----------------------------
তোমাকে বুঝতে পারি না সৃজিত, দশ বছর তোমার সাথে
সংসার করার পরও তুমি অচেনা থেকে গেলে, তোমার চাওয়াটুকু
যে ঠিক কি এত চেস্টা করে আমি জানতে পারলাম না, আর তোমায় বুঝতে চাইও না
এক মুহুর্ত, অসুস্থ লোক তুমি , তিন্নি কথাগুলো
বলতে বলতে তুতুন কে নিয়ে পাশের ঘরে চলে গেল,
তিন্নির মনের ভেতোর এমন ঝড় বহু বার উঠেছে সৃজিত কে নিয়ে, এত
ভালোবাসে তিন্নি সৃজিতকে তবুও অসংখ্য নারী সৃজিতের জীবনে,
, খোলা আকাশের মত করে ছেড়ে দিয়েছে তিন্নি কখনো মুঠো বন্ধ করেনি তবু
সৃজিতের কি এক খোঁজ সময়ে স্রোতে হাজারো নারী ছুঁয়ে তার পথ
চলা, প্রথম আলাপ হওয়ার পরেই সৃজিত তার জীবন জুড়ে অজস্র নারীর
যাওয়া আসার কথা তিন্নিকে জানিয়েছিল, তিন্নির সাথে সম্পর্কে আসার কিছুদিন পর
সৃজিত তাকে আদোর করে বলেছিল তার জীবনে তিন্নিই শেষ নারী , কথাটা
কাব্যিক শোনালেও মেনে নিয়েছিল তিন্নি, কারন সৃজিত কে সে ছোটো শিশুর মত করে যত্ন করে রাখত
অথচ বছর চার যেতে না যেতেই সৃজিত নিজের কথা থেকে সরে এসেছিল, এক দিন জামাকাপড়
কাচতে গিয়ে তিন্নি ফাস্ট শোএর দুটো সিনেমার টিকিট পেয়েছিল, জানতে চাইলে সৃজিত
বলেছিল হয়তো সিগারেট এর দোকানে দেশলাই নিতে গিয়ে দেশলাই বাক্সের সাথে চলে এসেছে
তারাহুড়োয় দেখিনি, তিন্নি আর কিছু জানতে চাইনি বিশ্বাস করেছিল কিনা সে কথা তিন্নিই জানে,
সৃজিত এম. আর. বাড়ির বাইরেই বেশি থাকতে হয় ডক্টরমিট লেগেই থাকে তার সাথে
বান্ধবী এক্সপ্লোর সমান ভাবেই চলে, সৃজিত এর ইনবক্সে পুরুষ বন্ধুর কনভারসেশন এর
থেকে মহিলা বান্ধবীদের মনের হদিস বেশি তারা তাদের জুতো সেলাই থেকে চন্ডিপাট
সব কথাই সৃজিত এর পরামর্শ ছাড়া বা সৃজিত কে না জানিয়ে করে না, কোনো কোনো
বান্ধবীর পিরিয়ডের ডেট এবং ব্রা এর সাইজও সৃজিতের না জানা নয়, তিন্নি যতই উদার
মনের মানুষ হোক কোথাও একটা বুক চাপা গোপোন যন্ত্রনা বাড়তেই থাকে এসব নিয়ে, ই
অনেক বার
বলা সত্বেও সৃজিত থামেনি কিছু দিন চুপ থাকে আবার পুরোনো রুপে ফিরে যায়,
তিন্নি নিজে একজন নামি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, যেকোন আইডি হ্যাক করা ওর কাছে
খুব সহজ, তিন্নি জানে এসব অপরাধ, ইদানিং তিন্নি সৃজিত কে আর চিনতে পারে না
তিন্নির উপস্থিতি সৃজিতের খেয়ালের বাইরে একবারও কাছে বসে দু দন্ড কথা বলে না
সারাক্ষন ব্যাস্ততার অজুহাত, অথচ তিন্নির চাওয়া খুব সামান্য একটু কাছে বসা একটু জড়িয়ে ধরে
বুকের কাছে রাখা, এসব এখন তিন্নির কাছে স্মৃতি আর
স্বপ্ন, সৃজিতের বান্ধবী মনস্কা স্বভাব সৃজিতের কাছ থেকে
এক মুল্যবান মন কে সরিয়ে নিচ্ছে হত্যা করছে নিজে সৃজিত
সেটা সে বুঝতে পারছে না,
আজ তো সব গন্ডি পার করে ফেলেছে তিন্নি, যদিও শুরুয়াতটা সৃজিতের
হাতেই হয়, জামাকাপড় গোছাতে গিয়ে তিন্নি দেখে সৃজিতের টি সার্টে
গোলাপি লিপস্টিকের দাগ এরপর আর পারেনি নিজেকে চুপ রাখতে
সোজাসুজি সৃজিত কে প্রশ্ন করলো তুমি কি চাও বল আমাকে কি তোমার জীবনে কোথাও কোনো
প্রয়োজন আছে পরিস্কার বল, সৃজিত মিথ্যা সাজিয়ে বলেগেল বাসে ভিড় ছিল কে ঠেলাঠেলিতে
কাছ ঘেঁষে গেছে হয়তো তাই....., তিন্নি সৃজিতের ল্যাপটপ টা টেবিল থেকে নিয়ে এসে
সৃজিতের সামনে রাখলো আর বলল তুমি বলবে না আমি বলবো, সৃজিত মেজাজ দেখিয়ে
বলল কি বলতে চাও? ছুটির দিনে তুমি কি শান্তিতে বাড়িতে থাকতেও দেবে না, তিন্নি আর কিছু কথা
না বাড়িয়ে সোজা সৃজিতের ল্যাপটপ খুলে ওর মিডিয়া একাউন্ট হ্যাক করে সৃজিতের সামনে ঘুরিয়ে রাখলো
ল্যাপটপটা, শুধু বলল আচ্ছা সৃজিত আমায় বলবে এত এত নারীকে এক সাথে একজন পুরুষ কি ভাবে ভালবাসতে পারে! প্লিস ডেসক্রাইব মি, সৃজিত চুপ ছিল উত্তর হয়তো ফুরিয়ে গেছিলো এই মুহুর্তে,
তিন্নি শেষে বললো প্লিস আমায় মুক্তি দাও আমি আর পারছি না, সৃজিত বিছানা ছেড়ে উঠে তিন্নিকে জড়িয়ে
বললো তুমি ভুল বুঝছো..... সাথে সাথে এক ঝটকায় তিন্নি সৃজিত কে সরিয়ে
দিয়ে বলল তোমাকে আর কোনো রকম বিরক্ত না করে আমি তুতুন কে নিয়ে চলে যাচ্ছি, , আবার সৃজিত তিন্নির হাত টা ধরতে গেলে হাত সারিয়ে তিন্নি তুতুনকে আঁকড়ে ফুপিয়ে উঠলো, মায়ের জড়িয়ে ধরায় পাঁচ বছরের তুতুনের
ঘুম ভেঙে গেল আর সাথে সাথে ওই কথাগুলো বলতে বলতে তিন্নি পাশের ঘরে গিয়ে ধড়াম করে দরজা ছিটকিনি তুলে দিল তারপর জামা কাপড় গুছিয়ে নিয়ে তুতুনের হাত ধরে টানতে টানতে বাড়ির মেন দরজা খুলে
বেরিয়ে গেল সৃজিত বার বার ডাকা স্বত্বেও আর পিছন ফিরে তাকাতে তিন্নির ইচ্ছা হল না... শুধু মনে মনে
বলল ভালবাসা বলে পৃথিবীতে আসলে কিছু নেই।
No comments:
Post a Comment