---------------------------------------------------------
অরুন সে দিন তিয়াসার সাথে তেমন কিছু কথা বলতে পারেনি, কেবল কিছু সৌজন্যমূলক কথাবার্তা আর অবাক হয়েছিল তিয়াসার এত বড় কর্মকাণ্ড ভেবে.... সমু, ইমলী, অবসর, লেখা, আর নিজের মত একটুকরো বাড়ী, কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা নেই সবটুকু গোছানো।
অথচ তিয়াসারর সাথে অরুন শেষ পর্যন্ত সংসারটা করে উঠতে পারলো না, তিয়াসার এই রূপের পরিচয় অরুন সেইদিনও পেয়েছিল, কিন্তু বড্ড অসহ্য লাগতো তিয়াসার এই বড় বেশি ভালো মানুষী আর এই মহান মহান ভাবটাকে, নিজেকে ওর পাশে বড্ড ছোট মনে হত। ওর সহ্য ক্ষমতাকে ঈর্ষা হত, আর সেখান থেকে মনে হত তিয়াসা সরে যাক, অবঞ্জা আর অবহেলায় তিয়াকে বাধ্য করেছিল অরুন দূরে সরতে, পরে বহু বার মনে হয়েছে তিয়াসা অভাব কিন্তু নিজের পুরুষ স্বত্বার অহংবোধ নিজেকে তিয়াসার কাছে মাথা নিচু করতে দেয়নি, তিয়াসাকে ভুলতে চেয়ে তড়িঘড়ি স্নেহার সাথে বিয়ে করে নিজেকে ব্যেস্ত করে ফেলেছিল অরুন, কিন্তু তিয়াসার অভাব অন্য কেউ মেটাতে পারেনি অরুনের জীবনে।
তিন্নি যখন তিয়াসারর খোঁজ পেয়েছিল দাদাকে জানিয়েছিল, অরুন স্থির ছিল নিজের সিদ্ধান্তে তাই তিন্নিও চুপ করে গেছলো আর কখনো কিছু চেষ্টা করেনি শুধু নিজকে তিয়াসার কাছাকাছি রেখেছে সবসময়, তিয়াসাও তিন্নিকে স্নেহে আদোরে ভালোবাসায় টেনে নিয়েছিল কাছে। তিন্নি তিয়াসার এই সমু আর ইমলীকে যত্ন করে কাছে টেনে নেওয়াটাকেও সম্মান জানিয়েছ বরাবর।
সমু তিদিদির সামনে বসে থাকতে পারছে না, অসম্ভব চোখ জ্বলছে তিদিদির দৃড় ব্যক্তিত্ব এই সমুর দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা, সারাবাড়ির একটা কোনাও সমুকে একা থাকতে দিচ্ছে না তিদিদি,
বাড়ির সকলকে সমুর বাড়তি মনে হচ্ছে,, ইমলী, উজান, মোহোর কাউকে সহ্য হচ্ছে না, মনে হচ্ছে তিদিদি শুধুই সমুর....... এরা সকলে কেন তিদিদি আর সমুকে একা এই বাড়িটাই এই পাহাড়ের মাঝে ছেড়ে দিচ্ছে না?
আর একটা প্রশ্ন তিদিদি তার সমুকে সব কথা বলেছে সবদিন তবে কেন এই এত্তবড় কথাটা এত্তদিন বলেনি, নাকি সমু তিদিদির ততটা ছিল না, তিদিদির আত্মজ নয় সমু....., না এই ভাবনা তিদিদির সাথে মানায়না, ভাবাটাও পাপ,,
তবে কেন তিদিদি এতপরে বলল তার মাথাব্যেথার কারন আর সেটাও জানতে পারতো না সমু যদি না তিদিদি সেদিন হঠাত সেন্সলেশ হয়ে না যেত,, আর তখন থেকেই সমুর জগতে বিস্ময়ের ঘন মেঘে ঢেকে যায়।
ডক্টর সাথে সাথে অপারেটর করার কথা বলে সমু রাজি হয়ে গিয়েও থমকে গেছিলো ডক্টর যখন বন্ড সই করতে বলেছিল , কিন্তু উপায় ছিল না, চুক্তিনামায় সই করিয়ে তিদিদি সমুর কাছ থেকে ট্রলি করে অপারেশন থিয়েটার এর দিকে অদৃশ্য হয়ে গেছলো। তারপর তিদিদির ঘুম ভাঙেনি চোখ খুলে সমু, ইমলীকে দেখতে চায়নি,
পৃথিবীর বুক ফেটে একটা আগুন আকাশ পথে ধোঁয়া হয়ে গেছে আর পাহাড়ের আকাশে অবিশ্রান্ত কান্না ঝরছিল। সমু কাউকে তিদিদির খবর দিতে পারেনি, মোহোর এই কঠিন কাজটা সমুর হয়ে করেছিল।
সবার কাছে সময়ের ধুলোয় হয়তো তিয়াসা দেবরায় ক্রমশ আবছা হয়ে যাবে একদিন নিয়ম মেনে,
শুধু সমুর মননের চিন্তনের হৃদয়ের জমির একমাত্র মালিকানা ওর সবটুকু অস্তিত্ব জুড়ে থাকা তিদিদি, আর তিদিদি তার সর্বস্বটুকু সমুকে দিয়ে এক অনন্ত যাত্রার পথে এগিয়ে গেছে।
......... সমাপ্ত
Wednesday, 19 April 2017
কৃষ্ণচুড়া(৮) -----------------------------------
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment