Monday, 10 August 2020

বিভূতিভূষণ বন্ধপাধ্যায়

 

"শিক্ষা দ্বারা মানুষ নিজেকে নিজে পায়

এইটাই জীবনের বড় লাভ",

                                বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়,

 এই উক্তিটি মানুষের জীবন ধারায় অবিরত প্রযোজ্য ,  যে মানুষটি এমন অন্তর্নিহিত সত্যিটা সুন্দর করে জনসম্মুখে প্রকাশ করেছেন আজ তার সম্বন্ধে কিছু কথা লেখার  সুযোগ "সংকল্পকলম"এর হাত ধরে আমরা পেয়েছি ।

এই মানুষটি সম্বন্ধে কিছু লেখার চেষ্টা বাহুলতা ছাড়া কিছু নয় তবুও দু এক কথা তাকে নিয়ে আমাদের  উৎসর্গকৃত কলমের  নিবেদন .........


উত্তর চব্বিশ পরগনার কাঁচড়া পাড়ার কাছে মুরাতি পুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন

বিভূতিভূষণ বন্ধপাধ্যায়, সংস্কৃত মহা পন্ডিত মহানন্দ বন্ধপাধ্যায় ও মৃনালিনী দেবীর

পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি  জ্যেষ্ঠ সন্তান , ছোট বেলা থেকে তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন ,

প্রথমে গ্রামে ইংরাজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে তার পড়াশোনা শুরু হয় পরে কলকাতার রিপন

কলেজ ( বর্তমান সুরেন্দ্রনাথ )  থেকে আই এ , বি এ, পাশ করেন এরপর একি

কলেজে তিনি এম এ ও  আইন নিয়ে পড়া শুরু করেন, তবে ১৯১৯ সালে তিনি পড়াশোনা

ছেড়ে দেন , এই সময়  হুগলি জেলার বসিরহাট নিবাসী মুখোপাধ্যায় কন্যা গৌরী দেবীর

সাথে বিয়ে হয় , বিয়ের এক বছরের মধ্যে তার স্ত্রী বিয়োগ হয় , পরে ১৯৪০ সালে ফরিদপুর

জেলার ষোড়াষীকান্ত চট্টোপাধায় মহাশয়ের কন্যা রমা দেবী কে বিয়ে করেন ,

বিভূতিভূষণ বন্ধপাধ্যায়  ছিলেন একজন জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তিনি মূলত উপন্যাস ছোটগল্প

লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। 

 "হারানো যৌবন এর দিকে চাহিয়া দেখিলে বুকের মধ্যে কেমন করিয়া ওঠে ,কত কথা মনে পড়ে জীবনের সেসব দিনকে আর একটিবারও ফেরানো যাবে না ?

"পথের পাঁচালির " এই উক্তি আমাদের পাঠকগণ কে আজীবন নাড়া দেয় ,  এছাড়া এমন আরো বাস্তব ছোঁয়া তার উক্তি যেমন  

"সংসার যে কি ভয়ানক জায়গা দুঃখে কষ্টে না পড়লে বোঝা যায় না " আমাদের জীবন সংগ্রামের প্রতিটি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে পাথেয় হয়ে ওঠে । "অপরাজিত" ও তাঁর সবচেয়ে   পরিচিত উপন্যাস গুলির মধ্যে

বিখ্যাত। অন্যান্য উপন্যাস  আরন্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল ইছামতী  অশনি সংকেত  বিশেষভাবে

 উল্লেখযোগ্য। উপন্যাসের পাশাপাশি বিভূতিভূষণ প্রায় ২০টি গল্পগ্রন্থ, কয়েকটি কিশোরপাঠ্য উপন্যাস

ভ্রমণকাহিনি এবং দিনলিপিও রচনা করেন। বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালী  উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ

রায়  পরিচালিত চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন । ১৯৫১ সালে ইচ্ছামতী উপন্যাসের জন্য

বিভূতিভূষণ পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার রবীন্দ্র পুরস্কার  (মরণোত্তর) লাভ করে,

আমরা আমাদের ‘সংকল্পকলমের’ সামান্য আত্মিক প্রয়াসে পথে সবেমাত্র প্রথম পদক্ষেপ পার করেছি,

দ্বিতীয় পদক্ষেপের প্রথম আলোর অঞ্জলি হিসেবে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্ধ্যপাধ্যায় কে

নানান প্রয়াসে শব্দগুচ্ছের বুননকে উৎসর্গ করে শ্রদ্ধা জানাই ।