Wednesday, 10 June 2020

প্রথম চিঠি

----------------------------
প্রথম তোমায় আজ লিখতে বসেছি,  কলম আর 
আমি ভীষণ রকম অস্থির সাদা কাগজে ঠিক 
কোন কথাটুকু    প্রথম পরিবেশন করবো বুঝে 
উঠতেই  খেই হারাচ্ছি,   আমার যে কোনো কালেই
কাগজে কলমে তেমন সখ্যতা নেই সে তো তোমার অজানা নয়, 
অথচ তোমার  সামনে বসে অনর্গল হাবিজাবি শব্দ বুনতে 
আমাকে মুহুর্ত ভাবতে হয়নি কোনো দিন, 
ঘরের ভেতোর  দেরাজ বন্দি আমার শব্দরা তোমাতে 
আকাশ খুঁজে নিজেদের সাবলীল ভাবে হারাতেই
খুশি চিরকাল, 
তোমার আমার থেকে বিভুঁই হওয়া আজ ছয় মাস দশ দিন 
আট ঘন্টা হল,  প্রথম তিন দিন পর টেলিফোনে জানিয়ে
ছিলে ভালো ভাবেই পৌছেছো , সব গুছিয়ে নিতে কিছু
দিন সময় লাগবে...... তাই কিছু দিন সময় চেয়ে নিয়েছিলে, 
তোমার নতুন শহর নতুন কর্মকান্ডের সাতসতেরো শুনব
বলে রোজ সময় গুনেছি  বিয়োগ ফলে,  
আঠেরো দিন পর তোমার গলা  আবার দ্বিতীয় বার 
আমায় স্পর্শ করলো... বললে  কাজের চাপ নাকি খুব 
অনেক রাতে বাড়ি ফেরো, চিঠিতে বিস্তারিত লিখবে 
ভেবেও সময়ে কুলোতে পারোনি,   আমি যেন না ভুল
বুঝি ,  কোন টেলিফোন  নাম্বার এই মুহুর্তে তুমি দিতে পারছো না, 
কারন নিজস্ব টেলিফোন এখনো আসেনি,,  বরং আমায়
একটা ঠিকানা লিখে নিতে বললে আর সেই ঠিকানায় চিঠি 
লিখতে বললে,.... তোমার গলার শব্দরা  সেদিন
.ব্যাকুল তিস্তার মত বাঁধ  ভেঙে ছিল আমার ঘরকন্নার,
অথচ তোমায় বললাম..... আমায় নিয়ে ভেবো না তুমি
মন দিয়ে কাজ করো নতুন যব তোমার,  আমি তো আছি, 
নিজের যত্ন নিও ,  আমি ভালই আছি,,  আর কিছু বলতে
পারিনি আমার শব্দরা অদ্ভুত আড়ষ্টতা  আমার তুমি কে
হাতড়ে বেড়াচ্ছিল।  
আজ এত গুলো দিন কাল মাস পার হয়ে গেল,  মনে
হল তোমার ব্যাস্ততায় আমি হয়তো বাড়তি হয়ে উপচে
কোথায় ভেসে  গেছি ।  মন কে অনেক বার বুঝিয়েছি
তোমার ব্যাস্ততার কথা,  এই কয়েক মাসে তোমাদের 
বাড়িও গেছি বার দশেক,  তোমার মা৷ বাবা ভালই আছেন
তোমার বৌদিকে তোমার কথা জিগ্যেস করতেই বললেন
তুমি একদিন ছাড়া ছাড়াই বাড়িতে টেলিফোন করে সকলের
সাথে কথা বলো ,  ভালই আছো নতুন পরিবেশে,   
অফিসে  উইকেন্ডে ছুটিও পাও
সেই ছুটির দিন গুলো তুমি বেলা পর্জন্ত ঘুম সেরে  নতুন 
বন্ধুদের সাথে সময় কাটাও, কখনো তোমার বাড়িতে আসে 
বন্ধুরা কখনো তুমি যাও,।   
সে দিন বাড়ি ফিরে বুকের ভেতোরটা হঠাৎ খাঁ খাঁ করতে
থাকলো ,  খানিক পরে  বৃষ্টি নেমেছিল 
চিলেকোঠার ছাদে আমার একার জন্যে আঝোর ধারায় বৃষ্টি,  
ভিজেছিলাম ঘন্টা দুয়েকর বেশি,  পরের দিন থেকে ধুম জ্বর 
টানা এক সপ্তাহ চোখ খুলতে পারিনি জান জ্বরের ঘোরে 
ভুল বকেছি সারাটা সময়,  মা বলছিলেন ডক্টর  জ্বরের 
তেমন কোন কারন খুঁজে পায় নি,  বাবা কিছু একটা আন্দাজ
করতে পেরেছিলেন একটু সুস্থ হতেই  মা কে বললেন আমারা
কিছুদিন আমাদের কার্শিয়াং এর বাড়িতে থাকতে  যাব, 
 প্রিয়তোষ   নিজের শহর ছেড়েছি আজ তিন মাসের বেশি 
তোমায় এক মুহূর্ত ছাড়তে পারিনি, মনকে বুঝিয়েছি সত্যি তুমি 
ব্যাস্ত   সময় পেলে নিশ্চয়ই খবর দেবে আর আমার খবর নেবে, 
কার্শিয়াং আসার আগে তোমার বৌদির কাছে এখানের ঠিকানা
 দিয়ে এসেছিলাম  আর এখানে আসার পর তোমাদের বাড়িতে টেলিফোন
করে তোমার বৌদিকে এখানের টেলিফোন নাম্বারটাও দিয়ে রেখেছিলাম, 
কয়েক দিন আগে ফোন করেছিলাম তোমাদের বাড়িতে সকলের
খবর নিয়ে তোমার কথা জানতে চাইলাম তোমার বৌদির কাছে 
, আমায় বললেন তোমায় নাকি আমার টেলিফোন নাম্বার আর ঠিকানা
দুটোই  জানিয়েছে বহুদিন আগেই,  
আজ মন আর আমার কথা শুনলো না প্রিয়তোষ,  তোমার ঠিকানায় 
আমার প্রথম শব্দদের অধিবাস আজ,  কাগজে কলমে তোমায়
এত অচেনা লাগছে কেন? .... কি লেখা উচিৎ আর কি নয়! 
ভেবে কুল করতেই দিন শেষ,  
আসলে এমন করে তোমায় কখনো যে চিঠি
লিখতে হবে জানতাম কই,   যাইহোক সময়ের
অবসরে সময় যদি পাও দু এক কথা লিখো 
কিংবা কয়েক টুকরো গলার আওয়াজ পাঠিও টেলিফোনে,  
আজ রাখি..... ভাল থেক সবসময় প্রিয়তোষ। 
.........ইতি তোমার  বাসন্তিকা ,                                
                 
            

No comments:

Post a Comment