রতিক্রিয়া আমার সম্পূর্ণ অজানা , তবে আমি যে প্রিয়তোষ কে চিনি সে এই খবর শুনে আমার থেকে দশ গুন বেশি আনন্দে আত্মহারা হয়ে আমাকে জড়িয়ে পাগলের মত নাচত , বলতো এমনটাই হবার ছিল ।
আজ আবার বুকের ভেতরটা চিন চিন করছে জানো,  তোমার গলার স্বর শুনতে ইচ্চা করছে ....
তোমার দেখতে তোমায় স্পর্শ করতে ইচ্ছা হচ্ছে ।
তুমি যদিও এ চিঠি পড় মনে মনে বিরিক্ত হবে আর ভাববে এই এক বিরিক্ত কর মেয়ে এক মুহূর্ত আমায় ছাড়া চলতে পারে না ভাবতে পারে না ....কি প্রিয়তোষ ঠিক বলছি তো?   আসলে কি
জান আমার পৃথিবীতে একমাত্র তুমি যাকে আবর্তন করে আমি সম্পূর্ণ হই ...আর .....আর এমনটাই যে আমরা দুজন দুজনকে কথা দিয়েছিলাম , কথা দিয়েছিলাম কাঁচ অথবা জলের 
মত স্বচ্ছ আমরা দুজনের কাছে থাকবো ..........
আমি তো সাবলীল প্রিয়তোষ , তুমি পারছো না কেন , কেন আমাকে আড়াল করে তোমার আলাদা জগৎ গেঁথে নিচ্ছ পথের মালায় ?কেন আমাকে ক্রমাগত ব্রাত্য করে রেখে দিচ্ছ পুরোনো জীর্ণর মত , আমি যে তোমার মত আধুনিক সজ্জায় সজ্জিত নয় জানি , তবে বেমানান ছিলাম সেটা বুঝিনি , ,
ও দেশে হাজার হাজার সুন্দরী প্রতিভাবান আধুনিক মেয়েদের সাথে আমার যে তুলনায় রাখা যায় না সেটা তুমি এর মধ্যেই বুঝিয়ে দিয়েছো ,
রবি ঠাকুরের ভাষায় বলতে ইচ্ছে হচ্ছে "হিরে 
বসানো সোনার ফুল কি সত্যি ! তবু কি সত্যি নয় "
আসলে জানো প্রিয়তোষ আমি বেশি কিছু পারি না হয়তো , তবে যেটা পারি ভীষণ রকম নিষ্ঠার সাথে
পারি , ..,যেমন তোমাকে ভালোবাসতে আমার কখনো কোন তুলনা লাগে না ....আমার কাছে তুমি মনে তুমিই সম্পূর্ণ , নিখাদ তুমি ,   হাহাহাহা জানি এবার তোমার বিরিক্ত চরমে পৌঁছানোর পালা ,
আমিও আর তোমায় বিরক্ত করবো না ,শুধু কলকাতা যাবার কথাটা না জানিয়ে নিজে স্বস্তি পাচ্ছিলাম না যে ,, আজ তবে আসি , কোন একদিন দু এক কলম আমার উদ্দেশ্যে লিখবে এই আশা নিয়েই এই চিঠি শেষ করলাম ...বরাবরের মত ভালো থেকো ভালোবাসায় .....
                                    ইতি তোমার বাসন্তিকা ,

চতুর্থ চিঠি

প্রিয়  প্রিয়তোষ,

ভাল আছো নিশ্চয়ই ,  আজ যে কারণে খাতায় কলমে ফের  তোমার সামনে  , আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন   গত ছ বছর আষাঢ়ের এই প্রথম দিনে তুমি আমার জন্য একটা করে কবিতা লিখে সেটা চিঠির মত করে আমায় উপহার দিতে , আর

সে চিঠির নাম দিতে “আষাঢ়ষ্য প্রথম  দিবসে তোমাকে” আমি মুগ্ধ হতাম খুশিতে প্রায় নেচেই উঠতাম সে উপহার পেয়ে  ,সে চিঠি কবিতার প্রতিটা লাইন আমি যে কতবার পড়তাম সারা বছর ,আমার সে সব  প্রতিটা চিঠির প্রতিটা শব্দ মুখস্থ হয়ে যেতকিছুদিনের মধ্যেই  আর তারপর অপেক্ষা করতাম আবার পরেরআষাঢ়ের প্রথম  দিনের , কারন এই দিনে তোমার কলমে একটা লেখা একান্ত আমার  পাঠকের ভূমিকায় কেবল আমি , আমার যে কি ভালো লাগতো এমন একান্তে তোমায় এবং তোমার লেখাকে এক সাথে পেতে ,লোভি হয়ে গেছিলাম  আমি , এ লোভ অবশ্যই তোমার সৃষ্ট , আর আজ সেই তুমি তোমার বাসন্তিকাকে ভুলে সে লোভকে চাপা  দিয়ে দিয়েছো মাইলের পর মাইল ফলকে , আজো আমাদের সপ্তম আষাঢ় এর প্রথম দিন কথা মত আমার নতুন উপহার তোমার কবিতা আজ আমার হাতে তুমি দিতে , অথচ আজ তোমার বাসন্তিকা পুরোনো উপহারে বন্দি  ।বরং উল্টটাই আজ আমি তোমায় এই স্মৃতিচারণ চিঠিতে উপহার দিই ,

তোমার কলমের নিবে আজ জানি না নতুন কোন বান্ধব রঙ কিনা  জানি আজ আজ ‘আষাড়ষ্য প্রথম দিবস তোমাকে ‘ তুমি কার জোন্য লিখবে কিনা , যদিও লেখ সে লেখা আমার বরাদ্দ্যে জুটবে না সে ও জানি ,গত মাসে তোমার লেখা প্রবন্ধ প্রকাশের  খবরটা জানতে পারি প্রথম সংবাদ প্ত্রের মাধ্যমে তারপরতোমার বাবার সাথে রাস্তায় দেখা হওয়ায় উনিও আমায়  সু সংবাদটা দেন ,  প্রিয়তোষ তোমার মনে আছে আগে তোমার ছোট বড়  যে কোন লেখা যে কোন পত্রিকাতে যখনই প্রকাশিত হত তুমি নিজে এসে আমায় জানাতে আর তোমার মুখে এক   অপূর্ব  আনন্দের আভা  ছড়িয়ে পড়ত আমি বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতাম আর মনে মনে তৃপ্ত  হতাম , প্রিয়তোষ  এখন তুমি এই আনন্দ কেমন করে ভাগ কর , আমি তোমাকে যে টূকূ  চিনি তাতে করে এরকম লেখা  বা প্রবন্ধ প্রকাশের আনন্দ তুমি নিজের মধ্যে কোন ভাবেই লিকিয়ে রাখতে পারবে না ,

হয়তো আমাড় জায়গায় এখন অন্য কেউ………. তেমনি হয়তো বা কেউ আজ এই আষাঢ়ের প্রথম দিনে তোমার কলম কারো অঙ্গীকারে ,  প্রিয়তোষ  জানি না আজ বাইরে বৃষ্টি হবে কিনা তবে আমার ভেতোর মহলে আজ প্রবল বর্ষণ আর খড়কুটোর মত তোমার উপহারের চিঠি আগলে আমি ভাসছি , আমার ঘরকন্নায় নোনা জল , তোমায় এ যন্ত্রণা চিঠিতে বোঝাই আমার কলমের সে বাহুল্যতা যে কোন কালেই হবে না  সে তুমি জানোই , ঠিক এই মুহূর্তে প্রিয়তোষ তুমি একবার আমায় যদি দেখতে  হলফ করে বলতে পারি তুমিও এই বর্ষণে না ভিজে পারতে না , যাক সে সব কথা যা হওয়ার নয় তা নিয়ে ভেবে লাভ কি বল  প্রিয়তোষ  ্‌ আসলে তুমি যে কাজ সহজে পার আমাই পারি না   তুমি তোমার ব্যাস্ততার আড়ালে কত সহজে ভালবাসা কে তাচ্ছিল্য করে বেঁচে আছ  খুশি হয়ে , নাম ডাক প্রতিপত্তি আড়ালে কবর দিয়ে নতুন করে সাজিয়ে নিয়েছ ,যেন এমন্ টাই  স্বাভাবিক , কত সহজ করে বদলে ফেলতে পেরেছ নিজেকে ভালবাসা কে , , আমি দিন প্রতি দিন অবাক হই প্রিয়তোষ তোমায় দেখা …….. সত্যি প্রিয়তোষ আমায় কি এক মুহূর্ত আর তোমার মনে পড়ে না ? অথচ এই তুমি আমায় বলতে আমি যেন সারা  জীবন তোমাতে  বেঁধে বেঁধে  থাকি ,

সব এলোমেলো লাগে জান আমার আজকাল এত অগোছাল আমি কেমন করে এক তোমার বিহনে ? হয়তো তুমি আমার এ পাগলামো শনে হাসবে জানি , আমারশ যে সমস্ত জুড়ে তুমি প্রিয়তোষ বাকি পৃথিবীকে সব সময় তোমার পরেই রেখেছি ,

যাই হোক আজ  এবার রাখবো এই মুহূর্তে  আমার ভেতোর মহলের  মত বাইরী আকাশেও বৃষ্টি  শুরু হয়েছে ,

ভালো থাবে একই রকম যত্নে থেকবে সবসময়  থেকো ভালবাসায় ।

                 

                          ইতি তোমার বাসন্তিকা ,

Tuesday, 27 October 2020

বিহাইন্ড অফ স্যাডো

---------------------------

প্রথম দৃশ্যতে মেয়েটির শরীর বিছানায় উন্মুক্ত 
মুহুর্তে লোকটি ...... তুড়ি  মিস্টার রাজেশ চোহান 
শকুনের মত ঝাপিয়ে পড়ে যৌবন চুষে নিচ্ছিলো,,
মেয়েটার শরীর নিয়ে  চলছিল রাতভর  মাংসে খেলা
অনেক মেয়ে মিস্টার চোহানের বিছানায় আসে , 
এ মেয়ে যেন  আগুন পাখি উফ এমন সুখ আগে কেউ দিতে
পারেনি একটা পুরুষ প্রায় পঞ্চাশ এর ঘর পেরোনো তার 
শরীরকে এমন   করে সারারাত উত্তাল কাম ঝড়ে মাতিয়ে রাখা
এ মেয়ের শরীর এ হাজার সদ্য ফোটা পদ্ম আর সেই পদ্ম 
নিয়ে যেমন ইচ্ছা খেলা....। 
বেলা এগারোটা চোখ খুলেই রাতভরের খেলা 
ফ্লাসব্যাক হয়ে যায় রাজেশে র চোখের সামনে, 
বিছানা ছেড়ে ডাইনিংএ গিয়ে দেখে তিতির চৌধুরী
একঢাল কোঁকড়াচুলো পিঠের ওপর এলিয়ে কিছু
একটা পড়ছে,  সামনে গিয়ে রাজেশ চোহান দাড়াতেই
তিতির বলল ফ্রেস মরনিং স্যার,   আজ আমার ইন্টারভিউটা 
শেষ করবেন তো? প্লিস আজ শেষ করলে আমার একটু সুবিধে
হয়, সামান্য হেসে রাজেশ স্নানের জন্য চলে গেল। 

মুখোমুখি একের পর এক প্রশ্ন,  তিতির বাঘিনীর মত
উত্তর দেয় তার নিজেকে প্রস্টিটিউট বলতে কোথাও
লজ্জার লেশ মাত্র মনে আসে না,  বরং সে পুরুষদের
নিজের শরীরে বাঁকে খেলাতে এক উন্মত্ত আনন্দ পায় 
যখন কোন পুরুষ তাকে বিছানায় নিয়ে যায় সেই পুরুষের
লাগাম তিতির চৌধুরীর হাতে চলে আসে, 
রাজেশ প্রশ্ন করলো আপনার তো  কোনো অভাব নেই
তবে এই পেশা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন না কেন? 
নাকি আরো আরো টাকার লোভ আপনার মন থেকে   শরীরকে 
আড়াল করে দিয়েছে,?   তিতির বলল আসলে এসব পেশায় 
যারা আসে তাদের প্রত্যেকের একটা গল্প থাকে..... তিতিরের কথায়
বাঁধা দিয়ে রাজেশ  বিরক্তির সাথে  বলে উঠলো প্লিস আমায় আর 
ওই একঘেয়ে গল্প শোনাবেন না,  আপনাদের ওই একি গল্প টাকার এপিঠ আর ওপিঠ 
সব গল্প এক   আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু নো   দ্যাট  ডার্টি বোগাস   স্টোরি   । 
 তিতির চৌধুরী বলল...  এটা বোরিং বোগাস গল্প আপনার লাগবে না আমি শর্ত রেখে বলতে পারি স্যার।। 

রাজেশ চোহান নিজেকে খোলা আকাশের পাখির মত রেখেছে সব সময়,
সে নিজে বন্দি হবে না বলেই সংসার পাতেনি,   কোনো সহবাসে প্রেম আর প্রেমিকার
জন্ম হয়নি,  কারনটা দায়িত্ব আর বন্ধন থেকে নিজেকে দুরে রাখা,  তাই রাতের পর
রাত বিছানায় নতুন নতুন  সুন্দরী নারী শরীরের ঢেউ সে  উপভোগ করেছে একবার দুবার 
তারপর আবার নতুন শরীর, রাত গ্যায়ি বাত ভি গ্যায়ি, এভাবেই আজ পঞ্চাশ  সে
পার করে ফেলেছে।  কাজ পাগল লোক    নারী অধিকার  নারী সম্মান নিয়ে   ডকোমেন্ট্রি ,   ইন্টারভিউ,  ফ্রন্ট পেজ থেকে পেজ থ্রি নিউজ পেপার, গসিপ ম্যাগাজিনে পাতায় পাতায় রাজেশ চোহান এর লেখা মশলাদার খবরে চাহিদা 
আজ দু দশক ধরে রাজত্ব করছে,  লোকজন এই লোকটাকে মাঝেমধ্যেই ফেমিনিস্টও বলে থাকে  আর তাতে রাজেশচোহান এর বেশ গর্বই হয়।      লোকটা মনে করে সে  নিজের আয়নায় একজন পরিস্কার 
মানুষ, কাউকে ঠকায়নি কোনো রকম লেন্ দেন এ সে কারো ক্ষতি করেনি এবং এই অভিযোগে  জড়াতে চায়নি
বলে সে বিয়ে সংসার করেনি৷ তার    মনে হয় বিয়ে একটা এমন বন্ধন যেখানে অনেক অভিযোগ, কম পাওয়া
,নালিশ, অধিকার নিয়ে খসড়া থাকে একে অপরের ওপর দোষ... আর দুটো মানুষ কেবল একটা সামাজিক দায়
বয়ে বেড়ানোর তাগিদে একঘেয়ে সম্পর্কের বোঝা বয়ে চলে, তাই সে সব ঝামেলাই সে রাখেনি,   বিছানার সংগিদের সে মু মাংগ কিমত দিতে পিছপা হয় না,  নিজের আজাদ দুনিয়া পরিস্কার আকাশ কোথাও কৈফিয়ত দেবার প্রয়োজন তার কোনোকালেই নেই,   
তিতিরচৌধুরী উঁচু মহলের প্রস্টিটিউট নামি দামি লোকজন তাকে একরাত বিছানায় পাওয়ার জন্য বহুদিন আগে থেকে লাইনে থাকে...,, রাজেশ চোহান এর অনেক দিনের ইচ্ছা এই তিতির চৌধুরীর একটা ইন্টারভিউ আর একটা রাত বিছানায়, দুয়ে দুয়ে চার হয়ে যায় যেদিন নিউজ ডিপার্টমেন্ট "অজানা পথের খোঁজে " নিউজ সিরিজ নিয়ে রাজেশ চোহান এর ওপর দায়িত্ব দেয়,  এক মাস আগে আপ্যেয়েন্টমেন্ট নেয়,  আর তারপর তো রাজেশ চোহান তার সেক্স জীবনে মন আনন্দ আর বিস্ময়    আগে কখনো পেয়েছে বলে মনে করতে পারেনা, 
তো তিতির চৌধুরী আপনি চাইলেই এই নোংরা দুনিয়া থেকে একটা সুন্দর পৃথিবীতে
ফিরতেই পারেন যখন তখন থেকে যাওয়ার কি কোনো গোপন কারন আছে?  
তিতিরচৌধুরী - স্যার একটা প্রশ্ন আমি করতে পারি আপনাকে?   রাজেশচোহান বললেন   নিশ্চয়ই বলুন কি প্রশ্ন  
তিতিরচৌধুরী.... আপনি ব্যাচেলর কেন স্যার  আপনার কি.... অহ নো নো মিস তিতির  আমি বন্ধন মুক্ত থাকতেই ভালোবাসি আসলে আমি কখনো চাই না আমাকে কেউ আমার ইচ্ছেতে বাঁধা দিক আর বিয়ে সংসার একটা কম্প্রোমাইজ এর নাম  I'm not interested that's kind of things,        আমি আমার রাজত্বের একা অধিপত্যেই খুশি,, 
তিতির চৌধুরী বলল এবার আমার গল্পটা শুরু করা যাক স্যার  ....... 

প্লিস প্লিস কোনো গল্প না....., তিতির চৌধুরী রাজেশ চোহান এর কথায় কান না দিয়ে বলতে শুরু করলো 
 গল্পটা একেবারেই একঘেয়ে নয় আপনার ভাল লাগবে স্যার,  তারপর শুরু করল...  
একটা মেয়ে ছিল বেশ সুন্দরী বলা যায়  গরীব বাড়ির পেট চালানোর জন্য মায়ের সাথে লোকের বাড়িতে কাজ করতো, প্রায় সাত আটটা বাড়ি ঘুরে ঘুরে মা আর মেয়ে সারা দিন কাজ করে বেড়াতো মেয়েটার বাবা নিরুদ্দেশ ছিল,  তবে মা আর মেয়ের দু বেলা দুমুঠো জুটেই যেত পরের বাড়ি খেটে,  এর মধ্যে এক কাজের বাড়ির মালিকের মেয়েটিকে ভালো লাগে সে কথা মেয়েটির মা কে জানায়, বলে তার মেয়ে কে সে বিয়ে করতে চায়,  তবে এখনি নয় বছর খানেক সময় লাগবে,  গরীব  মানুষ বড়লোকদের মুখের ওপর খুব একটা কিছু বলতে পারে না  , তাছাড়া গরীবের মেয়ে খেয়ে পরে সুখে কারো ঘরনী হতে পারে এটা স্বপ্ন,  আর সে স্বপ্ন যখন নিজে হাতে ধরা দেয় কে বা না চায় তাতে ভাসতে,     মা আর মেয়ের তাই আপত্তি জানাতে চায়নি,  
রোজ রোজ ভাল লাগার পুরুষ সামনে আসলে দু এক কথা বিনিময় হবেই এভাবেই দিন পেরোয় কথা থেকে 
ভালোলাগা খোঁজে স্পর্শ  আর সেই স্পর্শ বাড়ায় লোভ আরো আরো , 
নিয়মিত  একটা নিরিবিলি সময়ে ছেলে মেয়ে দুটি  মিশে যায় অনাবিল আনন্দস্রোতে। 
এই ভালোলাগার স্রোত অভ্যাস হয়ে যায়,  আপত্তি কোথাও ছিল না কয়েক মাস পর 
মেয়েটি ছেলেটিকে জানায় তার পেটে ভালোবাসা জন্ম নিয়েছে ,  সমাজ এবার  সৃকৃতি    চাইবে, 
ছেলেটি চুপ থাকলো কিছুক্ষণ,  তারপর বলল আজ বাড়ি যাও আমি ভাবছি এর মধ্যে কিছু একটা, 
পরের দিন মা কাজে এলে ছেলেটা তার হিরের আংটি চুরি গেছে বলে জানায় এবং সাফ জানিয়ে দেয়
মা কে.... তোমার মেয়ে এই কাজ করেছে, গরীব ভিখারির জাত বড়লোক বাড়িতে ঢুকে কাজ করার নামে চুরি করে, এখনি তার মেয়েকে পুলিশের কাছে নিয়ে জেতে চায়,,  গরীব মা ভয়ে কান্না কাটি করে বলে বাবু আমরা গরীব কিন্তু চোর নই আপনি আমাদের বাড়ি গিয়ে খুঁজে দেখে নিন,  ছেলেটি বলে সে জিনিস তোমরা যে বাড়তে রাখবে না সে জানা আছে, তবে পুলিশের লাটি পড়লে সব বেরিয়ে আসবে, ওই মেয়ের মুখ দিয়ে পুলিশ ঠিক সব উগরে নেবে....,   পা ধরে গরীব মা কাকুতি মিনতি করতে লাগলো   বাবু পুলিশ ডাকবেন না আপনি নিজে ইচ্ছে মত শাস্তি দিন দয়া করে পুলিশ ডাকবেন না, আমি    দরকার পড়ে মেয়েকে নিয়ে দুরে কোথাও চলে যাব আজ এখনই, 
ছেলেটা কিছুক্ষণ চুপ্ থেকে বলল ঠিক আছে আমি পুলিশ ডাকবো না তবে তোমাদের আর যেন এই তল্লাটে না দেখি,
মা আর মেয়ে তারপর হারিয়ে গেছিল তাদের আর ওই শহরে কেউ দেখেনি,  ছেলেটা নিজের দুনিয়ায় ব্যাস্ত হয়ে গেছিল ভুলে গেছিল সামান্য ঘটনার মত, 
তিতির চৌধুরীর  এখন বয়স  বাইশ  মা মারা গেছে বছর পাঁচেক হল দিদার সাথেই  মুম্বাইয়ে লোনাওয়ালায় নিজের বাংলোয় থাকে তার দিদা তার প্রিয় বন্ধু  ফিলোসাফার,  তবে তিতির কে নিয়ে তার দিদার চিন্তা সেযে
আর পাঁচটা মেয়ের মত স্বাভাবিক নয়, ওর ভেতোর আগুন   জ্বলে সারাক্ষণ 
সে আগুনে তিতির পোড়ে কম পোড়ায় বেশি, আর তার জীবনের লক্ষ্য
বড় ভয়ংকর  একটা প্রতিশোধ আর তার মা কে দেওয়া প্রতিশ্রুতি তিতিরকে
ঘুমাতে দেয় না, শত্রুকে তার নিজের জমিতে কবর দিতে পারলে তবেই তিতিরের শান্তি। 
রাজেশ চোহান কপালের ঘাম মুছছিল হঠাৎ ঈশানী মেঘে আর পরিস্কার 
আকাশ অন্ধকার করেদিল, নিজের কাছে নিজেকে এত ছোট হতে হবে কেউ ভাবতে পারে না, 
মুহুর্তে মৃত্যু আসলে বোধহয় রাজেশ চোহান  সব থেকে খুশি হত, তেইশ বছর আগে যে বীজ  পোঁতা 
হয়ে গেছিল খেলার ছলে আজ সে মহিরুহের ঝুরিতে নাগপাশ বন্দি.... লজ্জায় ঘেন্নায় নিজেকে ক্ষমা করবে কি করে মিস্টার ক্লিন রাজেশ চোহান। 
তিতির চৌধুরী তার সিলিং ব্যাগটা হাতে নিয়ে সানগ্লাস টা চোখে রেখে বলল good bye মিস্টার চোহান 
Nice to meet u sir।                                                                   
                                                                    
                       
                

Monday, 10 August 2020

বিভূতিভূষণ বন্ধপাধ্যায়

 

"শিক্ষা দ্বারা মানুষ নিজেকে নিজে পায়

এইটাই জীবনের বড় লাভ",

                                বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়,

 এই উক্তিটি মানুষের জীবন ধারায় অবিরত প্রযোজ্য ,  যে মানুষটি এমন অন্তর্নিহিত সত্যিটা সুন্দর করে জনসম্মুখে প্রকাশ করেছেন আজ তার সম্বন্ধে কিছু কথা লেখার  সুযোগ "সংকল্পকলম"এর হাত ধরে আমরা পেয়েছি ।

এই মানুষটি সম্বন্ধে কিছু লেখার চেষ্টা বাহুলতা ছাড়া কিছু নয় তবুও দু এক কথা তাকে নিয়ে আমাদের  উৎসর্গকৃত কলমের  নিবেদন .........


উত্তর চব্বিশ পরগনার কাঁচড়া পাড়ার কাছে মুরাতি পুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন

বিভূতিভূষণ বন্ধপাধ্যায়, সংস্কৃত মহা পন্ডিত মহানন্দ বন্ধপাধ্যায় ও মৃনালিনী দেবীর

পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি  জ্যেষ্ঠ সন্তান , ছোট বেলা থেকে তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন ,

প্রথমে গ্রামে ইংরাজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে তার পড়াশোনা শুরু হয় পরে কলকাতার রিপন

কলেজ ( বর্তমান সুরেন্দ্রনাথ )  থেকে আই এ , বি এ, পাশ করেন এরপর একি

কলেজে তিনি এম এ ও  আইন নিয়ে পড়া শুরু করেন, তবে ১৯১৯ সালে তিনি পড়াশোনা

ছেড়ে দেন , এই সময়  হুগলি জেলার বসিরহাট নিবাসী মুখোপাধ্যায় কন্যা গৌরী দেবীর

সাথে বিয়ে হয় , বিয়ের এক বছরের মধ্যে তার স্ত্রী বিয়োগ হয় , পরে ১৯৪০ সালে ফরিদপুর

জেলার ষোড়াষীকান্ত চট্টোপাধায় মহাশয়ের কন্যা রমা দেবী কে বিয়ে করেন ,

বিভূতিভূষণ বন্ধপাধ্যায়  ছিলেন একজন জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তিনি মূলত উপন্যাস ছোটগল্প

লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। 

 "হারানো যৌবন এর দিকে চাহিয়া দেখিলে বুকের মধ্যে কেমন করিয়া ওঠে ,কত কথা মনে পড়ে জীবনের সেসব দিনকে আর একটিবারও ফেরানো যাবে না ?

"পথের পাঁচালির " এই উক্তি আমাদের পাঠকগণ কে আজীবন নাড়া দেয় ,  এছাড়া এমন আরো বাস্তব ছোঁয়া তার উক্তি যেমন  

"সংসার যে কি ভয়ানক জায়গা দুঃখে কষ্টে না পড়লে বোঝা যায় না " আমাদের জীবন সংগ্রামের প্রতিটি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে পাথেয় হয়ে ওঠে । "অপরাজিত" ও তাঁর সবচেয়ে   পরিচিত উপন্যাস গুলির মধ্যে

বিখ্যাত। অন্যান্য উপন্যাস  আরন্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল ইছামতী  অশনি সংকেত  বিশেষভাবে

 উল্লেখযোগ্য। উপন্যাসের পাশাপাশি বিভূতিভূষণ প্রায় ২০টি গল্পগ্রন্থ, কয়েকটি কিশোরপাঠ্য উপন্যাস

ভ্রমণকাহিনি এবং দিনলিপিও রচনা করেন। বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালী  উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ

রায়  পরিচালিত চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন । ১৯৫১ সালে ইচ্ছামতী উপন্যাসের জন্য

বিভূতিভূষণ পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার রবীন্দ্র পুরস্কার  (মরণোত্তর) লাভ করে,

আমরা আমাদের ‘সংকল্পকলমের’ সামান্য আত্মিক প্রয়াসে পথে সবেমাত্র প্রথম পদক্ষেপ পার করেছি,

দ্বিতীয় পদক্ষেপের প্রথম আলোর অঞ্জলি হিসেবে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্ধ্যপাধ্যায় কে

নানান প্রয়াসে শব্দগুচ্ছের বুননকে উৎসর্গ করে শ্রদ্ধা জানাই ।

Thursday, 25 June 2020

তৃতীয় চিঠি

প্রিয়তোষ ,
  সকাল বেলায় জানলার কাঁচ বেয়ে শিশির জল গড়িয়ে নামছে যেমন আমার ভেতর তুমি , আজ আবার তোমার সাথে কাগজে কলমে  ....খবরের 
কাগজে পেজ থ্রী র স্টোরিতে তুমি সাথে তোমার প্রিয় বান্ধবী ,বেশ মানানসই তোমরা যেন রুপকথার রাজা রানী, তাই না? 
জানি মনে মনে হাসছো তুমি,  কোন এক দিন তুমি তোমার বাসন্তিকা কে   মহারানী  বলে ডাকতে, আমি  জানতে চাইলে বলতে তোমার বাসন্তিকা তোমার মনের সামরাজ্যের মহারানী তাই তাকে সেই সম্মানে ভূষিত করাই  যথাযথ,  আজ কেন জানি না সব স্বপ্ন মনে হয়, সেই তুমি বদলে যাচ্ছ ক্রমশ, ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের কথা দেওয়া নেওয়ার অলিখিত চুক্তি পত্রের স্বাক্ষর থেকে কালির দাগ,  
  
  তুমি ও তোমার বিশেষ বান্ধবী   রং মিলয়ে দুজনে  আজ এক রঙা পোষাকে বিশেষ ভঙিমায় যথেষ্ঠ   আবেদনকারি, 
,   হয়তোবা কোনো নামি ডিজাইনারের বিঞ্জাপন নিবেদন , তোমার এই বান্ধবী এখন আমেরিকার  সাহিত্য খবরে শীর্ষ স্থানে ,শুনেছি তোমার  লেখা গল্পের এক নামকরা বাঁচিক শিল্পী ,
ভীষণ আত্মিক তার পরিবেশন, শ্রোতারা নাকি বলেন তোমার গল্পের কথক পরিবেশনের সে একাই নাকি দাবিদার, তার মত করে তোমার লেখার মূল্যায়ন এখনো কেউ কর‍তে পারেনি, 
আমি জানি শ্রোতাদের সাথে তুমি একমত, হয়তোবা তোমার জীবন আংগিকেও  সে যথেষ্ট
মুল্যবান,  তোমার ভালো হোক এই চাওয়া আমার নিরন্তর থাকবে,        
যাই হোক ভালো আছো বুঝতে পারি শুধু তাই নয় তুমি সাফল্যের আকাশচুম্বী পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছো  । জান প্রিয়তোষ আজ তোমার দেওয়া  শান্তিনিকেতন এর শাড়িটা পড়বো আজ বাইশে শ্রাবণ তুমি  সেবার আমায় সিল্কের শাড়ি পরে কবিগুরুর অনুষ্ঠানে কবিতা বলতে দেখে পরের দিন এই শাড়িটা  হাতে দিয়ে বলেছিলে এরপর কবিগুরুর কোনো অনুষ্ঠানে গেলে আমি যেন এই শাড়িটা পরি , আমার কাছে অবশ্য এই শাড়িটা  মনে তুমি  শাড়িটা পরলে মনে হয় আমায় জড়িয়ে তুমি ,  তোমার এই নিরুত্তর ভাবে দূরে থাকাই তুমি আমার ভেতর এক  সমুদ্র হয়ে উঠেছ , হয়তো আরো গভীরে যাচ্ছ আমার ভেতর  বেড়ে উঠছ মহিরূহ হয়ে ।  তুমি যদি এই চিঠি পড় তাহলে বলবে জানি আমি  
এসব সময়ের অপচয় ....প্রিয়তোষ একসময় তুমি বিকেলে পড়ন্ত আলোয়  মিলি দের চিলেকোঠার ছাদে আমার চোখের দিকে অনমনা হয়ে তাকিয়ে থাকতে আমি কিছু বললে বলতে ডুবতে দাও গভীরে  ওই ঝিলের গভীরে এক তলহীন হৃদয় রাখা আছে সে হৃদয়ে রাখা আমার প্রাণভোমরা ....আমি হেঁসে ফেলতাম , আর দেখ 
আজ আমার কাছে সেই দিনগুলোর কথা  অমুল্য রতন হয়ে উঠেছে । 
 এসব  আমার কাছে রোজ স্বপ্ন আর স্মৃতি   এখন, তোমার এখন বস্তা পচা লাগে নিশ্চয়ই  এসব পুরনো কথা,  
সময় কি পাও আমার চিঠি পড়ার  জানি না , গত চিঠিগুলো র উত্তর দাওনি , হয়তো সময় কম ,
পরের বার যদি সময় পাও সামান্য দু এক  কথা লিখে পাঠিও   ,তোমার স্পর্শ থাকবে তাতে 
তোমাকে মিস করছি যে খুব  প্লিস একটা ফোন করো সময় পেলে, 
ভালো থেকো প্রিয়তোষ ....আমি ভালো থাকার চেষ্টা করছি রোজ একদিন ঠিক জানি তুমি শিখিয়ে দেবে ,  আজ আসি ভালবাসা রইলো রইল স্নিগ্ধ আলিংগন  ।
        ........  ইতি  তোমার বাসন্তিকা 

Saturday, 13 June 2020

এমন কেন হয়

---------------------------- 

তোমাকে বুঝতে পারি না সৃজিত, দশ বছর তোমার সাথে
সংসার করার পরও তুমি  অচেনা থেকে গেলে, তোমার চাওয়াটুকু
যে ঠিক কি এত চেস্টা করে আমি জানতে পারলাম না, আর তোমায় বুঝতে চাইও না 
এক মুহুর্ত, অসুস্থ লোক তুমি ,     তিন্নি কথাগুলো
বলতে বলতে তুতুন কে নিয়ে পাশের ঘরে চলে গেল, 
তিন্নির মনের ভেতোর  এমন ঝড় বহু বার উঠেছে  সৃজিত কে নিয়ে,  এত
ভালোবাসে তিন্নি সৃজিতকে  তবুও অসংখ্য নারী সৃজিতের জীবনে,
, খোলা আকাশের  মত করে ছেড়ে দিয়েছে তিন্নি কখনো মুঠো বন্ধ করেনি  তবু 
সৃজিতের  কি এক     খোঁজ সময়ে স্রোতে হাজারো নারী ছুঁয়ে তার পথ
চলা,  প্রথম আলাপ হওয়ার পরেই সৃজিত তার জীবন জুড়ে অজস্র নারীর
যাওয়া আসার কথা তিন্নিকে জানিয়েছিল, তিন্নির সাথে সম্পর্কে আসার কিছুদিন পর
সৃজিত তাকে আদোর করে বলেছিল তার জীবনে তিন্নিই শেষ নারী ,  কথাটা 
কাব্যিক শোনালেও মেনে নিয়েছিল তিন্নি, কারন সৃজিত কে সে ছোটো শিশুর মত করে যত্ন করে রাখত 
   
 অথচ বছর চার যেতে না যেতেই সৃজিত নিজের কথা থেকে সরে এসেছিল,  এক দিন জামাকাপড়
কাচতে গিয়ে তিন্নি ফাস্ট শোএর দুটো সিনেমার টিকিট পেয়েছিল,  জানতে চাইলে সৃজিত
বলেছিল হয়তো সিগারেট এর দোকানে  দেশলাই নিতে গিয়ে  দেশলাই বাক্সের সাথে চলে  এসেছে 
তারাহুড়োয় দেখিনি, তিন্নি আর কিছু জানতে চাইনি বিশ্বাস করেছিল কিনা সে কথা তিন্নিই জানে,  
সৃজিত এম. আর.  বাড়ির বাইরেই বেশি থাকতে হয় ডক্টরমিট লেগেই থাকে  তার সাথে 
বান্ধবী এক্সপ্লোর সমান ভাবেই চলে,  সৃজিত এর ইনবক্সে পুরুষ বন্ধুর কনভারসেশন এর
থেকে মহিলা বান্ধবীদের মনের হদিস বেশি তারা তাদের জুতো সেলাই থেকে চন্ডিপাট 
সব কথাই সৃজিত এর পরামর্শ ছাড়া বা সৃজিত কে না জানিয়ে করে না,  কোনো কোনো
বান্ধবীর পিরিয়ডের ডেট এবং ব্রা এর সাইজও সৃজিতের না জানা নয়,  তিন্নি যতই উদার
মনের মানুষ হোক কোথাও একটা বুক চাপা গোপোন যন্ত্রনা বাড়তেই থাকে এসব নিয়ে,  ই
অনেক বার
বলা সত্বেও সৃজিত থামেনি   কিছু দিন চুপ থাকে আবার পুরোনো রুপে ফিরে যায়, 
তিন্নি নিজে একজন নামি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, যেকোন   আইডি হ্যাক করা ওর কাছে 
খুব সহজ, তিন্নি জানে এসব অপরাধ,  ইদানিং তিন্নি সৃজিত কে আর চিনতে পারে না 
তিন্নির উপস্থিতি সৃজিতের  খেয়ালের বাইরে  একবারও কাছে বসে দু দন্ড কথা বলে না 
সারাক্ষন ব্যাস্ততার অজুহাত,  অথচ তিন্নির চাওয়া খুব সামান্য একটু কাছে বসা একটু জড়িয়ে ধরে
বুকের কাছে রাখা,  এসব এখন তিন্নির কাছে স্মৃতি আর
স্বপ্ন, সৃজিতের বান্ধবী মনস্কা স্বভাব সৃজিতের কাছ থেকে
এক মুল্যবান মন কে সরিয়ে নিচ্ছে হত্যা করছে নিজে সৃজিত
সেটা সে বুঝতে পারছে না, 
আজ তো সব গন্ডি পার করে ফেলেছে তিন্নি,  যদিও শুরুয়াতটা   সৃজিতের
হাতেই হয়,  জামাকাপড় গোছাতে গিয়ে  তিন্নি দেখে সৃজিতের টি সার্টে 
গোলাপি লিপস্টিকের দাগ এরপর আর পারেনি নিজেকে চুপ রাখতে 
সোজাসুজি সৃজিত কে প্রশ্ন করলো তুমি কি চাও বল আমাকে কি তোমার জীবনে কোথাও কোনো 
প্রয়োজন আছে পরিস্কার বল,  সৃজিত  মিথ্যা সাজিয়ে বলেগেল বাসে ভিড় ছিল কে ঠেলাঠেলিতে
কাছ ঘেঁষে গেছে হয়তো তাই.....,  তিন্নি সৃজিতের ল্যাপটপ টা টেবিল থেকে নিয়ে এসে
সৃজিতের সামনে রাখলো আর বলল তুমি বলবে না আমি বলবো,  সৃজিত মেজাজ দেখিয়ে 
বলল কি বলতে চাও? ছুটির দিনে তুমি কি শান্তিতে বাড়িতে থাকতেও দেবে না,  তিন্নি আর কিছু কথা 
না বাড়িয়ে সোজা সৃজিতের ল্যাপটপ খুলে ওর মিডিয়া একাউন্ট হ্যাক করে সৃজিতের সামনে ঘুরিয়ে রাখলো
ল্যাপটপটা, শুধু বলল আচ্ছা সৃজিত আমায় বলবে এত এত নারীকে এক সাথে একজন পুরুষ কি ভাবে ভালবাসতে পারে! প্লিস   ডেসক্রাইব মি,  সৃজিত চুপ ছিল উত্তর হয়তো ফুরিয়ে গেছিলো এই মুহুর্তে, 
তিন্নি শেষে বললো প্লিস আমায় মুক্তি দাও আমি আর পারছি না,  সৃজিত বিছানা ছেড়ে উঠে তিন্নিকে জড়িয়ে
বললো তুমি ভুল বুঝছো..... সাথে সাথে এক ঝটকায় তিন্নি সৃজিত কে সরিয়ে 
দিয়ে বলল   তোমাকে  আর কোনো রকম বিরক্ত না করে আমি তুতুন কে নিয়ে চলে যাচ্ছি, , আবার সৃজিত তিন্নির হাত টা ধরতে গেলে  হাত সারিয়ে  তিন্নি তুতুনকে  আঁকড়ে ফুপিয়ে উঠলো, মায়ের জড়িয়ে ধরায়  পাঁচ বছরের তুতুনের 
ঘুম ভেঙে গেল আর সাথে সাথে ওই কথাগুলো বলতে বলতে তিন্নি পাশের ঘরে গিয়ে ধড়াম করে দরজা ছিটকিনি তুলে দিল তারপর জামা কাপড় গুছিয়ে নিয়ে তুতুনের হাত ধরে টানতে টানতে বাড়ির মেন দরজা খুলে 
বেরিয়ে গেল সৃজিত বার বার ডাকা স্বত্বেও আর পিছন  ফিরে তাকাতে তিন্নির  ইচ্ছা হল না... শুধু মনে মনে 
বলল ভালবাসা বলে পৃথিবীতে আসলে কিছু নেই।                                                                

Thursday, 11 June 2020

দ্বিতীয় চিঠি

---------
প্রিয় প্রিয়তোষ, 
কেমন আছো নতুন উন্নত সভ্যতার দেশে? ভালো
না থাকার সামান্য কারন নেই সে  কথা জানি 
কাল তোমার বাড়িতে গিয়েছিলাম তোমার বাবার
অসুস্থতার খবর পেয়েছিলাম তোমার পিসতত দাদা ....রঞ্জন্ দার থেকে , মনটা 
আনচান করছিল,  জানি তুমি শুনে খুশি হওয়ার থেকে
বিরক্ত হচ্ছ বেশি,  তবু তোমার সাথে তোমার চারপাশকে
আলাদা করে ভাবিনি কখনো তাই তোমার অসন্তুষ্ট হওয়া
স্বত্তেও গেছিলাম ও বাড়ি,  তোমার বাবা আমায় দেখে খুশি হয়ে বললেন মা রে তুই আমার দেখতে আসবি আমি জানতাম , শুধু খবরটা কার কাছে পাবি সেটাই বুঝে উঠতে পারিনি , আমায় কাছে ডেকে বসলেন জিগ্যেস করলেন ভালো আছি কিনা , মুখে বললাম ভালো আছি অথচ তোমার বাবাও হয়তো টের পেয়েছেন ভালো থাকা বলাটা মুখের সাথে চোখের ভাষা মিলিয়ে নিতে পারেনি ,
কেন বলতো প্রিয়তোষ আমার ভালো থাকার একটা শক্ত খুঁটি চিরকাল তুমি হয়ে থাকলে ,অথচ সেই তুমি আমি বিহীনে দিব্য ভালো আছো ,ব্যাস্ততা মানুষ কে কাছের মানুষের থেকে এমন দূরে করে দেয় তোমায় এই সময়ে না দেখলে আমার জানাই হয়তো হয়ে উঠতো না , কিজানি .......
হয়তো এসব আমার দুর্বল মনের নিছক ধারনা  তবুও  তোমার
অসম্ভব ব্যাস্ততম দিন রাতে আমি যে তেমন একটা নেই
সেটুকু বুঝতে পারি ইদানিং,  
আজ দ্বিতীয় বার তোমার সাথে চিঠি কলমে মুখোমুখি
হচ্ছি,  আজ আর তেমন অস্থিরতা নেই,  তোমায় এত দিন
না বলা কথা গুলো হুড়মুড় করে কলমের নিবে জায়গা
করতে ব্যাস্ত আজ,  শুনেছি তুমি আবার কলম খাতার 
মুখোমুখি হও নিয়মিত,  ওদেশে তোমার লেখার 
পাঠক সংখ্যা এর মধ্যে নেহাত কম নয়,  গত সপ্তাহে
টাইমস অফ ইন্ডিয়া র প্রথম পেজে তোমাকে দেখলাম 
অনেক ক্ষন...... জান প্রিয়তোষ অনেক্ক্ষণ চোখ সরাতে 
পারিনি, হাতের স্পর্শে তোমার ছবিতে তোমার উপস্থিতি
খুঁজে নিজের ভেতোরের উত্তাল ঝড় থামিয়েছিলাম, 
তোমার ওদেশে লেখা ছাপার খবর প্রথম জানতে পারি 
তোমাদের বাড়ি থেকে,  শুনে খুব খুশি হয়েছি... তুমি 
.বরাবর খুব ভালো লেখো, পাঠক তোমার লেখায়
নিজেকে খুব কাছ থেকে রিলেট করতে পারে  আর সেই জন্য
তোমার লেখা আজ আমেরিকার মত দেশেও জনপ্রিয়তার
শিখরে,  
প্রিয়তোষ আজ তোমায় শুভেচ্ছা জানাব বলেই এই 
চিঠি,  তোমার প্রতিটা সাফল্যে আমার অফুরান শুভেচ্ছা
থাকেই,  আজও তার অন্যথা নেই,  তুমি বরাবর আমার 
হাতের কাজ করা হাত রুমাল পছন্দ করতে.... এখন
হয়তো সে অভ্যাস বদলেছ  অনেক অভ্যাসএর মতই, 
আজ তোমায় এই রুমালে  সূঁচ সুতোয় গেঁথে পাঠালাম
আমার শুভেচ্ছার ওম। 
আজ আর এর  থেকে বেশি কিছু বলার নেই,  সবসময়
ভালো থেকো  প্রিয়তোষ,  আমি ভালো মন্দ মিশিয়ে
আছি থেকেও যাব ,  সময়ের অবসরে সময় হলে আমায় দু এক কথা 
লিখে পাঠিও,   তোমার উপস্থিতি ভীষণ ভাবে হাতড়ে বেড়াই ,  আজ আসি। 
.............ইতি তোমার বাসন্তিকা             

Wednesday, 10 June 2020

প্রথম চিঠি

----------------------------
প্রথম তোমায় আজ লিখতে বসেছি,  কলম আর 
আমি ভীষণ রকম অস্থির সাদা কাগজে ঠিক 
কোন কথাটুকু    প্রথম পরিবেশন করবো বুঝে 
উঠতেই  খেই হারাচ্ছি,   আমার যে কোনো কালেই
কাগজে কলমে তেমন সখ্যতা নেই সে তো তোমার অজানা নয়, 
অথচ তোমার  সামনে বসে অনর্গল হাবিজাবি শব্দ বুনতে 
আমাকে মুহুর্ত ভাবতে হয়নি কোনো দিন, 
ঘরের ভেতোর  দেরাজ বন্দি আমার শব্দরা তোমাতে 
আকাশ খুঁজে নিজেদের সাবলীল ভাবে হারাতেই
খুশি চিরকাল, 
তোমার আমার থেকে বিভুঁই হওয়া আজ ছয় মাস দশ দিন 
আট ঘন্টা হল,  প্রথম তিন দিন পর টেলিফোনে জানিয়ে
ছিলে ভালো ভাবেই পৌছেছো , সব গুছিয়ে নিতে কিছু
দিন সময় লাগবে...... তাই কিছু দিন সময় চেয়ে নিয়েছিলে, 
তোমার নতুন শহর নতুন কর্মকান্ডের সাতসতেরো শুনব
বলে রোজ সময় গুনেছি  বিয়োগ ফলে,  
আঠেরো দিন পর তোমার গলা  আবার দ্বিতীয় বার 
আমায় স্পর্শ করলো... বললে  কাজের চাপ নাকি খুব 
অনেক রাতে বাড়ি ফেরো, চিঠিতে বিস্তারিত লিখবে 
ভেবেও সময়ে কুলোতে পারোনি,   আমি যেন না ভুল
বুঝি ,  কোন টেলিফোন  নাম্বার এই মুহুর্তে তুমি দিতে পারছো না, 
কারন নিজস্ব টেলিফোন এখনো আসেনি,,  বরং আমায়
একটা ঠিকানা লিখে নিতে বললে আর সেই ঠিকানায় চিঠি 
লিখতে বললে,.... তোমার গলার শব্দরা  সেদিন
.ব্যাকুল তিস্তার মত বাঁধ  ভেঙে ছিল আমার ঘরকন্নার,
অথচ তোমায় বললাম..... আমায় নিয়ে ভেবো না তুমি
মন দিয়ে কাজ করো নতুন যব তোমার,  আমি তো আছি, 
নিজের যত্ন নিও ,  আমি ভালই আছি,,  আর কিছু বলতে
পারিনি আমার শব্দরা অদ্ভুত আড়ষ্টতা  আমার তুমি কে
হাতড়ে বেড়াচ্ছিল।  
আজ এত গুলো দিন কাল মাস পার হয়ে গেল,  মনে
হল তোমার ব্যাস্ততায় আমি হয়তো বাড়তি হয়ে উপচে
কোথায় ভেসে  গেছি ।  মন কে অনেক বার বুঝিয়েছি
তোমার ব্যাস্ততার কথা,  এই কয়েক মাসে তোমাদের 
বাড়িও গেছি বার দশেক,  তোমার মা৷ বাবা ভালই আছেন
তোমার বৌদিকে তোমার কথা জিগ্যেস করতেই বললেন
তুমি একদিন ছাড়া ছাড়াই বাড়িতে টেলিফোন করে সকলের
সাথে কথা বলো ,  ভালই আছো নতুন পরিবেশে,   
অফিসে  উইকেন্ডে ছুটিও পাও
সেই ছুটির দিন গুলো তুমি বেলা পর্জন্ত ঘুম সেরে  নতুন 
বন্ধুদের সাথে সময় কাটাও, কখনো তোমার বাড়িতে আসে 
বন্ধুরা কখনো তুমি যাও,।   
সে দিন বাড়ি ফিরে বুকের ভেতোরটা হঠাৎ খাঁ খাঁ করতে
থাকলো ,  খানিক পরে  বৃষ্টি নেমেছিল 
চিলেকোঠার ছাদে আমার একার জন্যে আঝোর ধারায় বৃষ্টি,  
ভিজেছিলাম ঘন্টা দুয়েকর বেশি,  পরের দিন থেকে ধুম জ্বর 
টানা এক সপ্তাহ চোখ খুলতে পারিনি জান জ্বরের ঘোরে 
ভুল বকেছি সারাটা সময়,  মা বলছিলেন ডক্টর  জ্বরের 
তেমন কোন কারন খুঁজে পায় নি,  বাবা কিছু একটা আন্দাজ
করতে পেরেছিলেন একটু সুস্থ হতেই  মা কে বললেন আমারা
কিছুদিন আমাদের কার্শিয়াং এর বাড়িতে থাকতে  যাব, 
 প্রিয়তোষ   নিজের শহর ছেড়েছি আজ তিন মাসের বেশি 
তোমায় এক মুহূর্ত ছাড়তে পারিনি, মনকে বুঝিয়েছি সত্যি তুমি 
ব্যাস্ত   সময় পেলে নিশ্চয়ই খবর দেবে আর আমার খবর নেবে, 
কার্শিয়াং আসার আগে তোমার বৌদির কাছে এখানের ঠিকানা
 দিয়ে এসেছিলাম  আর এখানে আসার পর তোমাদের বাড়িতে টেলিফোন
করে তোমার বৌদিকে এখানের টেলিফোন নাম্বারটাও দিয়ে রেখেছিলাম, 
কয়েক দিন আগে ফোন করেছিলাম তোমাদের বাড়িতে সকলের
খবর নিয়ে তোমার কথা জানতে চাইলাম তোমার বৌদির কাছে 
, আমায় বললেন তোমায় নাকি আমার টেলিফোন নাম্বার আর ঠিকানা
দুটোই  জানিয়েছে বহুদিন আগেই,  
আজ মন আর আমার কথা শুনলো না প্রিয়তোষ,  তোমার ঠিকানায় 
আমার প্রথম শব্দদের অধিবাস আজ,  কাগজে কলমে তোমায়
এত অচেনা লাগছে কেন? .... কি লেখা উচিৎ আর কি নয়! 
ভেবে কুল করতেই দিন শেষ,  
আসলে এমন করে তোমায় কখনো যে চিঠি
লিখতে হবে জানতাম কই,   যাইহোক সময়ের
অবসরে সময় যদি পাও দু এক কথা লিখো 
কিংবা কয়েক টুকরো গলার আওয়াজ পাঠিও টেলিফোনে,  
আজ রাখি..... ভাল থেক সবসময় প্রিয়তোষ। 
.........ইতি তোমার  বাসন্তিকা ,