------------------------------------------------
অরুন যা কিছু কখনো তিয়ার জন্যে করেনি তার সবকিছু কিংবা তার থেকে অনেক বেশি এখন স্নেহার জন্যে করে, বেড়াতে নিয়ে যাওয়া , জন্মদিনে ভালো উপহার,বিবাহবার্ষিকীতে অবাক করা উপহার, চাহিদামত সব কিছু,,
বই পড়তে স্নেহাও ভালোবাসে, তাই অরুন বাড়িতে একটা লাইব্রেরী করে দিয়েছে স্নেহার জন্যে।
অরুন স্নেহার মুখে হাসি দেখতে পায় খুব কম, কিছুতেই খুশি করতে পারেনি অরুন, খুশি খুব কম সময়ের জন্যে হলেও বেশির ভাগ সময় আকাশ ছোঁয়া চাহিদায় অরুন জেরবার।
তিন্নি দাদার মুখ দেখে বুঝতে পারে, বুঝতে পারে তিয়া আর স্নেহার তফাৎ টা, তিয়ার মধ্যে যতবেশি স্নেহ মমতা, আদোর ভালোবাসা, যত্ন, স্নেহার স্বভাবে এসব খুব কম প্রায় নেই বললেই চলে, অরুন কোহিনুর হারিয়েছে হেলায় সেটা এখন মর্মে মর্মে বুঝলেও কিছুই করার নেই সেটা তিন্নি বোঝে।
ফেব্রুয়ারিতে তিয়ার বাড়ি গিয়েছিল তিন্নি দীপ্তর আর মোহোর সাথে ছিল, মোহোর দীপ্তর মাসতুতো বোন সবে গ্রেজুয়েসন কমপ্লিট করে এম.এ.ভর্তি হয়েছে, ওরা একদিন ছিল পাহাড় দেখার সাধে, আসলে তিয়ার সাথে সময় কাটাতে চেয়েছিল তিন্নি, আর মোহোর আগেও এসেছে এই পাহাড় মোহোরের ভীষণ পছন্দ , আর একজন মানুষ যার টানে মোহোর এই পাহাড়ে আসে সে হল সমু /সৌম্যদেব, কি সুন্দর ব্যবহার কি সুন্দর কথাবার্তা।
সমুও তিদিদিকে কখনো কিছু লুকোয়নি তাই সমুর যে মোহোরকে ভালো লাগে সেটা তিদিদি জানে, তিদিদি তাই মোহোর এলে সমুকে মোহোরকে সাথে নিয়ে বেড়াতে যেতে বলে,
তিয়া চায় সমু মনের মত একজন সংগি পেয়ে যাক, সমুর জন্যে এটাই হয়তো তিয়াসার শেষ দায়িত্ব, তিন্নি আর দীপ্ত এই সম্পর্কটা সমর্থন করে, দীপ্ত তো সবচেয়ে খুশি যে সমুর মধ্যে তিয়াসা দেবরায়ের সংস্কার এটা অনেক বেশি পাওয়া। অরুন শুনেছে এই সম্পর্কের কথা, কোনো মতামত জানায়নি, স্নেহাও জানে, সেও এই বিষয়ে কিছু বলেনা।
শুধু তিয়াসার মনে একটা উচাটন সে আর কখনো অরুনের মুখোমুখি হতে চায়না, আর এই সমু আর মোহোরের সম্পর্কের পরিণতিতে অরুনএর সামনে কি তিয়াসাকে আসতে হবে!
তিয়াসার সাথে তিন্নির এখন একটা মিস্টি সম্পর্ক, তিন্নি বার বার নিজের বাড়ি নিয়ে যেতে চেয়েছে তিয়াসাকে, প্রত্যেক বার কোনো না কোনো অজুহাতে এড়িয়ে গেছে । ইমলী এখন তিয়ার কাছেই থাকে, মালতী দি মারা গেছে একবছরের বেশি , মাতাল বাবার কাছে ইমলী থাকতে চায়নি, তিদিদি তার মাতাল বাবার থেকে অনেক বেশি ভরসার, আর তিয়াসা তো নিজের জীবন সমু, ইমলী, আর 'অবসর ', এর উপাসনা বিলিয়ে দিয়েছে।
নিজের ভালোবাসায় সিঞ্চিত ঘর সংসার স্বামী, সাজানো স্বপ্নগুলো সব মৃতুর দেশে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিল, আজ কাল সেই স্বপ্নর ছায়া সমু মোহোর আর ইমলী কে ঘিরে থাকে। আর জীবনের কাছে একটা অভিমান কেবল, কেনো অরুনের মত একজন তিয়াসার জীবনে এসেছিল, কেনো কতগুলো বছর ভুল কিছু অপেক্ষা আর ধারনায় চলে গেলো। এই অভিমান এক এক সময় রাতের বেলা সিলিং ফুঁড়ে আকাশ ছুঁয়ে যায়, আর তখনি মাথায় অসম্ভব ব্যেথা হতে থাকে...... ডক্টর বলেছে চাপ না নিতে মাথায়, ব্রেনটিউমার জানান দিয়েছে আজ বছর পাঁচেক আগেই, ওষুধ চলছে.....সমুকে কারো হাতে গচ্ছিত না করে তিয়াসা অপারেশন করতে চায় না কারন ডক্টর বলেছেন কিছুই সেভাবে বলা যায়না এই ব্রেনটিউমার অপারেশনএর ফল কি হবে, তাই তিয়াসা জেনেশুনে রিক্স নিতে চায়নি। সমুকে বলেছে ক্রনিক মাইগ্রেন পেন, সমুটা বড্ড চিন্তা করে, কাজের চাপ মাঝে মাঝেই বাইরে যেতে হয় তারপর আবার যদি ওর তিদিদির চিন্তা করে তাহলে ছেলেটা এগোবে কি করে,
তাই তিয়াসা দাঁতে দাঁত চেপে রয়েছে আর বছর দুয়েক ভগবান যেন সব ঠিক রাখে তিয়াসা শুধু এই প্রার্থনা করে। সমুর এক একটা এউ এস এ সেমিনার আর প্রমোশন, আর ইমলীর জন্যে একটা ভালো পাত্র, এইটুকুই আর তিয়াসা দেবরায়ের একটা লম্বা ছুটি মঞ্জুর।
Monday, 17 April 2017
কৃষ্ণচুড়া(৬)
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment