Friday, 7 April 2017

কৃষ্ণচূড়া(৫)

----------------------------------------
-----------
সমু অফিস থেকে ফেরার পথে  সোজা তিদিদির অফিস হয়ে তিদিদিকে 'অবসর' এ
নামিয়ে দিয়ে বাড়ি ফেরে।  আজ তিদিদির একটু দেরী হবে অফিস থেকে বেরোতে,
দীপ্ত রায় এসেছে, ক্লায়েন্ট মিটিং চলছে,  অন্যদের কথা জানে না সমু তবে এই দীপ্ত রায়ের মিটিং অন্য মিটিং এর থেকে একটু বেশী সময় লাগে, সমু অনেক দিন এই অফিস এ আসে তিদিদিকে নিতে, তাই সকলে চেনে সমু বা সৌম্যদেব ঘোষ কে,  তাই বিনা বাধায় সে তিদিদির কনফারেন্স রুমে চলে যায়  আর এক কোনায় অপেক্ষা করে তিদিদির একটা হাসিমাখা চাহনির, আর ইশারায় জানানো এক্ষুনি কাজ শেষ করছি।
এই দীপ্ত রায় এলেই তিদিদি কাজের কথা ছাড়াও অন্য নানান কথা আলোচনা করে, সেগুলো আগে সমু বুঝতো না,  একদিন তিদিদি সমুকে এই দীপ্ত রায় কে কিসের টানে দীপ্ত রায়ের সাথে অন্য কিছু মানুষ এর খোঁজ খবর নেয়, সে সব খুলে বলেছে,
সমু একবার জানতে চেয়েছিল তিদিদির কি অরুন আর সংসার ছেড়ে আসায় কোনো আফসোস কাজ করে,  তিয়াসা দেবরায়  সৌম্যদেব ঘোষ কে উত্তর দিয়েছিল...... আফসোস অরুন বা সংসারের জন্য কিছু নেই, তবে  একটা প্রশ্ন কুড়ে কুড়ে খায় যে তিয়াসা এতো মানুষ চিনতে ভুল কি কিরে করেছিল, ভালোবাসা কি এতোটাই অন্ধ  যে মানুষ চেনা যায়  না।
অরুন কি আদেও তিয়াকে ভালোবেসেছিল?  একান্তের সব মুহুর্তগুলো কি একেবারেই মিথ্যে ছিল, অরুনের কি এক মুহুর্ত সেসব দিন মনে পড়েনা! অথচ তিয়ার বুকের দেরাজে সব ছবি ঝক ঝক করছে কখনো একমুহুর্ত ধুলো পড়তে দেয়নি  অরুনের সংগে কাটানো সময়গুলোকে, আর সে ভুলতেও চায়নি কক্ষনো ,   সেখানে সেপারেশন এর এক বছরের মধ্যেই অরুন দ্বিতীয় বিয়ে করেছিল এখন তার এক মেয়ে ক্লাস টুয়েলভে পড়ে।  এসব দীপ্ত রায়ের সাথে পরিচয়ের অনেক পরে তিয়া জানতে পেরেছে, সমু কে তিদিদি কখনো কিছু লুকোয়নি তাই সে সবটুকু জানে।
দীপ্ত রায় বছর খানেক পুরোনো হবার পর নিজের নতুন আর একটা অফিসে ইন্টিরিয়র এর জন্যে তিয়াসা দেবরায়কে জামশেদপুর ডেকেছিল, সেই অফিসেই তিন্নি তিয়াকে দেখে আর অবাক হয়ে যায় তারপর জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করে এসব দেখে দীপ্ত রায়এর  আকাশ থেকে পড়ার মতো অবস্থা হয়েছিল,  এরপর সব কিছু খুলে বলে ছিল তিন্নিই,  তিয়াসা দেবরায় মাথা নিচু করে চুপ ছিল, দীপ্ত শুধু অবাক হয়ে বলেছিল অরুনদার কি হৃদয় বলে কিছু নেই,  আর সেই সংগে তিন্নি বার বার তিয়ার কাছে ক্ষমা চাইছিল,  একদিন বিনিসুতোর মালায় যে সংসার গাঁথা ছিল  অরুনের দ্বিতীয় বিয়ের পর তিন্নির বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই সেই মালা ছিঁড়ে গেছে।  তিন্নি জানায় অরুনের দ্বিতীয় বৌ কিছুদিন একসাথে থাকার পর ওরা আলাদা ফ্ল্যাট এ চলে যায়,   ছোটদা বৌদিও অন্য জায়গায় চাকরী সুত্রে,   আর বাবা মা বাড়িতে থাকে কাজের লোক দেখাশোনা করে উনাদের। তিন্নি আফসোস করে বলেছিল সে কি করে তিয়া কে এত আঘাত করেছিল, এসব তিন্নি  তিয়া বাড়ি ছাড়ার পর পরই বুঝেছিল, যে তিয়া বৌদির মত তাকে তার মা পর্যন্ত এত যত্ন করে রাখেনি। তাই তার ভুলের ক্ষমা বার বার চেয়েছে তিয়ার কাছে।
এর পর দীপ্ত রায় যত বার দার্জিলিংএ তিয়াসা দেবরায়ের অফিসে এসেছে প্রায়ই তিন্নি এসেছে,  এখন তিন্নি তিয়াদি বলে ডাকে,  আর দীপ্ত রায় শুধু দিদি,   তিয়াসা দেবরায় কে দীপ্তর বেশ অন্যরকম লাগতো প্রথম দিকে এক তেজস্বিনী মহিলা গম্ভীর কম কথার মানুষ, অথচ একটা অদ্ভুত আকর্ষণ আছে, না চাইতেও যেন তিয়াসা দেবরায়ের সংগ ভালো লাগতো,   এরপর সময়ের সাথে সাথে যখন সম্পর্কের সুত্র খুঁজে পেল তখন দীপ্তর কাছে এসব কিছুর সাথে অসম্ভব সম্মান বেড়ে গেছে তিয়াসা দেবরায়ের।  এখন দীপ্তর মিটিং শেষ হলে তিয়াসা দেবরায় বাড়ির সকলের,  মানে অরুনের মা বাবার খবর নিতে ভোলেনা  আর বাকি খবর দীপ্ত নিজেই দিতে থাকে তাই তিয়াসা দেব রায় ওবাড়ির সব খবরের আপডেট পেয়ে যায়।
অরুন জানে যে দীপ্ত তিন্নির তিয়ার সাথে যোগাযোগ আছে। অথচ কখনো তিয়ার কথা তিন্নি বা দীপ্ত কারো কাছে তোলে না। যেন অরুনের জীবনে তিয়া বলে কেউ ছিলো না কখনওই। 
তিয়াসা দেবরায় ও চায় না অরুন কখনো ওর সামনাসামনি হোক, তবে ভুলতে চায় না তিয়া।  আর তাই তিয়ার মনের যে ঘরে অরুন ছিল সেই ঘরে আর কাউকে কখনওই দোড়গোড়া মাড়াতে দেয়নি,  এসেছিল অনেক মানুষ তিয়ার ঘরের তালা আর কখনো খোলেনি কারো জন্য।

No comments:

Post a Comment