Friday, 29 November 2024

মোহর

মোহর হাঁটতে হাঁটতে গঙ্গার পারে দেব দীপাবলীর 
আরতির সামনে এসে দাঁড়ালো চোঁখের সামনে গঙ্গায় 
অলোর সাজ আর জলে সে আলোর আলোকময় প্রতিফলন
মন বিছিয়ে গেলো ,,
বাবুঘাটে মোহর আর অর্চিষ্মান এক সময় প্রতি সপ্তাহে এক অপরের জন্য সময় রাখতো মোহর বাড়ি ফেরার জন্য অর্চিষ্মানের সাথে এই বাবুঘাটে এসে বসত সন্ধ্যার একটু আগে
জেটি তে উঠে পড়ত মোহর আর একটা অপেক্ষা নিয়ে বেশ খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে অর্চিষ্মান ফিরে যেতো তার নৈতিক দায়বদ্ধতার দুনিয়ায় ।

সমস্ত সত্যি নিয়ে একটা অন্ধকার যখন সময়ের বুকে বসত করছে ঠিক সেই অন্ধকারের বুক চিরে এই দীপাবলী ক্ষণিকের উৎসব সাজাচ্ছে,,  মোহর আজ বাড়ি ফিরতে চায় না এই আলোর ভেতর অনন্তের পথে হেঁটে কিংবা ডুবে যেতে চায় ,
এক অদ্ভুত প্রশান্তি মাথা মন শরীর ঘিরে বাসা বেঁধে আছে আজ ...
এই পৃথিবীর সবটুকু যেন মোহরের কাছে শুধুমাত্র আশীর্বাদ,
কোত্থাও কোনো নালিশ ,অভিমান না পাওয়া কিছুই যেনো ছুঁয়ে যায় না ওকে।

বেগুনি রঙের শাড়ি আর হলুদ ব্লাউজ কানে সিলভার দুল  অফিসের ব্যাগ টা পাশের সিটে রেখে বাবুঘাটের ঢোকার মুখে ..... মুহূর্তে একটা বীভৎস আওয়াজ  বাকি কিচ্ছু মনে নেই তারপর হাঁটতে হাঁটতে এই আলোর উৎসব ।

মোহর আর অর্চিষ্মান এর উৎসব পালন হতো মাঝে মাঝেই 
একটা পুরো দিন এক সাথে গল্প কবিতা জড়িয়ে থাকা আর এই বাবুঘাট ,  
আজ অর্চিষ্মান কোথায় বড্ড দেখতে ইচ্ছে করছে হাতে ফোনটা নিয়ে ওর নম্বর ডায়াল করলো মোহর ..
 হ্যালো হ্যালো অর্চিষ্মান কোথায় রে তুই  শুনতে পাচ্ছিস কিরে আমি মোহর অর্চিষ্মান শুনতে পাচ্ছিস একবার বাবুঘাটে আয় না দেখা কর শুনতে পাচ্ছিস কিরে .... ফোন টা কেটে গেলো।
অসম্বব চিৎকার চেঁচামেচি এম্বুলেন্সের সাইরেন 
গঙ্গার আরতি লোকজনের শোরগোল হাসি আর এসবের মধ্যে তাই অর্চিষ্মান এর আওয়াজ হয়তো শুনতে পাচ্ছে না মোহর ।।

 ,কিন্তু আজ যে একবার খুব দেখতে ইচ্ছে করছে ওকে , চিৎকার চিৎকার দৌড়াদৌড়ি মোহর  পেছনে ফিরে তাকাতেই কিসের যেন ভিড় দেখতে পেলো সবাই ওই ভিড়ের দিকে ছুটছে অনেক মানুষ , দেব দীপাবলীর আলোর উৎসব কে পেছনে ফেলে  অমন উল্টো  দিকে সকলে কি এক তাড়া নিয়ে হাঁটছে সেটা বুঝতে পারছে না মোহর, 
মোহরের এই আলো ছেড়ে কোত্থাও যেতে ইচ্ছে করছে না এই আলো যেন তার অন্তর  মহলের ব্যাকুলতা কে স্পর্শ করে শান্ত করে দিচ্ছে ,
তবুও ভিড় আর চিৎকারের কারণ জানতে সামান্য ইচ্ছে হওয়ায় ছুটোছুটি করা লোকজনের মধ্যে দু একজন কে জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে বলবেন প্লিস  ...কেউ মোহরের কথা শুনতে পেলো না, কেউ ওর দিকে ঘুরেও তাকালো না মোহর একটু পাশে এগিয়ে গিয়ে একটা চায়ের  দোকানের সামনে এসে  দাঁড়ালো     দু একজন কথা  বলছে কোনো একটা দুর্ঘটনা নিয়ে  বলছে বেচারা রক্তে এমন ভেসে যাচ্ছে আর এত মারাত্নক ভাবে অক্সিডেন্ট টা হয়েছে যে চোখ মুখ কিচ্ছু চেনা যাচ্ছে না ,
মোহর জানতে চাইলো দাদা কিসের জন্য সবাই আরতি ছেড়ে পেছনের দিকে দৌঁড়ে যাচ্ছে ...কি হয়েছে ?
কেউ  মোহরের কথা যেনো শুনতেই পেলো না সে আবার জানতে চাইলো দাদা শুনছেন ...তারপর লোকগুলোর পরস্পর কথপোকথন যেন কি একটা চেনা চেনা শাড়ি পরা মহিলা, গাড়ি , ব্যাগ , অক্সিডেন্ট .....

মোহর বাড়ি ফিরলো অনেকটা রাত তখন তিন্নি ঘুমিয়ে পড়েছে  কিন্তু সান্তনু কোথায় বাড়িটা এত থমথমে কেনো ,
মালতী দি তিন্নির ঘরে বসে ঝিমোচ্ছে ,
মোহর সেই সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে  অনেকক্ষণ মেয়েটাকে কাছে পায়নি তাই ব্যাগ রেখে হাত পা না ধুয়েই  ঘুমন্ট তিন্নি কে জড়িয়ে আদর করতে শুরু করলো ..তিন্নি আজ উঠলো না মাম্মা কে জড়িয়ে ধরলো না ..মেয়েটা কি আজ খুব ক্লান্ত গভীর ঘুমিয়ে পড়েছে ,কিন্তু এমনটা তো কক্ষনো হয় না মেয়ে যতই গভীর ঘুমাক মোহর আদর করলে মেয়ে মা কে জড়িয়ে ধরে ।
এত রাতে সান্তনু বাড়ির আর  মামনি কোথায় মোহর ফোনটা হাতে নিয়ে শান্তনু কে ডায়াল করলো  ...আজ কি সারা বিকেল রাত নেটওয়ার্ক প্রবলেম প্রথমে অর্চিষ্মান তারপর শান্তনু কাউকেই ফোনে পাচ্ছি না কেনো ...মোহর বাইরের ঘরে দফা এসে বসলো আজ খুব ক্লান্ত লাগছে ওর 


Sunday, 12 February 2023

একটা মৃত্যুর কাহিনি (১)

যেদিন তোর গলার আওয়াজ টুকুর অপেক্ষা  আমার বুকফাটা  তৃষ্ণায়  সামিল হয়ে না দেয় মরতে না দেয় বেঁচে থাকতে আমি সমস্ত দ্বন্দ্বর কালাপানি  সাঁতরে উঠে 
তোর বলা কবিতার কাছে দাঁড়াই, 
যেদিন তোকে একচুমুক দেখার খিদেতে আমার ভেতরে ভিক্ষার্থীটা হাহাকারে করতে করতে রক্ত কান্না চোখ বেয়ে বুক ছুয়ে  ফেলে সেদিন তোর মুখোমুখি  না হওয়ার নিজের কাছে রাখা প্রতিজ্ঞাবাক্য ছিড়েখুঁড়ে দেয়ার ক্ষমতায় পারিজাতের ছবিগুলোর মুখোমুখি  তুই আমি, 
তখন  তুই বা আমি ভীষণ রকম আগের মত মুখোমুখি একই সরলরেখায়, দুজনেই  ভীষণ  বেঁধে বেঁধে। 
তোর উচ্চারণএ এখনো  সেই  'স' এর দোষটা রয়েই গেছে, 
আচ্ছা তোর সেই বন্ধু যে তার বউ কে আগুন থেকে বাঁচতে গিয়ে নিজেও বউ এর সাথে মারা গেলো, তার ছেলেটা এখন  কেমন আছে রে?  
গুট্টুস কি এখনো  গীটারের  তারে বিলাবল  খুঁজে ফেরে? 
আমিও অনেক কিছু ছেড়ে  দিয়েছি গিটার , ছবি আঁকা , 
অফিস, জীবনটা সামান্যতে রেখেছি, 
পাহাড়ের পাশে এক টুকরো  চার দেওয়ালে দিন কেটে যায় 
মনের দেওয়ালে নতুন সাদা রঙ লেপে দিয়েছি... জানিস তারপরে পুরোনো  ছবিগুলো  কেমন যেন  মিটিমিটি চোখে  পাহারা দেয়। 
রতনদার কি প্রেমিকা বদলেছে আবার... আর আর তোর প্রেম কি পঞ্চাশের ঘর অতিক্রম  করেছে! 
একটা  কথা না বলে পারছি না আজকাল তোর লেখা কবিতায়  শুধুমাত্র অন্ধকার ছাড়া কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না।
অথচ তুই যাবার  দিন  বললি তুই নাকি আলোর ঠিকানা পেয়েছিস  তাই পাহাড়  নদী  কেটে সে আলোর উদ্দেশ্যে রাস্তা  বানিয়ে ফেলতে চাস, 
নাহ তোর একটা কবিতায় কোথাও সূর্য ওটা সকাল নেই... নেই বেঁচে থাকা,, 
হয়তো নিজের  মৃত্যু লিখিস নিজের কবিতার কাফনে, 
হয়তো বিশ্বাস  হত্যা করতে করতে নিজেই নিজের  হত্যাকারী  আসামি। 

Saturday, 27 February 2021

আটানোব্বইতম চিঠি

প্রিয় প্রিয়তোষ ,,

তুমি দীর্ঘ পথ চলার থেকে নিস্তার পেতে চেয়েছো , 
তোমার চিঠিতে সে কথা স্পষ্টতই বারংবার জোর দিয়ে আকুতি দিয়ে জানিয়েছ ,,
আমিও বুকের আগল খুলে অনিকেত অনন্তে ডাকে তাই সাড়া দিলাম ,,
...আজ থেকে তবে দ্বাদশীর চাঁদে গ্রহন লাগুক ।আমরা দুজন একে অপরের উল্টোদিকে হাঁটা জন্য প্রস্তুত  তাই তো প্রিয়তোষ ? 

 সমস্ত সমীকরণ গর্ভের আঁতুরঘর কে আজ জতুগৃহ মনে হয় তোমার ,  একদিন তুমিই বলেছিলে প্রিয় মানুষ চলে গেলে আয়নার রং বিবর্ন হয়ে যায়.... 
 তারপর .....তারপর সে আয়নায় আর কোনো দিন ফেরা হয় না দ্বিতীয় দফায় ...., সে কথা তুমি  জানো  প্রিয়তোষ  ভালো করে , আসলে তোমার এযাবৎ পথ চলায় এমন ইনেক পাথেয় তো আগেও ছিল..... ফেরা হয় না আর,,
 
আমাদের একসাথে অনেক আকাশ তীব্র পারিজাতীয় কম্পন এসব কিছুর গিঁট খুলে আমরা দুজন দুজনের থেকে আলোকবর্ষ নিস্তার খুঁজে নিই এসো ,,
একদিন যে গন্ধর্ব রঙের অধিকারে  তোমার বা আমার সমস্ত ইন্দ্রিয় নিজস্বতা খুঁজে পেত  আজ অনপেক্ষের নকশায় সে সব লুপ্ত প্রায় , 

প্রিয়তোষ চিতায়  জ্বলে গেলে দেহ পুড়ে যায় অথচ আমাদের মন না জানা অজস্র কারণে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ... কখন যে ! 
আমাদের কথোপকথন এর সমস্ত বর্ণমালার অন্ধকার আর কালসিটে ঘর বেঁধেছে আমারা কেউই বুঝে উঠতে পারলাম না ,
বছর কিছু হবে একদিন তোমার হাতের রেখায় আমি ভাগ্য নির্ধারণ করে ছিলাম , দেখো কি আশ্চর্য ভাবে সে গণনার সবটাই আজ   নির্ভুল ,

জানি তুমি আগের মত আমার এই দক্ষতার সামান্যও  প্রশংসা করবে না , 
এই মুহূর্ত থেকে আমাদের ভেতর ঘটে যাওয়া প্রবাহ গুলো  শুধুমাত্র দূরত্বের বয়ান লিখে রাখছে । , লিখে রাখছে  উপন্যাসের শেষ পাতায়  শরৎ বাবুর  ক্ষত কলমের  রক্তআঁচড়  ,

ভালো থেকো আগামীর মুহূর্ত গুলো  প্রিয়তোষ ,,
শেষ শুভেচ্ছা বার্তায় জানাই.... ফেলে  আসা সময়ের মত কোন ভুল আগামীর কোথাও যেন তোমার অক্ষরেখা ছুঁতে না পারে ,

 আর আমার নিঃশ্বাসে আমি বিশ্বাস নিয়ে তোমার উল্টো দিকে ফিরছি  .......বাকিটা তোমার একান্ত  ইচ্ছা ,
                     ইতি  স্বজন হীন  বাসন্তিকা ,,

Monday, 7 December 2020

ষষ্ঠ চিঠির

প্রিয়তোষ ,

 জানি না আজ কাল কেমন থাক , কেমন করে সকল থেকে রাত তোমার ধারাবাহিক হয় , বহু দিন পর তোমায় কিছু লিখতে বসলাম , তোমার ভালো থাকা বা মন্দ থাকা জানার জন্য এ চিঠি নয় , এ চিঠি আমার ভালো মন্দ তোমায় জানাই এমনটাও নয় ,
  কিছু জরুরি সংবাদ তোমায় দেবার ছিল ..
অবশ্য তুমি কখনওই এ তরফের একটিও চিঠির হয়তো ভাঁজ খুলেই দেখোনি , তবু বলি  তোমার প্রিয় মানুষের মধ্যে দু একজন তোমায় আমায় বা আমাদের সকলকে ছেড়ে গেছে , যেমন আমাদের স্কুলের সবার প্রিয় টিচার সুশীল স্যার , তোমায় আগেও চিঠি দিয়ে জানিয়ে ছিলাম উনার ভালো না থাকার কথা সাথে এও বলেছিলাম সময় করে খবর নিও একবার হয়তো এই খুবরটুকুও তুমি চিঠি খুলে জানোনি , তাছাড়া আমাদের ঐকান্তিক হওয়ার একমাত্র সূত্র জয় দা গত দু দিন আগে সুইসাইড  করেন ,  বেশ কিছুদিন উনি মনোরোগের শিকার হয়েছিলেন তারপর দুদিন আগে .......
 জানি না এই খবরটা শুনলে তোমার কেমন বোধ হবে   তো তোমার অনুভূতির বদল  অনকেখানি  হয়েছে বুঝি , আমাদের ঐকান্তিক  মুহূর্ত  যা কিছু ইতিহাস এখন ।, 
তোমার বর্তমান এখন অন্য কেউ  তাই অনেক চলে যাওয়া আর তোমায় স্পর্শ করতে নাও পারে ,, যাক সে তোমার ব্যাপার তুমি কাকে কোথায় রাখবে কার জায়গা বদলে দেবে সে তোমার ব্যাপার , 
প্রিয়তোষ আর একটা কিথ তোমায় বলা হয়নি বলবো বলবো করে আমি সময় করে উঠতে পারিনি , হয়তো তোমাদের বাড়ির কারো থেকে শুনেও থাকবে , আমি আগামী মাসের প্রথম।দিকে প্যারিস যাচ্ছি  ফাইন আর্টের ওয়ার্ল্ড সেমিনারে আমার দেশ কে প্রেজেন্ট করতে , তার পর লন্ডন , 
তোমায় এযাবৎ কাল সকলটুকু জানিয়ে এসেছি কারণ এখন আর বলা উচিত নয় আমি তোমার কাছে আপাতত বাড়তি হতে ব্রাত্য , তবু এখনো সব অভ্যাস বদলে ফেলতে পারিনি .....
ভালো থাকার শুভেচ্ছা  রইলো সমস্ত অক্ষরে শব্দেরর স্পর্শে ,
....................ইতি তোমার বাসন্তিকা

পঞ্চম চিঠি

প্রিয় প্রিয়তোষ ,
আশা করি ভালোই আছ , এযাবৎ তোমাকে  আমার সমস্ত খবরাখবর দিয়ে এসেছি , না তুমি বাধ্য করোনি আমি আমার প্রতিশ্রুতির কাছে অঙ্গীকার আর সেখানে তোমার কোন দায় নেই আমি জানি , আসলে তোমাকে আমার থেকে আলাদা সময়ের তালে তালে রেখে তুমি করলেও আমার পক্ষে সম্ভব নয় , 
আচ্ছা যে কথাটা বলার জন্য তোমায় এই চিঠি লিখতে বসেছি , এই  মফস্বল ছেড়ে শেষ মেষ বাইরে পা রাখার সাহস করে উঠেছি , আগামী মাসে কলকাতা যাচ্ছি মাস্টার্স করতে , প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় ফলাফল ঘোষণা হয়েছে ,খানিকটা অবাক করে ভাগ্য আমার বরাতে এমন ভালো কিছু রেখেছে বোধহয় , 
প্রিয়তোষ এই খবরে এখন  তোমার প্রতিক্রিয়া আমার সম্পূর্ণ অজানা , তবে আমি যে প্রিয়তোষ কে চিনি সে এই খবর শুনে আমার থেকে দশ গুন বেশি আনন্দে আত্মহারা হয়ে আমাকে জড়িয়ে পাগলের মত নাচত , বলতো এমনটাই হবার ছিল ।
আজ আবার বুকের ভেতরটা চিন চিন করছে জানো,  তোমার গলার স্বর শুনতে ইচ্চা করছে ....
তোমার দেখতে তোমায় স্পর্শ করতে ইচ্ছা হচ্ছে ।
তুমি যদিও এ চিঠি পড় মনে মনে বিরিক্ত হবে আর ভাববে এই এক বিরিক্ত কর মেয়ে এক মুহূর্ত আমায় ছাড়া চলতে পারে না ভাবতে পারে না ....কি প্রিয়তোষ ঠিক বলছি তো?   আসলে কি
জান আমার পৃথিবীতে একমাত্র তুমি যাকে আবর্তন করে আমি সম্পূর্ণ হই ...আর .....আর এমনটাই যে আমরা দুজন দুজনকে কথা দিয়েছিলাম , কথা দিয়েছিলাম কাঁচ অথবা জলের 
মত স্বচ্ছ আমরা দুজনের কাছে থাকবো ..........
আমি তো সাবলীল প্রিয়তোষ , তুমি পারছো না কেন , কেন আমাকে আড়াল করে তোমার আলাদা জগৎ গেঁথে নিচ্ছ পথের মালায় ?কেন আমাকে ক্রমাগত ব্রাত্য করে রেখে দিচ্ছ পুরোনো জীর্ণর মত , আমি যে তোমার মত আধুনিক সজ্জায় সজ্জিত নয় জানি , তবে বেমানান ছিলাম সেটা বুঝিনি , ,
ও দেশে হাজার হাজার সুন্দরী প্রতিভাবান আধুনিক মেয়েদের সাথে আমার যে তুলনায় রাখা যায় না সেটা তুমি এর মধ্যেই বুঝিয়ে দিয়েছো ,
রবি ঠাকুরের ভাষায় বলতে ইচ্ছে হচ্ছে "হিরে 
বসানো সোনার ফুল কি সত্যি ! তবু কি সত্যি নয় "
আসলে জানো প্রিয়তোষ আমি বেশি কিছু পারি না হয়তো , তবে যেটা পারি ভীষণ রকম নিষ্ঠার সাথে
পারি , ..,যেমন তোমাকে ভালোবাসতে আমার কখনো কোন তুলনা লাগে না ....আমার কাছে তুমি মনে তুমিই সম্পূর্ণ , নিখাদ তুমি ,   হাহাহাহা জানি এবার তোমার বিরিক্ত চরমে পৌঁছানোর পালা ,
আমিও আর তোমায় বিরক্ত করবো না ,শুধু কলকাতা যাবার কথাটা না জানিয়ে নিজে স্বস্তি পাচ্ছিলাম না যে ,, আজ তবে আসি , কোন একদিন দু এক কলম আমার উদ্দেশ্যে লিখবে এই আশা নিয়েই এই চিঠি শেষ করলাম ...বরাবরের মত ভালো থেকো ভালোবাসায় .....
                                    ইতি তোমার বাসন্তিকা ,

চতুর্থ চিঠি

প্রিয়  প্রিয়তোষ,

ভাল আছো নিশ্চয়ই ,  আজ যে কারণে খাতায় কলমে ফের  তোমার সামনে  , আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন   গত ছ বছর আষাঢ়ের এই প্রথম দিনে তুমি আমার জন্য একটা করে কবিতা লিখে সেটা চিঠির মত করে আমায় উপহার দিতে , আর

সে চিঠির নাম দিতে “আষাঢ়ষ্য প্রথম  দিবসে তোমাকে” আমি মুগ্ধ হতাম খুশিতে প্রায় নেচেই উঠতাম সে উপহার পেয়ে  ,সে চিঠি কবিতার প্রতিটা লাইন আমি যে কতবার পড়তাম সারা বছর ,আমার সে সব  প্রতিটা চিঠির প্রতিটা শব্দ মুখস্থ হয়ে যেতকিছুদিনের মধ্যেই  আর তারপর অপেক্ষা করতাম আবার পরেরআষাঢ়ের প্রথম  দিনের , কারন এই দিনে তোমার কলমে একটা লেখা একান্ত আমার  পাঠকের ভূমিকায় কেবল আমি , আমার যে কি ভালো লাগতো এমন একান্তে তোমায় এবং তোমার লেখাকে এক সাথে পেতে ,লোভি হয়ে গেছিলাম  আমি , এ লোভ অবশ্যই তোমার সৃষ্ট , আর আজ সেই তুমি তোমার বাসন্তিকাকে ভুলে সে লোভকে চাপা  দিয়ে দিয়েছো মাইলের পর মাইল ফলকে , আজো আমাদের সপ্তম আষাঢ় এর প্রথম দিন কথা মত আমার নতুন উপহার তোমার কবিতা আজ আমার হাতে তুমি দিতে , অথচ আজ তোমার বাসন্তিকা পুরোনো উপহারে বন্দি  ।বরং উল্টটাই আজ আমি তোমায় এই স্মৃতিচারণ চিঠিতে উপহার দিই ,

তোমার কলমের নিবে আজ জানি না নতুন কোন বান্ধব রঙ কিনা  জানি আজ আজ ‘আষাড়ষ্য প্রথম দিবস তোমাকে ‘ তুমি কার জোন্য লিখবে কিনা , যদিও লেখ সে লেখা আমার বরাদ্দ্যে জুটবে না সে ও জানি ,গত মাসে তোমার লেখা প্রবন্ধ প্রকাশের  খবরটা জানতে পারি প্রথম সংবাদ প্ত্রের মাধ্যমে তারপরতোমার বাবার সাথে রাস্তায় দেখা হওয়ায় উনিও আমায়  সু সংবাদটা দেন ,  প্রিয়তোষ তোমার মনে আছে আগে তোমার ছোট বড়  যে কোন লেখা যে কোন পত্রিকাতে যখনই প্রকাশিত হত তুমি নিজে এসে আমায় জানাতে আর তোমার মুখে এক   অপূর্ব  আনন্দের আভা  ছড়িয়ে পড়ত আমি বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতাম আর মনে মনে তৃপ্ত  হতাম , প্রিয়তোষ  এখন তুমি এই আনন্দ কেমন করে ভাগ কর , আমি তোমাকে যে টূকূ  চিনি তাতে করে এরকম লেখা  বা প্রবন্ধ প্রকাশের আনন্দ তুমি নিজের মধ্যে কোন ভাবেই লিকিয়ে রাখতে পারবে না ,

হয়তো আমাড় জায়গায় এখন অন্য কেউ………. তেমনি হয়তো বা কেউ আজ এই আষাঢ়ের প্রথম দিনে তোমার কলম কারো অঙ্গীকারে ,  প্রিয়তোষ  জানি না আজ বাইরে বৃষ্টি হবে কিনা তবে আমার ভেতোর মহলে আজ প্রবল বর্ষণ আর খড়কুটোর মত তোমার উপহারের চিঠি আগলে আমি ভাসছি , আমার ঘরকন্নায় নোনা জল , তোমায় এ যন্ত্রণা চিঠিতে বোঝাই আমার কলমের সে বাহুল্যতা যে কোন কালেই হবে না  সে তুমি জানোই , ঠিক এই মুহূর্তে প্রিয়তোষ তুমি একবার আমায় যদি দেখতে  হলফ করে বলতে পারি তুমিও এই বর্ষণে না ভিজে পারতে না , যাক সে সব কথা যা হওয়ার নয় তা নিয়ে ভেবে লাভ কি বল  প্রিয়তোষ  ্‌ আসলে তুমি যে কাজ সহজে পার আমাই পারি না   তুমি তোমার ব্যাস্ততার আড়ালে কত সহজে ভালবাসা কে তাচ্ছিল্য করে বেঁচে আছ  খুশি হয়ে , নাম ডাক প্রতিপত্তি আড়ালে কবর দিয়ে নতুন করে সাজিয়ে নিয়েছ ,যেন এমন্ টাই  স্বাভাবিক , কত সহজ করে বদলে ফেলতে পেরেছ নিজেকে ভালবাসা কে , , আমি দিন প্রতি দিন অবাক হই প্রিয়তোষ তোমায় দেখা …….. সত্যি প্রিয়তোষ আমায় কি এক মুহূর্ত আর তোমার মনে পড়ে না ? অথচ এই তুমি আমায় বলতে আমি যেন সারা  জীবন তোমাতে  বেঁধে বেঁধে  থাকি ,

সব এলোমেলো লাগে জান আমার আজকাল এত অগোছাল আমি কেমন করে এক তোমার বিহনে ? হয়তো তুমি আমার এ পাগলামো শনে হাসবে জানি , আমারশ যে সমস্ত জুড়ে তুমি প্রিয়তোষ বাকি পৃথিবীকে সব সময় তোমার পরেই রেখেছি ,

যাই হোক আজ  এবার রাখবো এই মুহূর্তে  আমার ভেতোর মহলের  মত বাইরী আকাশেও বৃষ্টি  শুরু হয়েছে ,

ভালো থাবে একই রকম যত্নে থেকবে সবসময়  থেকো ভালবাসায় ।

                 

                          ইতি তোমার বাসন্তিকা ,

Tuesday, 27 October 2020

বিহাইন্ড অফ স্যাডো

---------------------------

প্রথম দৃশ্যতে মেয়েটির শরীর বিছানায় উন্মুক্ত 
মুহুর্তে লোকটি ...... তুড়ি  মিস্টার রাজেশ চোহান 
শকুনের মত ঝাপিয়ে পড়ে যৌবন চুষে নিচ্ছিলো,,
মেয়েটার শরীর নিয়ে  চলছিল রাতভর  মাংসে খেলা
অনেক মেয়ে মিস্টার চোহানের বিছানায় আসে , 
এ মেয়ে যেন  আগুন পাখি উফ এমন সুখ আগে কেউ দিতে
পারেনি একটা পুরুষ প্রায় পঞ্চাশ এর ঘর পেরোনো তার 
শরীরকে এমন   করে সারারাত উত্তাল কাম ঝড়ে মাতিয়ে রাখা
এ মেয়ের শরীর এ হাজার সদ্য ফোটা পদ্ম আর সেই পদ্ম 
নিয়ে যেমন ইচ্ছা খেলা....। 
বেলা এগারোটা চোখ খুলেই রাতভরের খেলা 
ফ্লাসব্যাক হয়ে যায় রাজেশে র চোখের সামনে, 
বিছানা ছেড়ে ডাইনিংএ গিয়ে দেখে তিতির চৌধুরী
একঢাল কোঁকড়াচুলো পিঠের ওপর এলিয়ে কিছু
একটা পড়ছে,  সামনে গিয়ে রাজেশ চোহান দাড়াতেই
তিতির বলল ফ্রেস মরনিং স্যার,   আজ আমার ইন্টারভিউটা 
শেষ করবেন তো? প্লিস আজ শেষ করলে আমার একটু সুবিধে
হয়, সামান্য হেসে রাজেশ স্নানের জন্য চলে গেল। 

মুখোমুখি একের পর এক প্রশ্ন,  তিতির বাঘিনীর মত
উত্তর দেয় তার নিজেকে প্রস্টিটিউট বলতে কোথাও
লজ্জার লেশ মাত্র মনে আসে না,  বরং সে পুরুষদের
নিজের শরীরে বাঁকে খেলাতে এক উন্মত্ত আনন্দ পায় 
যখন কোন পুরুষ তাকে বিছানায় নিয়ে যায় সেই পুরুষের
লাগাম তিতির চৌধুরীর হাতে চলে আসে, 
রাজেশ প্রশ্ন করলো আপনার তো  কোনো অভাব নেই
তবে এই পেশা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন না কেন? 
নাকি আরো আরো টাকার লোভ আপনার মন থেকে   শরীরকে 
আড়াল করে দিয়েছে,?   তিতির বলল আসলে এসব পেশায় 
যারা আসে তাদের প্রত্যেকের একটা গল্প থাকে..... তিতিরের কথায়
বাঁধা দিয়ে রাজেশ  বিরক্তির সাথে  বলে উঠলো প্লিস আমায় আর 
ওই একঘেয়ে গল্প শোনাবেন না,  আপনাদের ওই একি গল্প টাকার এপিঠ আর ওপিঠ 
সব গল্প এক   আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু নো   দ্যাট  ডার্টি বোগাস   স্টোরি   । 
 তিতির চৌধুরী বলল...  এটা বোরিং বোগাস গল্প আপনার লাগবে না আমি শর্ত রেখে বলতে পারি স্যার।। 

রাজেশ চোহান নিজেকে খোলা আকাশের পাখির মত রেখেছে সব সময়,
সে নিজে বন্দি হবে না বলেই সংসার পাতেনি,   কোনো সহবাসে প্রেম আর প্রেমিকার
জন্ম হয়নি,  কারনটা দায়িত্ব আর বন্ধন থেকে নিজেকে দুরে রাখা,  তাই রাতের পর
রাত বিছানায় নতুন নতুন  সুন্দরী নারী শরীরের ঢেউ সে  উপভোগ করেছে একবার দুবার 
তারপর আবার নতুন শরীর, রাত গ্যায়ি বাত ভি গ্যায়ি, এভাবেই আজ পঞ্চাশ  সে
পার করে ফেলেছে।  কাজ পাগল লোক    নারী অধিকার  নারী সম্মান নিয়ে   ডকোমেন্ট্রি ,   ইন্টারভিউ,  ফ্রন্ট পেজ থেকে পেজ থ্রি নিউজ পেপার, গসিপ ম্যাগাজিনে পাতায় পাতায় রাজেশ চোহান এর লেখা মশলাদার খবরে চাহিদা 
আজ দু দশক ধরে রাজত্ব করছে,  লোকজন এই লোকটাকে মাঝেমধ্যেই ফেমিনিস্টও বলে থাকে  আর তাতে রাজেশচোহান এর বেশ গর্বই হয়।      লোকটা মনে করে সে  নিজের আয়নায় একজন পরিস্কার 
মানুষ, কাউকে ঠকায়নি কোনো রকম লেন্ দেন এ সে কারো ক্ষতি করেনি এবং এই অভিযোগে  জড়াতে চায়নি
বলে সে বিয়ে সংসার করেনি৷ তার    মনে হয় বিয়ে একটা এমন বন্ধন যেখানে অনেক অভিযোগ, কম পাওয়া
,নালিশ, অধিকার নিয়ে খসড়া থাকে একে অপরের ওপর দোষ... আর দুটো মানুষ কেবল একটা সামাজিক দায়
বয়ে বেড়ানোর তাগিদে একঘেয়ে সম্পর্কের বোঝা বয়ে চলে, তাই সে সব ঝামেলাই সে রাখেনি,   বিছানার সংগিদের সে মু মাংগ কিমত দিতে পিছপা হয় না,  নিজের আজাদ দুনিয়া পরিস্কার আকাশ কোথাও কৈফিয়ত দেবার প্রয়োজন তার কোনোকালেই নেই,   
তিতিরচৌধুরী উঁচু মহলের প্রস্টিটিউট নামি দামি লোকজন তাকে একরাত বিছানায় পাওয়ার জন্য বহুদিন আগে থেকে লাইনে থাকে...,, রাজেশ চোহান এর অনেক দিনের ইচ্ছা এই তিতির চৌধুরীর একটা ইন্টারভিউ আর একটা রাত বিছানায়, দুয়ে দুয়ে চার হয়ে যায় যেদিন নিউজ ডিপার্টমেন্ট "অজানা পথের খোঁজে " নিউজ সিরিজ নিয়ে রাজেশ চোহান এর ওপর দায়িত্ব দেয়,  এক মাস আগে আপ্যেয়েন্টমেন্ট নেয়,  আর তারপর তো রাজেশ চোহান তার সেক্স জীবনে মন আনন্দ আর বিস্ময়    আগে কখনো পেয়েছে বলে মনে করতে পারেনা, 
তো তিতির চৌধুরী আপনি চাইলেই এই নোংরা দুনিয়া থেকে একটা সুন্দর পৃথিবীতে
ফিরতেই পারেন যখন তখন থেকে যাওয়ার কি কোনো গোপন কারন আছে?  
তিতিরচৌধুরী - স্যার একটা প্রশ্ন আমি করতে পারি আপনাকে?   রাজেশচোহান বললেন   নিশ্চয়ই বলুন কি প্রশ্ন  
তিতিরচৌধুরী.... আপনি ব্যাচেলর কেন স্যার  আপনার কি.... অহ নো নো মিস তিতির  আমি বন্ধন মুক্ত থাকতেই ভালোবাসি আসলে আমি কখনো চাই না আমাকে কেউ আমার ইচ্ছেতে বাঁধা দিক আর বিয়ে সংসার একটা কম্প্রোমাইজ এর নাম  I'm not interested that's kind of things,        আমি আমার রাজত্বের একা অধিপত্যেই খুশি,, 
তিতির চৌধুরী বলল এবার আমার গল্পটা শুরু করা যাক স্যার  ....... 

প্লিস প্লিস কোনো গল্প না....., তিতির চৌধুরী রাজেশ চোহান এর কথায় কান না দিয়ে বলতে শুরু করলো 
 গল্পটা একেবারেই একঘেয়ে নয় আপনার ভাল লাগবে স্যার,  তারপর শুরু করল...  
একটা মেয়ে ছিল বেশ সুন্দরী বলা যায়  গরীব বাড়ির পেট চালানোর জন্য মায়ের সাথে লোকের বাড়িতে কাজ করতো, প্রায় সাত আটটা বাড়ি ঘুরে ঘুরে মা আর মেয়ে সারা দিন কাজ করে বেড়াতো মেয়েটার বাবা নিরুদ্দেশ ছিল,  তবে মা আর মেয়ের দু বেলা দুমুঠো জুটেই যেত পরের বাড়ি খেটে,  এর মধ্যে এক কাজের বাড়ির মালিকের মেয়েটিকে ভালো লাগে সে কথা মেয়েটির মা কে জানায়, বলে তার মেয়ে কে সে বিয়ে করতে চায়,  তবে এখনি নয় বছর খানেক সময় লাগবে,  গরীব  মানুষ বড়লোকদের মুখের ওপর খুব একটা কিছু বলতে পারে না  , তাছাড়া গরীবের মেয়ে খেয়ে পরে সুখে কারো ঘরনী হতে পারে এটা স্বপ্ন,  আর সে স্বপ্ন যখন নিজে হাতে ধরা দেয় কে বা না চায় তাতে ভাসতে,     মা আর মেয়ের তাই আপত্তি জানাতে চায়নি,  
রোজ রোজ ভাল লাগার পুরুষ সামনে আসলে দু এক কথা বিনিময় হবেই এভাবেই দিন পেরোয় কথা থেকে 
ভালোলাগা খোঁজে স্পর্শ  আর সেই স্পর্শ বাড়ায় লোভ আরো আরো , 
নিয়মিত  একটা নিরিবিলি সময়ে ছেলে মেয়ে দুটি  মিশে যায় অনাবিল আনন্দস্রোতে। 
এই ভালোলাগার স্রোত অভ্যাস হয়ে যায়,  আপত্তি কোথাও ছিল না কয়েক মাস পর 
মেয়েটি ছেলেটিকে জানায় তার পেটে ভালোবাসা জন্ম নিয়েছে ,  সমাজ এবার  সৃকৃতি    চাইবে, 
ছেলেটি চুপ থাকলো কিছুক্ষণ,  তারপর বলল আজ বাড়ি যাও আমি ভাবছি এর মধ্যে কিছু একটা, 
পরের দিন মা কাজে এলে ছেলেটা তার হিরের আংটি চুরি গেছে বলে জানায় এবং সাফ জানিয়ে দেয়
মা কে.... তোমার মেয়ে এই কাজ করেছে, গরীব ভিখারির জাত বড়লোক বাড়িতে ঢুকে কাজ করার নামে চুরি করে, এখনি তার মেয়েকে পুলিশের কাছে নিয়ে জেতে চায়,,  গরীব মা ভয়ে কান্না কাটি করে বলে বাবু আমরা গরীব কিন্তু চোর নই আপনি আমাদের বাড়ি গিয়ে খুঁজে দেখে নিন,  ছেলেটি বলে সে জিনিস তোমরা যে বাড়তে রাখবে না সে জানা আছে, তবে পুলিশের লাটি পড়লে সব বেরিয়ে আসবে, ওই মেয়ের মুখ দিয়ে পুলিশ ঠিক সব উগরে নেবে....,   পা ধরে গরীব মা কাকুতি মিনতি করতে লাগলো   বাবু পুলিশ ডাকবেন না আপনি নিজে ইচ্ছে মত শাস্তি দিন দয়া করে পুলিশ ডাকবেন না, আমি    দরকার পড়ে মেয়েকে নিয়ে দুরে কোথাও চলে যাব আজ এখনই, 
ছেলেটা কিছুক্ষণ চুপ্ থেকে বলল ঠিক আছে আমি পুলিশ ডাকবো না তবে তোমাদের আর যেন এই তল্লাটে না দেখি,
মা আর মেয়ে তারপর হারিয়ে গেছিল তাদের আর ওই শহরে কেউ দেখেনি,  ছেলেটা নিজের দুনিয়ায় ব্যাস্ত হয়ে গেছিল ভুলে গেছিল সামান্য ঘটনার মত, 
তিতির চৌধুরীর  এখন বয়স  বাইশ  মা মারা গেছে বছর পাঁচেক হল দিদার সাথেই  মুম্বাইয়ে লোনাওয়ালায় নিজের বাংলোয় থাকে তার দিদা তার প্রিয় বন্ধু  ফিলোসাফার,  তবে তিতির কে নিয়ে তার দিদার চিন্তা সেযে
আর পাঁচটা মেয়ের মত স্বাভাবিক নয়, ওর ভেতোর আগুন   জ্বলে সারাক্ষণ 
সে আগুনে তিতির পোড়ে কম পোড়ায় বেশি, আর তার জীবনের লক্ষ্য
বড় ভয়ংকর  একটা প্রতিশোধ আর তার মা কে দেওয়া প্রতিশ্রুতি তিতিরকে
ঘুমাতে দেয় না, শত্রুকে তার নিজের জমিতে কবর দিতে পারলে তবেই তিতিরের শান্তি। 
রাজেশ চোহান কপালের ঘাম মুছছিল হঠাৎ ঈশানী মেঘে আর পরিস্কার 
আকাশ অন্ধকার করেদিল, নিজের কাছে নিজেকে এত ছোট হতে হবে কেউ ভাবতে পারে না, 
মুহুর্তে মৃত্যু আসলে বোধহয় রাজেশ চোহান  সব থেকে খুশি হত, তেইশ বছর আগে যে বীজ  পোঁতা 
হয়ে গেছিল খেলার ছলে আজ সে মহিরুহের ঝুরিতে নাগপাশ বন্দি.... লজ্জায় ঘেন্নায় নিজেকে ক্ষমা করবে কি করে মিস্টার ক্লিন রাজেশ চোহান। 
তিতির চৌধুরী তার সিলিং ব্যাগটা হাতে নিয়ে সানগ্লাস টা চোখে রেখে বলল good bye মিস্টার চোহান 
Nice to meet u sir।